Uncategorized

নিরাময় ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভুল রির্পোট দিয়ে রোগীদের হয়রানী ও টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

শাহিন আলম, গোবিন্দগঞ্জ প্রতিনিধিঃ গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে ৫০ শষ্যা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান ফটকের কাছেই (২০ থেকে ১০০ গজের মধ্যে) নিরাময় ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও অনেক ডায়াগনস্টিক, ক্লিনিক গড়ে উঠেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তা ব্যক্তিদের ম্যানেজ করে এসব ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিক চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের এমটিতে (ল্যাব) নানা ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে হাতুড়ে ব্যক্তিদের দিয়ে।নিরাময় ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরিবেশ অধিদফতরের কোনো সনদ নেই। এই ক্লিনিকে কয়েক মাস পূর্বে এক প্রসূতি মা ভুল চিকিৎসায় মারা যায় । এই ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এমটি (ল্যাব),এক্সরে, আলট্রাসনো ও রক্ত পরীক্ষা করার কাজ চলছে। গত কয়েক দিন পূর্বে কামারদহ ইউনিয়নের সতীতলা গ্রামের আতাউর রহমানের ছেলে তাহিদুল ইসলাম(২৯) কানের সমস্যা নিয়ে এই ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আসলে, কানের এক্স-রে ও রক্ত পরিক্ষা করা হয়। পরীক্ষা নিরীক্ষা শেষে ৭ দিনের ঔষধ দিয়ে জরুরী কানের অপারেশন লাগবে বলা হয় রোগীকে।৭ দিনের ঔষধ সেবনের পর পুনরায় ক্লিনিকে আসলে বলা হয় অবশ্যই আপনার কানের অপারেশন লাগবে। ইহাতে সন্তুষ্ট না হইয়া বগুড়া শজিমেক নিলে যথারীতি পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানায় আপনার আপারেশন করা লাগবে না। ফলে রোগী ঐ ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসান বরাবর অভিযোগ দায়ের করে।এ সব ডায়াগানষ্টিকে পরমাণু শক্তি কমিশনের সনদ ছাড়াই হরদমে চলছে এক্সরের কাজ। এই ডায়াগনস্টিক সেন্টারে মনগড়া রিপোর্ট ধরিয়ে দিয়ে হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে হাজার হাজার টাকা আর চরম ভোগান্তির স্বীকার হচ্ছে সাধারণ মানুষ দেখা যাচ্ছে সঠিক রোগের কোনও চিকিৎসা হচ্ছে না। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভুয়া রিপোর্টের কারণে অনাকাঙ্খিত ঘটনাও ঘটছে প্রতিনিয়ত। ডায়াগনস্টিক সেন্টার এর মূল পুঁজি হচ্ছে বড় বড় সাইনবোর্ড আর নামকরা সব ডাক্তারের নাম ঝুলিয়ে আকৃষ্ট করা। স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে একটি নির্দিষ্ট রেট বেঁধে দেয়া থাকলেও সেটা মানছে কেউ। বলা হয়ে থাকে, ডাক্তার ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিকদের মধ্যে কমিশন বিনিময় প্রথার মাধ্যমে রোগীর আদান প্রদান করা হয়। ডাক্তার একটি নির্দিষ্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টারের নাম রেফার করে দেন, রোগীকে সেখান থেকেই দ্বিগুণ বেশি ফি’তে টেস্ট করাতে বাধ্য করা হয়। আর এই রোগী প্রেরণের মাধ্যমে ডাক্তারকে দেয়া হয় নির্দিষ্ট পরিমাণ পার্সেন্টেজ। অন্যদিকে ব্যবসায়ী ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিকরা হয় লাখ লাখ টাকার মালিক। এই যদি হয় সেবা খাতের নমুনা, তাহলে বলা যেতে পারে রোগী জবাই করার বাকি থাকে কোথায় ? অথচ কর্তৃপক্ষ নির্বিকার যেন দেখেও কিছু দেখে না।এছাড়াও উপজেলার অনেক জায়গায় নিয়ম না মেনেই অবৈধভাবে ডায়াগনস্টিক ব্যবসা চলছে। অভিযোগ রয়েছে এসব ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে মানসম্পন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা হচ্ছে না। ভুল রিপোর্ট দেওয়া হচ্ছে। আর খেসারত দিচ্ছেন ভুক্তভোগীরা। ফলে হুমকির মুখে পড়েছে জনস্বাস্থ্যসেবা। নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানায়, গাইবান্ধা জেলা সিভিল সার্জন অফিসের কতিপয় অসাধু কর্তা ব্যক্তিদের মাসোহারা দিয়ে এসব ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিক চালানো হচ্ছে।
এ ব্যাপারে গাইবান্ধা জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ এ এম আক্তারুজ্জামান বলেন, আমরা করোনা ভ্যাকসিনের জন্য ব্যস্ত আছি ব্যস্ততা শেষ হলেই এসব ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিকের রেজিস্ট্রেশন যাচাই বাচাই করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অনিয়মের প্রমাণ পেলে এগুলো বন্ধ করে দেওয়া হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button