sliderস্থানিয়

নলছিটিতে জেন্ডার সমতা প্রতিষ্ঠায় তারুণ্যের ভূমিকা নিয়ে সংলাপ

মো.শাহাদাত হোসেন মনু,ঝালকাঠি: জেন্ডারভিত্তিক বৈষম্য দূরীকরণ, নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ এবং সিদ্ধান্তত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় তরুণদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর লক্ষ্যে ঝালকাঠির নলছিটিতে অ্যাডভোকেসি সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সংলাপে জেন্ডারভিত্তিক সামাজিক ধ্যানধারণা ও নেতিবাচক স্টেরিওটাইপ চিহ্নিত করা, নারীর প্রতি বৈষম্য ও সহিংসতা প্রতিরোধ, কন্যাশিশুর অধিকার সুরক্ষা এবং সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা হয়।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) বেলা ১১টায় নলছিটি উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে ‘সমতায় তারুণ্য: ইয়ুথ ফর ইকুয়ালিটি’ প্রকল্পের আওতায় এ সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। সুহাসিনী স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠনের আয়োজনে জাগো ফাউন্ডেশন ট্রাস্টের উদ্যোগে, ‘প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ’র সহযোগিতায় এবং নেদারল্যান্ডস সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত প্রকল্পের অংশ হিসেবে এ সংলাপের আয়োজন করা হয়।

এ সময় বক্তারা বলেন, জেন্ডার সমতা প্রতিষ্ঠায় সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক নেতৃত্ব, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন ও তরুণদের সম্মিলিত ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। পরিবার থেকে শুরু করে সমাজের প্রতিটি স্তরে নারী-পুরুষের সমান মর্যাদা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং বৈষম্যহীন দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিষ্ঠা করা গেলে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।

এ অ্যাডভোকেসি সংলাপে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি হেলাল খান, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান পলাশ, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নাছরিন আক্তার, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা এনামুল হক, নলছিটি দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির (দুপ্রক) সভাপতি মো. শামসুল আলম বাহার, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক তৌহিদ আলম মান্না এবং সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)’র নলছিটি উপজেলা শাখার সভাপতি মো. আমির হোসেন প্রমুখ।
সভাপতিত্ব করেন সুহাসিনী স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠনের সভাপতি সাথী আক্তার।

আলোচনায় উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নাছরিন আক্তার বলেন, জন্মের পর থেকেই শিশুদের মধ্যে সামাজিক বৈষম্যের অভিজ্ঞতা তৈরি হতে পারে। সামাজিক ও রাজনৈতিক বৈষম্য, বাল্যবিবাহ এবং সামাজিক অবক্ষয় নারীর অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করে। এসব সমস্যা দূর করতে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতিটি পর্যায়ে সচেতনতা বাড়াতে হবে। কন্যাশিশুর অধিকার সুরক্ষা এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে সাথী আক্তার বলেন, জেন্ডার সমতা প্রতিষ্ঠা ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির ইতিবাচক পরিবর্তন, নারীর অধিকার সুরক্ষা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় নারী ও তরুণদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
এ ধরনের অ্যাডভোকেসি সংলাপ স্থানীয় পর্যায়ে জেন্ডার সমতা বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে সমন্বয় জোরদার এবং তরুণদের নেতৃত্ব বিকাশে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন আমন্ত্রিত অতিথিরা ।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button