
প্রায় ২০ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে পাকিস্তানের সামরিক বাজেট। এ বাজেট বৃদ্ধির ঘটনা ঘটলো যখন আমেরিকা থেকে সামরিক সরঞ্জামাদি ক্রয় কমিয়ে দিয়েছে দেশটি। আর এ বৃদ্ধি নওয়াজ শরিফের দল পাকিস্তান মুসলিম লীগের (নওয়াজ) বর্তমান শাসনামলের মধ্যে সর্বোচ্চ। খবর দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের।
আবার পিএমএল-এন সরকার ও দেশটির সেনাবাহিনীর মধ্যকার অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে এ বৃদ্ধিকে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। গত জুলাইয়ে নওয়াজ শরিফকে দেশটির প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অযোগ্য ঘোষণার পর থেকে এ রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা তৈরি হয়েছে।
নওয়াজ শরিফকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অযোগ্য ঘোষণা করার পর দলীয় প্রধানের পদ থেকে অযোগ্য ঘোষণা করে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট। বহুল আলোচিত পানামা পেপার কেলেঙ্কারিতে তার নাম জড়িয়ে যাওয়ায় আদালতের এ আদেশ আসে। সবশেষ গত ২৬ এপ্রিল নওয়াজ শরিফের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সহচর পররাষ্ট্রমন্ত্রী খাজা আসিফ মহিউদ্দিনকে এমপি পদে অযোগ্য ঘোষণা করেছেন পাকিস্তানের ইসলামাবাদ হাইকোর্ট। তার নামে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ওয়ার্ক পারমিট (যা ইকামা নামে পরিচিত) থাকায় সংবিধানের ৬২ অনুচ্ছেদের একটি ধারার আওতায় এ রায় দেয়া হয়।
পাকিস্তানের ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল পিএমএল-এনের হাই প্রোফাইল রাজনীতিক হিসেবে মনে করা হয় তাকে। এমনকি নওয়াজ পদচ্যুত হওয়ার পর তার বিকল্প হিসেবে যে কয়েকজনের নাম উঠে এসেছিল সেই তালিকায়ও ছিলেন খাজা আসিফ।
সামরিক বাহিনীর সাথে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরের জন্য ১.১ ট্রিলিয়ন রুপির সামরিক বাজেট ঘোষণা করলো পিএমএল-এন সরকার। যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ১৯.৬ শতাংশ বেশি। টাকার অঙ্কে বৃদ্ধি হয়েছে ১৮০ বিলিয়ন রুপি। আর এর মাধ্যমেই পাকিস্তানের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সামরিক বাজেট এক ট্রিলিয়ন ছাড়ালো।
২০১৩-১৪ অর্থবছরে সামরিক খাতে পাকিস্তানের বরাদ্দ ছিল ৬০০ বিলিয়ন ডলার। সে তুলনায় গত পাঁচ বছর পর এবার শতকরা ৮৪ ভাগ বরাদ্দ বেড়েছে। মোট বরাদ্দের মধ্যে পাক সেনাবাহিনী পাচ্ছে শতকরা ৪৭ ভাগ, বিমান বাহিনীর জন্য বরাদ্দ ২০ ভাগ এবং নৌবাহিনীর জন্য শতকরা ১০ ভাগ থাকবে। বাকি অর্থ প্রতিরক্ষা বিভাগের কোন খাতে ব্যয় হবে তা পরিষ্কার নয়। পাকিস্তানের সামরিক বাজেট বাড়লেও এ নিয়ে সংসদে উন্মুক্ত কোনো আলোচনা হয় না বরং অনেকটাই গোপনীয়তা বজায় রাখা হয়।
বিভিন্ন উগ্রবাদী গোষ্ঠীকে নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি পাকিস্তানের সামরিক বাজেটের একটা বড় অংশ ব্যয় হয় প্রতিবেশী দেশ ভারতকে মোকাবিলায়। পারমাণবিক শক্তিধর এই দুই দেশের মধ্যে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে উত্তেজনা বেড়েছে। বিরোধপূর্ণ কাশ্মীরে দু’দেশের সীমান্ত রেখা বরাবর প্রায়ই ছোটখাট যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ছে দেশ দু’টি।
এ বছরেরই শুরুতে ভারতও তাদের সামরিক বাজেট আট শতাংশ বাড়িয়েছে। ভারতের সামরিক বাজেট পাকিস্তানের সামরিক ব্যয়ের প্রায় ছয় গুণ।




