মো.শাহাদাত হোসেন মনু,ঝালকাঠি: ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার দপদপিয়া ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী খায়রাবাদ নদীর তীব্র ভাঙনে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন ওই এলাকার শতাধিক পরিবার। ইতোমধ্যে অনেক পরিবারের বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। গত এক সপ্তাহে নদীভাঙনে ভরতকাঠি গ্রামের প্রধান সড়কটির বড় অংশ বিলীন হয়ে যাওয়ায় যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) বেলা ১১টায় খায়রাবাদ নদীভাঙন প্রতিরোধ সংগ্রাম কমিটির উদ্যোগে ভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে ভাঙনকবলিত এলাকার শতাধিক নারী-পুরুষ অংশ নেন।
স্থানীয়দের দাবি, নদীভাঙনে বসতভিটা হারিয়ে বহু পরিবার অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে। প্রধান সড়কটি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ায় সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে পড়েছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় যেতে পারছে না। পাশাপাশি অসুস্থ রোগীদের চিকিৎসাসেবা পেতেও চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে দপদপিয়া ইউনিয়ন খায়রাবাদ নদীভাঙন প্রতিরোধ সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক মো. রুহুল আমিন হাওলাদার ও সদস্যসচিব মো. রমজান আইকন হৃদয় বলেন, খায়রাবাদ নদীর অব্যাহত ভাঙনে এলাকার শতাধিক পরিবার বসতভিটা হারিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছে। দ্রæত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে। সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় শিক্ষার্থীরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে পারছে না। অসুস্থ রোগীরাও সময়মতো চিকিৎসা নিতে পারছেন না।
তাঁরা আরও বলেন, নদীভাঙন থেকে এলাকাবাসীকে রক্ষায় দ্রæত টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ অথবা জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। এ জন্য ঝালকাঠি পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন তাঁরা।
এ বিষয়ে নলছিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রতীক কুমার কুন্ডু জানান, খায়রাবাদ নদীর ভাঙনের বিষয়টি আপনাদের মাধ্যমে জানতে পেরেছি। অচিরেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।
ঝালকাঠি পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নিলয় পাশার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেন নি।