Uncategorized

নাটোরে বঞ্চিত ৫৪ শিক্ষার্থী হলফনামা দিয়ে পেল স্কুলে ভর্তির অনুমতি

নাটোর প্রতিনিধি : ভবিষ্যতে আইনগত কারণে ভর্তি বাতিলের নির্দেশনা এলে, তা মেনে নেওয়ার হলফনামা দিয়ে নাটোরের দুটি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেণিতে ভর্তিবঞ্চিত ৫৪ শিক্ষার্থীর ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়েছে । নাটোরের জেলা প্রশাসক শামীম আহমেদের প্রচেষ্টায় রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর গতকাল মঙ্গলবার রাতে মৌখিকভাবে এই অনুমতি দেওয়ায় আজ বুধবার থেকে ভর্তি কার্যক্রম শুরু হয়েছে ।
নাটোর সরকারি বালক ও বালিকা উচ্চবিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বয়স আট বছর পূর্ণ না হওয়ায় লটারিতে মনোনীত যে ৫৪ শিক্ষার্থী ভর্তি হতে পারছিল না, তাদের ভর্তি করার মৌখিক অনুমতি দেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) রাজশাহীর উপপরিচালক শরমিন ফেরদৌস মঙ্গলবার মুঠোফোনে নাটোরের জেলা প্রশাসক ও স্কুল দুটির প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলে এই অনুমতি দিয়েছেন। তবে একটি হলফনামা দেওয়ার মধ্য দিয়ে তাদের ভর্তি হতে হবে। ভবিষ্যতে আইনগত কারণে ভর্তি বাতিলের নির্দেশনা এলে তা মেনে নিতে হবে এই মর্মে অঙ্গীকার করে তাদের ভর্তি ফরম সংগ্রহ করতে হবে। অধিদপ্তরের এই সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছেন ভর্তিবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের
অভিভাবকেরা। আজ বুধবার সকাল থেকে তাঁরা ভর্তি ফরম সংগ্রহ করতে পারবেন।

এ বিষয়ে নাটোর সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুল মতিন জানান, মুঠোফোন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠা টেলিটকের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা ভর্তিপ্রক্রিয়া স¤পন্ন করেছিল। অসাবধানতাবশত বয়সের বিষয়টি খেয়াল না করায় আট বছর পূর্ণ হয়নি—এমন অনেক শিক্ষার্থী তৃতীয় শ্রেণিতে ভর্তির জন্য মনোনীত হয়। ভর্তি ফরম সংগ্রহ করার সময় বিষয়টি নজরে এলে তাদের ভর্তি ফরম দেওয়া হয়নি। তবে এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত চেয়ে বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে মাউশির রাজশাহী কার্যালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছিল।অভিভাবকদের অনুরোধে জেলা প্রশাসক নিজেও অধিদপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে বঞ্চিত শিক্ষার্থীদের ভর্তির অনুরোধ জানিয়েছিলেন।
ইতিমধ্যে রাজশাহীর কিছু সরকারি বিদ্যালয়ে বয়স জটিলতার শিকার শিক্ষার্থীদের ভর্তি নেওয়া শুরু হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় অধিদপ্তরের উপপরিচালক শরমিন ফেরদৌস মুঠোফোনে তাঁকে নাটোরের ভর্তিবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের ভর্তি নেওয়ার অনুমতি দেন। তবে আইনি জটিলতার কারণে ভর্তি বাতিল করা হলে তারা তা মেনে নেবে এমন হলফনামা দিয়ে তাদের ভর্তি হতে হবে।
নাটোর সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হারুন অর রশিদ জানান, তাঁর বিদ্যালয়েও অধিদপ্তরের অনুমতিক্রমে আজ থেকে ভর্তি ফরম বিতরণ শুরু হয়েছে ।
নাটোরের জেলা প্রশাসক শামীম আহমেদ জানান, শিশুরা সামান্য বিষয়ে অনেক বেশি প্রতিক্রিয়া দেখায়। শিক্ষাজীবনের শুরুতে লটারির মাধ্যমে সরকারি বিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেণিতে ভর্তির সুযোগ পেয়েও ভর্তি হতে না পারলে তারা মানসিক সমস্যায় ভুগবে। তাই তিনি বিষয়টি নিয়ে বিভাগীয় কমিশনারসহ শিক্ষা অধিদপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন। তাঁর অনুরোধে কর্তৃপক্ষ বঞ্চিত শিক্ষার্থীদের ভর্তির অনুমতি দেওয়ায় তিনি তাঁদের ধন্যবাদ জানান।
এ বিষয়টি নিয়ে গত সোমবার বাংলাদেশ প্রতিদিনের অনলাইন এবং মঙ্গলবার প্রিন্টেড সংস্করণে ”নাটোরে সরকারি স্কুলে লটারিতে টিকেও ভর্তি হতে পারছে না ৫৪ শিক্ষার্থী প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে তোলপাড় সৃষ্টি হয় ।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button