নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্র জমিয়তের কাউন্সিল সম্পন্ন: সভাপতি মাজহার, সম্পাদক কাউসার

ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশ নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার সদস্য সম্মেলন ও কাউন্সিল সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার (২৮ অক্টোবর) সকাল ১০ টায় জেলা জমিয়ত মিলনায়তনে হাফেজ মাজহারুল ইসলামের সভাপতিত্বে এ কাউন্সিল সম্পন্ন হয়।
এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় শ্রম বিষয়ক সম্পাদক ও নারায়ণগঞ্জ জেলা জমিয়তের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা ফেরদাউসুর রহমান, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর জমিয়তের সভাপতি মাওলানা কামালুদ্দীন দায়েমী ও সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মনোয়ার হোসাইন।
প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক হুযাইফা ইবনে ওমর। বিশেষ বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক কাউসার আহমদ, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক নূর হোসাইন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাওলানা ফেরদাউসুর রহমান বলেন, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ভেসে আসা কোন সংগঠন নয়। জমিয়তের ইতিহাস আছে, ঐতিহ্য আছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে গৌরবোজ্জ্বল ভুমিকা পালনকারী সংগঠনের নাম জমিয়ত। সুতরাং আলেমদের মাইনাস করে এককভাবে আওয়ামিলীগ আর বিএনপি এদেশের স্বাধীনতার দাবী করলে সেই ইতিহাস ভুল হবে। সেই ইতিহাস সঠিক ইতিহাস হবে না।
উপস্থিত ছাত্র জমিয়ত নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় যদি তৎকালীন জমিয়ত নেতারা মানুষকে উদ্বুদ্ধ না করতেন তাহলে এই দেশ স্বাধীন হতো না। জমিয়তের একজন গর্বিত সন্তান হিসেবে আমাকে আপনাকে সেই সোনালী ইতিহাস জানতে, বুঝতে হবে। এদেশের জনগণের নিকট সেই সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতে হবে। এজন্য সঠিক ইতিহাসের চর্চা করে, নিজে ভালোভাবে অধ্যয়ন করে সাধারণ মানুষের নিকট সঠিক ইতিহাস পৌঁছে দিতে হবে।
প্রধান বক্তার বক্তব্যে কেন্দ্রীয় ছাত্র জমিয়তের সাধারণ সম্পাদক হুযাইফা ইবনে ওমর বলেন, দেশের আলেম-উলামাদের রাজনীতি থেকে মাইনাস করে তাদের কে রাজনৈতিক চেতনাশূন্য করার নীলনকশা বাস্তবায়নের পায়তারা চলছে। উপমহাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের এক ঐতিহাসিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের মধ্যদিয়ে যেই দারুল উলুম দেওবন্দের জন্ম, সেই দেওবন্দি উলামা-মাশায়েখদের রাজনীতি থেকে দূরে রাখার জন্য নানান ফন্দিফিকির করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, আমরা যেমনিভাবে আকাবিরে দারুল উলূম দেওবন্দের চিন্তাচেতনার ফসল হিসেবে দরস ও তাদরীসের মাধ্যমে ইলমে ওহির চর্চা করি, দাওয়াত ও তাবলীগের মেহনত এবং তাযকিয়ায়ে নফস করে থাকি, ঠিক তদ্রূপ আকাবিরে দারুল উলূম দেওবন্দেরই রাজনৈতিক চিন্তা ও সিদ্ধান্তের ফসল হিসেবে পাওয়া এই স্বাধীন উপমহাদেশে আমরা আজকে নিশ্বাস ফেলছি। অতএব আলেমদেরকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখার অপচেষ্টা সফল হবে না। বরং আলেম-উলামারা যদি অবাদে রাজনীতি করার সুযোগ পায়, তাহলে দুর্বৃত্তায়নের রাজনীতির অনিষ্টতা থেকে দেশকে মুক্ত করে এদেশকে একটি সোনার দেশে পরিনত করতে সক্ষম হবে।
কাউন্সিল অধিবেশনে উপস্থিত কাউন্সিলরদের মতামতের ভিত্তিতে হাফেজ মাজহারুল ইসলামকে সভাপতি, কাউসার আহমদকে সাধারণ সম্পাদক ও শরিফ মাহমুদকে সাংগঠনিক সম্পাদক করে ২৫ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করেন কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক হুযাইফা ইবনে ওমর।




