Uncategorized

দুই হাত হারানো আকিবুলের জীবনযুদ্ধ

তুহিন খান : মাত্র ১৪ বছরের কিশোর মো. আকিবুল রহমান। যে বয়সে দুরন্তপনায় মেতে থাকার কথা সেই বয়সে তাকে ভিক্ষা করে পাঁচ সদস্যের সংসার চালাতে হচ্ছে। সাত বছর বয়সে বাড়ির পাশে মসজিদের ছাদে বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে মারাত্মকভাবে আহত হলে চিকিত্সাধীন অবস্থায় তার কাঁধ থেকে দুই হাত কেটে ফেলতে হয়।
প্রতিবন্ধী আকিবুল রংপুর জেলার নগর মীরগঞ্জের রবিউল ইসলাম রাজু ও আরফিনুর বেগমের পুত্র। তারা দীর্ঘদিন আগে গ্রাম থেকে সাভারে এসে পৌর এলাকার গেন্ডা মহল্লার শিমুলতলা এলাকায় ভাড়াবাড়িতে বসবাস করছে। ছোট ভাই আব্দুল্লাহ (৬) স্থানীয় একটি স্কুলে পড়াশোনা করে। ভাইবোনের মধ্যে আকিবুল মেজো। বড় বোন রেখা (২০) অভাবের কারণে নবম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করে এখন বেকার।
প্রতিবন্ধী কিশোর আকিবুলের মা আরফিনুর বেগম জানান, তার স্বামী পরিবার নিয়ে গ্রাম থেকে কাজের সন্ধানে সাভারে এসে ভাড়াবাসায় থেকে দিনমজুর শ্রমিক হিসেবে কাজ করে সংসার চালাতেন। দারিদ্র্যের মধ্যেও পরিবার-পরিজন নিয়ে সুখেই কাটছিল তাদের দিন। কিন্তু আকিবুলের দুর্ঘটনায় পরিবারে নেমে আসে ঘোর অন্ধকার। ছেলের চিকিত্সার ব্যয় বহন করতে গিয়ে দিনমজুর পিতা সর্বস্বান্ত হন। একদিকে সংসার চালানো অন্যদিকে পুত্রের চিকিত্সার ব্যয় ও ভবিষ্যত্ জীবনের চিন্তায় মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন রবিউল ইসলাম রাজু। স্বামীর মানসিক সমস্যা দেখা দিলে দুই চোখে অন্ধকার দেখেন স্ত্রী আরফিনুর বেগম। বাড়িভাড়া, পাঁচ জনের সংসার চালানোর এসব নানাবিধ চিন্তায় দিশাহারা হয়ে পড়েন। কোনো উপায়ান্তর না দেখে প্রতিবন্ধী পুত্রকে নিয়ে নেমে পড়েন ভিক্ষায়। এখন এভাবেই চলছে তাদের দিন।
সারাদিন প্রতিবন্ধী পুত্রকে নিয়ে মা অলিগলিতে ঘুরে বেড়ান ভিক্ষার জন্য। প্রতিদিন ২০০ থেকে ২৫০ টাকা ভিক্ষা পান। তা দিয়েই তাদের সংসার চলে। আরফিনুর বেগম বলেন, স্বামী মানসিক ভারসাম্যহীন, ঘরে বড় মেয়ে, প্রতিবন্ধী ছেলে ও ছোট ছেলেকে নিয়ে তিনি দিশাহারা। তিনি সরকার ও সহূদয়বান ব্যক্তিদের কাছে সাহায্য কামনা করেছেন।
ইত্তেফাক

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button