জীবনকে ছাড়াই কাতারে বাংলাদেশ দল

বাংলাদেশ ফুটবল স্কোয়াডের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার জীবন। নেপালের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক ফুটবল সিরিজের প্রথম ম্যাচে গোল ছিল তার। করোনা এখনকার অন্যতম সমস্যা হলেও টেস্টে নেগেটিভ এসেছে তার। তবুও বৃহস্পতিবার স্কোয়াডের সাথে কাতার যাওয়া হয়নি ঢাকা আবাহনীর এ ফরোয়ার্ডের। কারণ একটাই তার হাঁটুর ইনজুরি।
নেপালের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে হাঁটুতে চোট পেয়েছিলেন তিনি। গত পরশু রাতে এই ইনজুরির এমআরআই রিপোর্ট পেয়েছেন জীবন। রিপোর্টের ফলাফল অনুযায়ী ডাক্তারের পরামর্শ মতো এক সপ্তাহ পুরোপুরি বিশ্রামে থাকতে হবে তাকে। সম্পূর্ণ সুস্থ হতে সময় লাগবে তিন সপ্তাহের মতো, আর এ কারণেই দলের সাথে কাতার যাননি জীবন।
এদিকে পরশু রাতে করোনা পজিটিভ রেজাল্ট আসায় দলের সাথে রওনা হতে পারেননি ডিফেন্ডার মনজুরুর রহমান মানিক। অবশ্য কোচ জেমি ডে’র মতো আবারো করোনা টেস্ট হবে তার। দ্বিতীয়বার টেস্টের রেজাল্ট নেগেটিভ এলেই দলে যোগ দেবেন মানিক। তাকে ছাড়া কোচ জেমি ডে’কে খুঁজতে হবে মানিকের বিকল্প। তবে জীবনের বিকল্প নেয়া হবে না কাউকে।
জেমির মতে, জীবনের পজিশনে আমাদের পর্যাপ্ত খেলোয়াড় আছে। সিনিয়র দলের হয়ে এ পর্যন্ত পাঁচ গোল করেছেন জীবন। ২০১৬ সালের গোহাটি এস এ গেমসে অনূর্ধ্ব-২৩ ফুটবলে তিন গোল করেছেন তিনি। তবে বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে এখনো গোলের দেখা পাননি জীবন। শেষ মুহূর্তে কাতার যেতে না পারায় মন খারাপ এ স্ট্রাইকারের।
এ ব্যাপারে জীবন বলেন, ‘মন তো খারাপই, কিন্তু কি আর করার। ইনজুরির উপর তো কারো হাত নেই।’
এর আগে পেটের সমস্যার কারণে এবারের বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপেও খেলতে পারেননি তিনি। ঠাণ্ডা সমস্যার কারণে যোগ দিতে পারেননি বাংলাদেশ দলের ক্যাম্পেও।
এবারের সর্বশেষ লীগ আর ফেডারেশন কোপে চার গোল যোগ হয়েছে জীবনের খাতায়। ২০১৮-১৯-এর লীগ (১৭) ও এএফসি কাপ (৩) মিলে ২০ গোল করেন জীবন।
গত বছর ভুটানের প্রীতি ম্যাচে ভুটানের বিপক্ষে গোল পেয়েছিলেন ২টি। তবে তার অনুপস্থিতিতে এখন সুমন রেজা ও মাহাবুবুর রহমান সুফিলের উপরই আস্থা রাখতে হবে ফরোয়ার্ড লাইনে। সাথে তৌহিদুল আলম সবুজ তো রয়েছেনই। তবে মানিকের অভাবটা খুব বেশি অনুভব না হলেও ভাবিয়ে তুলছে জীবনের শূন্যতা।
এদিকে বৃহস্পতিবার কাতারে পৌঁছেই তিন দিনের কোয়ারেন্টাইনে চলে গেছে বাংলাদেশ দল। অবস্থান করছে হোটেল এজডান টাওয়ারে। কোয়ারেন্টাইনে থাকার সময় ব্যবহার করতে পারবেন হোটেলের জিম ও সুইমিংপুল। বৃহস্পতিবার দোহা বিমানবন্দরে পৌঁছার পরই বাংলাদেশ দলের সকল সদস্যের করোনা টেস্ট করাতে নমুনা নেয়া হয়।




