জাতীয়শিরোনাম

চোরাচালান ও অবৈধ অনুপ্রবেশ বন্ধ করবেন: বিজিবিকে প্রধানমন্ত্রী

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিজিবি সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, চোরাচালান, মাদক, সন্ত্রাস, অবৈধ অনুপ্রবেশ কঠোরভাবে বন্ধ করবেন। এক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেবেন না।
বুধবার (১৮ ডিসেম্বর) বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের ‘বিজিবি দিবস-২০১৯’ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। পিলখানায় এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিজিবি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বাহিনী। এ বাহিনীর সদস্যরা শুধু সীমান্ত রক্ষা নয়, তারা বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় এবং দেশের প্রয়োজনে যেকোনো সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
এ সময় মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে আসা কয়েক লাখ রোহিঙ্গাদের থাকা-খাওয়াসহ যাবতীয় ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করার কথা উল্লেখ করেন তিনি।
শেখ হাসিনা বলেন, আপনারা বঙ্গবন্ধুর ভাষণ শুনেছেন। তৎকালীন ইপিআর সমাবেশ তিনি যে বক্তব্য দিয়েছেন এবং আপনাদের প্রতি যে নির্দেশ দিয়েছেন, তা যুগ যুগ ধরে চলবে। এ নির্দেশগুলো মেনে বাহিনীর দক্ষতার পরিচয় দেবেন এবং বিজিবির সুনাম অক্ষুণ্ন রাখবেন।
তিনি বলেন, বিজিবিকে আরও শক্তিশালী ও আধুনিকায়ন করে গড়ে তোলার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এ জন্য বিজিবি ভীষণ ২০৪১ ঘোষণা করা হয়েছে। দুটি হেলিকপ্টারসহ দুর্গম এলাকায় যাওয়ার জন্য বিভিন্ন ধরনের যানবাহন সরবরাহ করা হয়েছে। ডগ স্কোয়াড গঠন করা হয়েছে। উন্নত প্রশিক্ষণের জন্য চুয়াডাঙ্গায় আরেকটি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু যেভাবে বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন তা পারেননি। সে দায়িত্ব এখন আমার-আপনাদের সকলের ওপর। স্বাধীনতার পরে একটি বিধস্ত দেশকে সাড়ে তিন বছরের মাথায় স্বল্পোন্নত দেশে পরিণত করেছিলেন। তার দেখানো পথ ধরে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। এখন আমরা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ দেশ। খাবারের জন্য কারো কাছে হাত পাততে হয় না। দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। মনে রাখবেন দেশ উন্নত হলে তার সুফল সকলেই পাবেন।
বাহিনীর নিয়ম নীতি মেনে, কমান্ড মেনে দায়িত্ব পালন করার জন্য প্রধানমন্ত্রী আবারও বিজিবি সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান।
সরকার প্রধান বলেন, বার বার এর নাম-পোশাক পরিবর্তন হয়েছে। তারপরও বলবো আমাদের সীমান্ত রক্ষায় বিজিবি’র ভূমিকা অপরিসীম। আমাদের স্বাধীনতা অর্জনে বিজিবি’র বিরাট ভূমিকা রয়েছে।
শেখ হাসিনা বলেন, দেশকে ভালোবোসে দেশের মানুষের প্রতি কর্তব্য পালন করবেন। দেশ যদি উন্নত হয় আপনাদের পরিবার পরিজনরাই উন্নত হবে। এদেশের মানুষ উন্নত হবে।
বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, আমাদের পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চল একেবারে অরক্ষিত ছিল। বিভিন্ন দুর্গম এলাকায় যাতে কাজ করতে পারেন তার ব্যবস্থা আমরা করে দিয়েছি। আমরা বিজিবিতে দুটি অত্যাধুনিক হেলিকপ্টারও দিয়েছি। কারণ দুর্গম এলাকায় তাৎক্ষণিকভাবে যাওয়া বা রেশন পৌঁছানো অথবা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সেখানে পৌঁছানো সম্ভব হয়। এছাড়া কেউ অসুস্থ হলে তাদের নিয়ে আসার জন্য হেলিকপ্টার প্রয়োজন হয়।
তিনি বলেন, আমাদের প্রিয় বিজিবি সদস্যদের কাছে একটাই চাওয়া- একটা সুশৃঙ্খল ও দক্ষ বাহিনীর জন্য প্রশিক্ষণ একান্তভাবে প্রয়োজন। তাই উন্নত প্রশিক্ষণের জন্য সাতকানিয়ায় বর্ডার গার্ড ট্রেনিং সেন্টার অ্যান্ড কলেজের পাশাপাশি চুয়াডাঙায় একটা প্রশিক্ষণ সেন্টার স্থাপনের কার্যক্রম চলছে।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সকাল ১০টায় পিলখানা সদর দফতরে উপস্থিত হন। পরে পিলখানায় বিজিবি সদর দফতরের বীর-উত্তম আনোয়ার হোসেন প্যারেড গ্রাউন্ডে বিজিবি দিবসের কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কুচকাওয়াজ পরিদর্শন এবং অভিবাদন গ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button