
অন্তত ২০০ কোটি মানুষের প্রাণহানী ঘটতে পারে, যদি পরমাণু যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে দুই প্রতিবেশি পাকিস্তান ও ভারত। এমন আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের। কাশ্মিরের উরিতে ১৭জন ভারতীয় সেনার মৃত্যুর ঘটনার পর দুই প্রতিবেশি দেশের বিরাজ করছে চরম উত্তেজনা। যে কোনো মুহূর্তে বড় ধরনের বিপর্যয়ের শঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ভারত ও পাকিস্তান; দুটি দেশই পরমাণু শক্তির অধিকারী। ফলে তারা যদি আসলেই পরমাণু যুদ্ধের মতো ধ্বংসাত্মক যুদ্ধে নামে, তবে সারা পৃথিবীতে পড়বে এর প্রভাব। ধ্বংস হয়ে যাবে বহু শস্যক্ষেত্র। মহাবিপর্যয়ের মুখে পড়ে যাবে মানব সভ্যতা।
নোবেল পুরস্কারজয়ী ইন্টারন্যাশনাল ফিজিশিয়ানস ফর দ্য প্রিভেনশন অব নিউক্লিয়ার ওয়্যার এবং ফিজিশিয়ানস ফর সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি নামে দুটি সংগঠন পাকিস্তান- ভারতের সম্ভাব্য পরমাণু যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে দুই বছর আগে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেই প্রতিবেদনেই ভয়াবহ সব ক্ষতির আশঙ্কা করা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তান- ভারত কোনো যুদ্ধে জড়ালে তার একটা বড় প্রভাব থাকতে পারে চীনের। সে ক্ষেত্রে এই যুদ্ধে প্রাণহানী ঘটবে অন্তত ২০০ কোটি মানুষের। পরমাণু যুদ্ধের ভয়াবহতা ছড়িয়ে পড়বে সুদূর আমেরিকাতেও। সেখানেও অন্তত এক দশক ফসলি জমিতে ১০ শতাংশ কম উৎপাদন হবে।
১৯৪৫ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপানের হিরোসিমা ও নাগাসাকিতে পরমাণু বোমা নিক্ষেপ করে আমেরিকা। তাতে দুই লাখ মানুষের মৃত্যু হয়। সুদীর্ঘ সময়ের জন্য ধ্বংস হয়ে যায় এই দুই শহরের মানব সভ্যতা। যার প্রভাব এখনো পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে পারেনি জাপান।
তবে তখনকার তুলনার বর্তমান পরমাণু বোমা আরো বেশি ভয়ঙ্কর। এখন কোনো দেশে যদি পরমাণু হামলা হয়, তবে তা মানবসভ্যতার পুরোপুরি বিনাশের পথ উন্মুক্ত করে দিবে। ১৯৪৭ সালের দেশ বিভাগের পর থেকে এখন পর্যন্ত তিনবার কাশ্মির নিয়ে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে ভারত ও পাকিস্তান। একই কারণে নতুন করে বিবাদে জড়িয়ে পড়েছে দেশ দুটি।




