sliderস্থানিয়

নলছিটি পৌরসভার নেই ডাম্পিং ষ্টেশন, নদীর তীরে ফেলা হচ্ছে বর্জ্য, হুমকিতে জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ

মো.শাহাদাত হোসেন মন, ঝালকাঠি: নাগরিক সুবিধা বঞ্চিত বাংলাদেশর প্রচীনতম ঝালকাঠির নলছিটি পৌরবাসি। নলছিটি পৌরসভার নেই কোন ডাম্পিং ষ্টেশন। শহরের ষ্টীমারঘাট এলাকায় সুগন্ধা নদীর তীরে উন্মুক্ত স্থানে ফেলা হচেছ বর্জ্য। নলছিটি পৌর এলাকায় ময়লা আবর্জনা ফেলার কোন সুনির্দিষ্ট জায়গা না থাকায় পৌরসভার পরিছন্নতা কর্মীরা সারা শহর থেকে সংগ্রহ করে ময়লা আবর্জনা ফেলে আসেন নদী তীরে। ফলে পরিবেশ দূষনসহ নদীর পানিও দূষিত হচ্ছে। নদীর তীরবর্তী মানুষজন আক্রান্ত হচেছ নানান পানিবাহিত রোগে।

সরোজমিন ঘুরে দেখা যায় নদী তীরবর্তী বসতি এলাকায় আবাসিক ভবনের কাছে স্তুপ করে ফেরে রাখা হয়েছে ময়লা আবর্জনা। এর তীব্র গন্ধে নাকাল পাশর্^বর্তী বাসিন্দারা। এ ছাড়া ময়লা অবর্জনার দুর্গন্ধে বাধ্য হয়ে স্থানীয়রা ওই এলাকা এড়িয়ে অন্য পথে চলাচল করছেন। তবে এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরাজ করছে ক্ষোভ। ভুক্তভোগীরা নলছিটি পৌর কতৃপক্ষকে একাধিকবার ওই এলাকায় ময়লা না ফেলার অনুরোধ করলেও অনুরোধ উপক্ষো করে বছরের পর বছর সেখানেই ফেলা হচ্ছে ময়লা আবর্জনা।

স্থানীয় ব্যবসায়ী শাহাদাত আলম জানান,“লঞ্চঘাট সংলগ্ন বাজারেই আমার পাইকারী চালের দোকান। আমি অনেক বছর ধরে এখানে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছি। এখানে সাপ্তাহিক বাজারের দিন বিপুলসংখ্যক ক্রেতা বিক্রেতার সমাগম ঘটে। কিন্তু আমাদের বাজার সংলগ্ন নদীর তীরে পৌর শহরের বিভিন্ন জায়গা থেকে সংগ্রহ করা ময়লা ফেলা হচ্ছে। এসব ময়লার দূর্গন্ধে অনেক সময় দম বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়। আমাদের দাবি যত দ্রæত সম্ভব নলছিটিতে একটি ডাম্পিং ষ্টেশন করা হোক। তাতে পরিবেশও ভালো থাকবে অমাদেরও এসব সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে না।”

তিনি আরও বলেন, “নলছিটি বন্দরটি নদীমাতৃক হওয়ায় দূর দূরান্ত থেকে অনেক ব্যবসায়ী নৌকায় করে এখানে তাদের মালামাল বিক্রি করতে আসেন। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে কৃষকরাও তাদের উৎপাদিত পন্য নৌকায় করে নিয়ে আসেন। তাদের নৌকা নোঙর করার ঠিক পাশেই ময়লা আবর্জনার স্তুপ যা তাদের জন্য সবদিক দিয়েই নানান সমস্যার সৃষ্টি করছে। এছাড়া সাপ্তাহিক হাটের আগের রাতে অনেক ব্যবসায়ি দূরদূরান্ত থেকে এসে এখানে নৌকায়ই রাত্রি যাপন করেন। তাদের জন্য নদীর পানি খুবই গুরুত্বপূর্ন। এছাড়া বাজারের পাশেই একটি মসজিদ আছে। অনেক সময় বিদুৎ সমস্য দেখা দিলে মুসল্লীদের নদীর পানি ব্যবহার করতে হয়। এই মসজিদে প্রায় সময় তাবলিগ জামাতের মুসল্লীরা অবস্থান করেন তাদের নদীতে গোসলসহ অন্যান্য কাজ করতেও অসুবিধা হয়। এসব বিষয়কে মূল্যায়ন করে এর আশু সমাধান করা উচিত।”

স্থানীয় বাসিন্দা ব্যাবসায়ী খন্দকার জাহিদুল ইসলাম জানান, “এই এলাকার যারা নদীর পানি ব্যবহার করতেন এখানে ময়লা ফেলার কারনে তারা নদীর পানি দূষিত হওয়ায় তারা তা ব্যবহার করতে পারছেন না। অনেকেই আবার নানান পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। আবার দেখা যায় বর্ষা মৌসুমে বন্যার সময় এই ময়লা আবর্জনা বন্যার পানির সাথে লোকালয়ে প্রবেশ করে। যাতে স্থানীয়রা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকেন। আবার পরিবেশও দূষিত হচ্ছে। এখানে অনেক পরিবার আছে যারা নদীর পানির উপর নির্ভরশীল যারা নিত্য প্রয়োজনীয় কাজের জন্য নদীর পানি ব্যবহার করে থাকেন তারাও এখন বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। নি¤œ আয়ের কিছু লোক বাধ্য হয়ে এসব পানি ব্যবহার করছেন। এছাড়া তাদের কোন উপায়ও নেই। তারা আর্থিকভাবে দূর্বল হওয়ায় বাসস্থানও পরিবর্তন করতে পারছেন না। এসব বিবেচনায় রেখে পৌর কতৃপক্ষের উচিত এখানে ময়লা না ফেলে আধুনিক কোন প্রযুক্তি ব্যবহার করা। সেটা না পারলে আবাসিক এলাকা থেকে দূরে কোথাও মাটি খুড়ে গর্ত করে তার ভিতর ময়লা ফেলার ব্যবস্থা করা উচিত বলে আমি মনে করি। আমরা অতিদ্রæত সেটাই দেখতে চাই।

এ ব্যাপারে নলছিটি পৌরসভা প্রশাসক ও নলছিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিজভী আহমেদ সবুজ জানান, “বিষয়টি আমার জানা ছিল না। যেহেতু এখন জানেত পেরেছি তাই যতদ্রæত সম্ভব এর ভালো একটা সমাধান খুজে বের করার চেষ্টা করা হবে।”

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button