তপন দাস, নীলফামারী: ডোমার উপজেলার নীলাহাটিতে দেহব্যবসাকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে মারধরের ঘটনায় শ্যামল শর্মা (৩৮) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় শাহনাজ বেগম (৩০) ও আব্দুর রশীদ (৪৫) নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) দিবাগত রাতে উপজেলার নীলাহাটি শ্মশানঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
নিহত শ্যামল শর্মা ডোমার উপজেলার হরিণচড়া ইউনিয়নের শুসেন শীলের ছেলে। গ্রেপ্তার শাহনাজ বেগম রাজশাহী জেলার রাজপাড়া থানার লক্ষ্মীপুর গ্রামের মৃত রমজান আলীর স্ত্রী। অপর গ্রেপ্তার আব্দুর রশীদ ডোমার উপজেলার হরিণচড়া ইউনিয়নের শালমারা শেওটগাড়ী এলাকার মৃত মকবুল হোসেনের ছেলে।
স্থানীয়দের দাবি, দেহব্যবসাকে কেন্দ্র করে কয়েকজনের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত হয়। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন রাতে আব্দুর রশীদসহ কয়েকজন রাজশাহী থেকে শাহনাজ বেগমকে ওই এলাকায় নিয়ে আসেন। পরে তাঁরা নীলাহাটি শ্মশানঘাট এলাকায় যান।
স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র ওই এলাকায় নারীদের নিয়ে এসে দেহব্যবসায় জড়িত। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
নিহতের ভাই কৃষ্ণ শর্মার অভিযোগ, ঘটনার রাতে শ্যামল ও হাফিজ নামে দুজন তাঁর বড় ভাই শ্যামল শর্মাকে ফোন করে নীলাহাটি শ্মশানঘাট এলাকায় ডেকে নেন। সেখানে যাওয়ার পর তাঁর ভাই কয়েকজনের সঙ্গে বাক্বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন।
একপর্যায়ে আব্দুর রশীদ, শ্যামল, হাফিজসহ কয়েকজন তাঁর ভাইকে মারধর করেন বলে অভিযোগ করেন কৃষ্ণ শর্মা। এতে শ্যামল শর্মা অচেতন হয়ে পড়েন।
কৃষ্ণ শর্মা জানান, শাহজাহান নামে এক ব্যক্তির মোবাইল ফোন থেকে বাড়িতে খবর দেওয়া হলে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। সেখানে গিয়ে তাঁরা শ্যামল শর্মার নাভির নিচের অংশ থেকে রক্তক্ষরণ হতে দেখেন।
পরে তাঁকে উদ্ধার করে নীলফামারী সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। কী কারণে তাঁর শরীরে রক্তক্ষরণ হয়েছিল, তা তদন্তসাপেক্ষ।
ডোমার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফেরদৌস আলম সরকার শ্যামল শর্মার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, এ ঘটনায় শাহনাজ বেগম ও আব্দুর রশীদ নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার বিস্তারিত জানতে তদন্ত চলছে। পাশাপাশি এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা করা হচ্ছে।
ওসি আরও জানান, গ্রেপ্তার দুজনকে মঙ্গলবার দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
দেহব্যবসাকে কেন্দ্র করে বিরোধ, মারধরের অভিযোগ এবং একজনের মৃত্যুর এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ, হত্যাকাণ্ডে প্রত্যেকের ভূমিকা এবং সংশ্লিষ্ট অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে।