দেশের ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকারের দিকনির্দেশনা

সারাদেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার এবং তাদের চারপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার আহ্বান জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর।
মঙ্গলবার তথ্য অধিদফতরের এক বিজ্ঞপ্তিতে ডেঙ্গুর আশঙ্কাজনক বৃদ্ধিতে জনগণকে আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
এর পাশাপাশি অধিদফতর বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবেলায় কিছু দিকনির্দেশনাও দিয়েছে।
ডেঙ্গুর লক্ষণ :
শরীরের তাপমাত্রা ১০৪ ডিগ্রি হওয়ার পাশাপাশি দুটি লক্ষণ দেখা দিলে ডেঙ্গু সন্দেহে নিকটস্থ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। সেগুলো হলো-
তীব্র মাথা ব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, শরীরের পেশি ও জয়েন্টসমূহে ব্যথা।
বার বার বমি করার প্রবণতা, নাসিয়া গ্ল্যান্ড ফুলে যাওয়া ও শরীরে র্যাশ ওঠা।
তীব্র ডেঙ্গুর লক্ষণ :
ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার ৩ থেকে ৭ দিন পর লক্ষণ দেখা যেতে পারে।
শরীরের তাপমাত্রা অস্বাভাবিক কমে যাওয়া এবং তীব্র পেট ব্যথা হওয়া।
ক্রমাগত বমি করা, বমির সাথে রক্ত যাওয়া এবং ঘন ঘন শ্বাস নেয়া।
শরীরে অবসাদ ও অস্থিরতা অনুভব করা।
ব্যক্তিগত সতর্কতা :
ঘর বা কর্মস্থলের জানালা সবসময় বন্ধ রাখতে হবে।
মশার কামড় থেকে বাঁচতে যতটা সম্ভব শরীর ঢেকে থাকে এমন পোশাক পরা।
কমিউনিটির সচেতনতা বৃদ্ধি :
পরিবার, প্রতিবেশী ও কমিউনিটির মধ্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়াতে হবে
পরিচ্ছন্নতা অভিযানে সবাইকে সরাসরি যুক্ত হওয়ার জন্য সচেষ্ট হতে হবে।
মশার প্রজনন রোধে যেসব কাজ করতে হবে :
ঘর ও আশপাশের যেকোনো জায়গায় পানি জমতে দেয়া যাবে না।
ব্যবহৃত পাত্রের গায়ে লেগে থাকা মশার ডিম অপসারণে পাত্রটি ব্লিচিং পাউডার দিয়ে ঘষে ঘষে পরিষ্কার করতে হবে।
ফুলের টব, প্লাস্টিকের পাত্র, পরিত্যক্ত টায়ার, প্লাস্টিকের ড্রাম, মাটির পাত্র, বালতি, টিনের কৌটা, ডাবের খোসা বা নারিকেলের মালা, কন্টেনার, মটকা, ব্যাটারি ইত্যাদিতে এডিস মশা ডিম পাড়ে, বিধায় এগুলো পরিষ্কার রাখতে হবে।
পানি যাতে না জমে সেজন্য অব্যবহৃত পানির পাত্র নষ্ট করতে হবে অথবা উল্টে রাখতে হবে
দিনে অথবা রাতে ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি ব্যবহার করতে হবে।
ডেঙ্গু হলে নিকটস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে দ্রুত যোগাযোগ করতে হবে।
সূত্র : ইউএনবি
সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু পরীক্ষার ফি ৫০ টাকা নির্ধারণ
আগামী ১ মাস দেশের সব সরকারি হাসপাতালে ১০০ টাকার পরিবর্তে ৫০ টাকায় ডেঙ্গু পরীক্ষা করানো যাবে। বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এক বিশেষ সতর্কবার্তায় এই তথ্য জানিয়েছে।
দেশে চলমান ডেঙ্গু প্রাদুর্ভাবের মধ্যে জ্বর হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ডেঙ্গু পরীক্ষা করার পরামর্শ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ডেঙ্গু নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
ডেঙ্গু বিষয়ক এই বিশেষ বার্তায় জানানো হয়, ডেঙ্গু নিয়ে যেন মানুষের মধ্যে আতঙ্ক না ছড়ায়। সাধারণ চিকিৎসাতেই এই জ্বর সেরে যায়। তবে ডেঙ্গু শক সিনড্রোম এবং হেমোরেজিক ডেঙ্গু জ্বর মারাত্মক হতে পারে।




