
সোহেল রানা,সাভার : জাতীয় দৃষ্টি প্রতিবন্ধী সংস্থার প্রশাসক নিয়োগকে স্থগিত করেছে হাইকোর্ট। প্রশাসক নিয়োগের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিটের শুনানি শেষে আদালত একদিকে সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের প্রতি রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন কেন এই নিয়োগ বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, অন্যদিকে রুলের চূড়ান্ত শুনানি না হওয়া পর্যন্ত প্রশাসক নিয়োগের অফিস আদেশটি আগামী এক মাসের জন্য স্থগিত করেছেন, ফলে আপাতত ওই নিয়োগের কার্যকারিতা স্থগিত থাকবে।
জাতীয় দৃষ্টি প্রতিবন্ধী সংস্থার মহাসচিব মো: আইয়ুব আলী হাওলাদার প্রশাসক নিয়োগের বৈধতা চ্যালেঞ্জ ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চেয়ে রিট পিটিশন নং-৪১৫৯/২৬ দায়ের করলে গত ২১ এপ্রিল দুপুর ২টায় এ বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বাদীপক্ষে ব্যারিস্টার বি এম ইলিয়াস ও ব্যারিস্টার মাহবুবুর রহমান কিশোর শুনানি করেন এবং রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জমিলা মমতাজসহ সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলদের একটি দল রিটের বিরোধিতা করেন।
উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের পর সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের ২০ নম্বর বেঞ্চের বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত আদালত সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব, সহকারী সচিব, সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, উপ-পরিচালক এবং নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের চার সপ্তাহের মধ্যে জবাব দিতে নির্দেশ দেন এবং একই সঙ্গে প্রশাসক নিয়োগ স্থগিত রাখেন।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) হাইকোর্ট বিভাগের আদেশের পূর্ণাঙ্গ কপি হাতে পেয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করে বাদীপক্ষের আইনজীবী ব্যারিস্টার মাহবুবুর রহমান কিশোর মানবজমিনকে বলেন, আদালতের এই সিদ্ধান্তে তারা সন্তুষ্ট।
জানা যায়, জাতীয় দৃষ্টি প্রতিবন্ধী সংস্থার গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রতি তিন বছর অন্তর কার্যনির্বাহী পরিষদের নির্বাচন হওয়ার কথা থাকায় ২০২৫ সালের ২৫ নভেম্বর নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য সমাজসেবা অধিদপ্তরে আবেদন করা হয় এবং এর প্রেক্ষিতে ২০২৬ সালের ১৫ জানুয়ারি উপ-পরিচালক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিনকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার করে তিন সদস্যের নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়, যেখানে সদস্য হিসেবে ছিলেন মো: আব্দুল জব্বার ও মো: জহির উদ্দিন।
নির্বাচন কমিশন সংস্থার সদস্যদের সঙ্গে একাধিক মতবিনিময় সভা করেন এবং ২৬ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করে ৪ এপ্রিল নির্বাচন অনুষ্ঠানের তারিখ নির্ধারণ করেন, পাশাপাশি ভোটার তালিকা হালনাগাদ, আচরণবিধি প্রণয়নসহ বিভিন্ন প্রস্তুতিও চলতে থাকে; তবে ৩ মার্চ সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহ মোহাম্মদ মাহবুব চলমান একাধিক রিট মামলা ও আপিলের বিষয় উল্লেখ করে নির্বাচনী তফসিল স্থগিত করেন এবং ৫ মার্চ নির্বাচন কমিশনও আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন স্থগিতের ঘোষণা দেয়।




