slider

ঝিয়ের কাজ করে বেঁচে আছি, তবুও বাদ দেয়া হয়েছে ভিজিডি’র তালিকা থেকে

জাকির হোসেন, নীলফামার প্রতিনিধি: দুটি শিশু সন্তান নিয়ে অন্যের বাড়িতে থাকি। মানুষের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করে জীবন বাঁচাই। তারপরও সরকারী সহযোগিতা থেকে সম্পূর্ণরুপে বঞ্চিত আমরা। অথচ এলাকার অনেক স্বচ্ছল ব্যক্তি পাচ্ছেন নানা সুযোগ সুবিধা। দুস্থদের জন্য দেয়া ভিজিডি’র জন্য আবেদন করলেও তা থেকে বাদ দেয়া হয়েছে আমার নাম। আর সেখানে বিল্ডিং বাড়ির মালিককে দেয়া হয়েছে রেশন কার্ড। এভাবেই আমরা সব সময় বঞ্চিতই থেকে যাচ্ছি। এমনই আক্ষেপ আর কষ্টের কথা কান্নাজড়িত কন্ঠে জানিয়েছেন নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার কাশিরাম বেলপুকুর ইউনিয়নের চাপড়া কাশিরাম আলিম মাদরাসা সংলগ্ন কাশিরামপাড়া মেলের পাড় এলাকার অসহায় দরিদ্র মহিলা জান্নাতি বেগম (৩০)।

তিনি জানান, তার স্বামী দরিদ্রতার জন্য সুদুর চট্টগ্রামে গিয়ে রিক্সা চালিয়ে সংসার খরচ নির্বাহ করার চেষ্টা করেন। কিন্তু তাতেও কুলাতে না পাড়ায় আমি নিজে মানুষের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করি। নিজেদের কোন বাড়িঘর নাই। প্রতিবেশী এক ভাসুরের বাড়ির একটি ঘরে কোনরকমে মাথাগোজার ঠাই মিলেছে। সেখানেই একটি মেয়ে ও একটি ছেলেকে নিয়ে অনেক কষ্টে থাকি। চলতি বছরের প্রথম দিকে সরকারী দুস্থ সহায়তা প্রকল্প ভিজিডি’র জন্য অনলাইনে আবেদন করি। সে অনুযায়ী প্রাথমিক তালিকায় আমার নাম উঠে। কিন্তু পরবর্তীতে চুড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ দেয়া হয়। কিন্তু আমার প্রশ্ন কেন আমি বাদ পড়লাম? আমি কি এই সুবিধা পাওয়ার যোগ্য নই? না সংশ্লিষ্টদের চাহিদা মোতাবেক উপরি অর্থ দিতে না পাড়ায় আমার ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে?

তিনি বলেন, যাচাই বাছাই করতে কোন ব্যক্তিই আসেনি। আসলে তারা আমার প্রকৃত অবস্থা জানতে পারলে হয়তো এমন হতোনা। আর সঠিকভাবে তথ্য না নিয়েই কেন প্রশাসনের উর্ধ্বতন দায়িত্বপ্রাপ্তরা আমাকে বাদ দিলো? এর জবাব কে দিবে? অথচ এলাকার অনেক স্বচ্ছল ব্যক্তি সরকারী এসব সুযোগ সুবিধা নিয়ে দিব্বি দিন কাটাচ্ছে। সরকার কি এসব দুস্থের পরিবর্তে ওইসব সুবিধাবাদীদের জন্যই নির্ধারণ করেছে? যদি না করে থাকে তাহলে কেন আমরা প্রকৃত গরিব মানুষগুলো অন্যায়ভাবে বঞ্চিত হচ্ছি?

এ ব্যাপারে কাশিরাম বেলপুকুর ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের মেম্বার আব্দুল জলিলের সাথে কথা হলে তিনি জানান, ইতোপূর্বে আমি মেম্বার থাকাকালে জান্নাতি বেগমের দুরাবস্থা দেখে ভিজিডি’র কার্ডের জন্য তালিকাভুক্ত করেছিলাম। কিন্তু পরবর্তীতে গত ৫ বছর অন্যজন মেম্বার ছিলেন। তিনি সেই তালিকা অনুযায়ী এই দরিদ্র নারীর প্রতি সহানুভুতি দেখাননি। এবার নির্বাচিত হয়ে আবারও তার জন্য সুপারিশ করেছি। অনলাইন তালিকায় তার নাম ছিল। কিন্তু তারপর কেন যে তার নাম বাদ দেয়া হয়েছে তা আমি জানিনা। আসলে কিভাবে যে যাচাই বাছাই করা হয়েছে তা নিয়েই প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তা না হলে এমন দুস্থ মানুষ কি করে বাদ পড়ে।

ইউনিয়নের চেয়ারম্যান লানচু হাসান চৌধুরী বলেন, চেয়ারম্যান মেম্বাররা সঠিকভাবে অনলাইনকৃতদের মধ্যে থেকে যোগ্যদের জন্য সুপারিশ করেছি। কিন্তু উপজেলা প্রশাসন থেকে যাদের যাচাই বাছাই করতে দায়িত্ব দিয়েছিল তারা এক্ষেত্রে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন না করায় এমন হেরফের হয়েছে। তবে আমরা চেষ্টা করছি প্রকৃত যোগ্যদের নতুন করে অন্তর্ভূক্তি করার। আশা করি জান্নাতি বেগম তার অধিকার ফিরে পাবেন।
উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নুরুন নাহার শাহজাদী বলেন, চুড়ান্ত তালিকা এখনও হয়নি। এধরণের অনিয়মের কোন তথ্য আমাদের নজরে আসলে আমরা তা দ্রæত সমাধান করবো। যাচাই বাছাইয়ের ক্ষেত্রে কোন ধরণের অনিয়ম বা দায়িত্বাবহেলার প্রমান পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফয়সাল রায়হান তালিকা প্রণয়নে ত্রæটির কথা স্বীকার করে বলেন, কিছু কিছু ক্ষেত্রে মিসটেক হয়েছে। তবে সুনির্দিষ্টভাবে তথ্য পাওয়া গেলে তালিকা সংশোধন করে দুস্থদের সুবিধা প্রাপ্তি নিশ্চিত করা হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button