জিম্বাবুয়ের কাছে লজ্জার হার

সিলেটে রেকর্ড গড়ে জিততে পারলো না স্বাগতিক বাংলাদেশ। সেই সাথে রেকর্ড গড়া হলো না স্বাগতিকদে। প্রথম ইনিংসের পর দ্বিতীয় ইনিংসেও টাইগারদের ব্যাটিং ধস। ৩২১ রানের বিশাল লক্ষ্য নিয়ে ব্যাটিংয়ে নেমে দেড় দিন বাকি থাকতেই ১৬৯ রানে অলআউট টাইগারদের ইনিংস। ১৫১ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়ে পাঁচ বছর পর টেস্টে জয় পেলো জিম্বাবুয়ে।
১৭ বছর পর ঘরের মাঠে জিম্বাবুয়ের কাছে পরাজিত হল বাংলাদেশ। সর্বশেষ ২০০১ সালে চট্ট্রগামে ৮ উইকেটে হেরেছিল তারা। ২০১৩ সালে হারারেতে ৩৩৫ রানের হারের পর গত পাঁচ বছরে এই প্রথম জিম্বাবুয়ের কাছে টেস্টে পরাজিত হল টাইগাররা।
৩২১ রান তাড়া করতে নেমে ২৬ রান যোগ করে সাজঘরে ফিরেন ওপেনার ইমরুল কায়েস ও লিটন কুমার দাস। আজ চতুর্থ দিনের প্রথম আধ-ঘন্টা ভালোভাবেই দেখে শুনে খেলে পার করে দেন এই দুজন ওপেনার। কিন্তু স্কোর বোর্ডে ৩০ রান যোগ করার পরেই সিকান্দার রাজার বলে ড্রাইভ খেলতে গিয়ে মিস করে বসেন লিটন। আম্পায়ার রিচার্ড কাটেলবরো প্রথমে আউট দেননি। হ্যামিল্টন মাসাকাদজা রিভিউ নিলে দেখা যায় বল স্ট্যাম্পে আঘাত হেনেছে। সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে লিটনকে (২৩) আউটের সংকেত দেন আম্পায়ার কাটেলবরো।
এরপর ১১ রান পরেই জারভিসের বলে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন মুমিনুল হক (৯)।৬৭ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারায় বাংলাদেশ। আশা জাগিয়ে দলীয় ৮৩ রানে ফিরে যান ইমরুলও (৪৩)। সিকান্দার রাজার বলে সুইপ করতে গিয়ে আউট হন তিনি।
ইমরুল ফেরায় মধ্যাহ্ন বিরতির আগেই তিন উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকে বাংলাদেশ। সেখান থেকে দলকে টেনে তুলার অবস্থায় অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ, উল্টো ১০২ রানে আউট হয়ে দলকে আরও বিপদে ফেলে আসেন। সাকিবের অনুপস্থিতিতে বাংলাদেশের নেতৃত্বভার পড়েছে তার কাঁধে। কিন্তু দুই ইনিংসেই ব্যাট হাতে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন রিয়াদ। প্রথম ইনিংসে শূণ্য রান, দ্বিতীয় ইনিংসে করেছেন ১৬।
মধ্যাহ্ন বিরতির আগের বলে মাভুতার বলে মারতে গিয়ে রাজার হাতে ক্যাচ দিলেন নাজমুল হোসেন শান্ত। ১১১ রানে বাংলাদেশ হারালো পঞ্চম উইকেট। এই ম্যাচে হার এড়াতে অসম্ভব কিছু করতে হত টাইগারদের। কিন্তু সিলেটে অসম্ভব কিছু ঘটেনি। মধ্যাহ্ন বিরতির পর সেই পুরনো চেহারাতেই ফিরে আসে স্বাগতিকরা।
শান্ত আর মুশফিক উভয়কেই আউট করেন লেগস্পিনার মাভুতা। এরপর মেহেদী মিরাজ ফিরে যান ৭ রান করে। এবারও ঘাতক সেই মাভুতা। এরপর তাইজুল আর অপু শুন্য রানে আউট হয়ে ফিরে গেলে হারটা একেবারে নিশ্চিত হেয়ে যায় টাইগারদের। একটু লড়েছেন আরিফুল হক। প্রথম ইনিংসে অপরাজিত ছিলেন ৪১ রানে। দ্বিতীয় ইনিংসেও ৩৮ রান করেছেন অভিষিক্ত এই ক্রিকেটার। জিম্বাবুয়ের হয়ে মাভুতা ৪টি, রাজা ৩টি আর ওয়েলিংটন মাসাকাদজার নিয়েছেন ২টি উইকেট।
সংক্ষিপ্ত স্কোর-
জিম্বাবুয়ে ১ম ইনিংস: ১১৭.৩ ওভারে ২৮২
বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ৫১ ওভারে ১৪৩
জিম্বাবুয়ে ২য় ইনিংস: ৬৫.৪ ওভারে ১৮১/১০ (লিড ১৩৯)
বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংস: ৬১.১ ওভারে ১৬৯/১০ (টার্গেট ৩২১)




