
কাওরান বাজার থেকে মৎস্য ভবন। গুগল ম্যাপ বলছে দূরত্ব ২.৯ কি.মি.। হেঁটে এতটুকু রাস্তা পার করতে সময় লাগার কথা ২৫ মিনিট, বাসে ১০ মিনিট। কিন্ত রমজান আসার পর থেকেই তীব্র যানজটে এইটুকুন পথ পাড়ি দিতে ব্যয় হচ্ছে দেড় থেকে দুই ঘণ্টা। রমজানের শুরুতে রাজধানীতে নগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ থেকে আশার বাণী শোনানো হলেও যানজটে প্রতিদিনই নাকাল হতে হচ্ছে নগরবাসীদের। প্রচণ্ড গরম আর তীব্র যানজটে পড়ে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে শহরবাসীর।
সোমবার (২৭ মে) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এসব চিত্র দেখা গেছে। দীর্ঘ যানজটে বাসে বসেই ঘুমাচ্ছেন যাত্রীরা।
যানজটের কারণে মাইলের পর মাইল গাড়ির সাড়ির পাশ দিয়ে হাঁটছেন পথচারীরাও। এসব পথচারীর বেশিরভাগই গন্তব্যের আগেই নেমে পড়া বাসযাত্রীরা। পথচারীদের অভিযোগ, ট্রাফিক পুলিশদের দায়িত্ব অবহেলার কারণেই সড়কে জ্যাম কমছে না।
ফার্মগেট থেকে মতিঝিলের অফিসে যাওয়ার জন্যে মেশকাত বাসে উঠেছিলেন আরিফুল ইসলাম। কিন্ত মৎস্য ভবনে এসে নেমে গেছেন তিনি।
আরিফুল ইসলাম বলেন, দেড়টার সময় বাসে উঠেছি ফার্মগেট থেকে। মৎস্য ভবন আসতেই আড়াইটা বাজে। একধাপ ঘুমানোর পর দেখি বাস এখনও সেখানেই দাঁড়ানো। অফিসের সময় পেরিয়ে গেছে। এখন হেঁটেই যাচ্ছি।
পথে যেতে যেতে কথা হলো আরোও কয়েকজনের সঙ্গে। প্রায় সকলেই জানান একইরকম কথা। গণমাধ্যমকর্মী রিয়াজ হোসেন বলেন, সচিবালয়ে একটা কর্মসূচি কভার করতে যাচ্ছিলাম তেজগাঁও থেকে। এক ঘণ্টার পথ আড়াই ঘণ্টায় অর্ধেক পথ পেরিয়েছি কেবল।
যানজট আর গরমে নাকাল হতে দেখা গেছে নারী ও শিশুদের। রমজান মাসে হঠাৎ জ্যাম শহর জীবনকে দুর্ভোগে পরিণত করে তুলেছে বলে অভিযোগ তাদের।
ঈদের আনন্দ আপনজনদের সঙ্গে উপভোগ করতে এরইমধ্যে অনেকেই নাড়ির টানে ছুটছেন দেশের বাড়িতে। যারা এখনো যাননি তারা ব্যস্ত কেনাকাটায়। এ কারণে গত কয়েকদিন থেকেই যানজটের কবলে পড়েছে নগরবাসী। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যানজট তীব্র থেকে তীব্রতর হয়। এতে বিশেষ করে নারী, শিশুদের বেশি কষ্ট হচ্ছে।
যানজটের বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) মো. মোসলেহ উদ্দীন আহমেদ বলেন, দুপুরের পর থেকেই মানুষেরা ঘরে ফেরা শুরু করেন। আবার অনেকেই বিকেলে কেনাকাটা করতে বের হচ্ছেন। ফলে এইসময় একটা যানজট তৈরি হয়। আর তোপখানা রোডে সড়কে নির্মাণকাজ চলমান থাকায় পর্যাপ্ত গাড়ি পাড় হতে পারে না, এজন্যে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। তবে দ্রুতই এটা সমাধান হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
পিপিবিডি




