Uncategorized

জমি নিয়ে বিরোধ:সাটুরিয়ায় বর্বর নির্যাতনের শিকার এক দম্পতি

আব্দুর রাজ্জাক, মানিকগঞ্জ : হাসপাতালের বেডে যন্ত্রনায় কাতরাচ্ছেন ২ সন্তানের জননী লিপি আক্তার। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে রয়েছে জখমের ক্ষত চিহৃ। পাশেই বসে অঝডে কাঁদছে তার স্বামী ফারুক। তার মাথায়ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে একাধিক স্থানে দেওয়া হয়েছে কমপক্ষে ২৫ টি সেলাই । এতেও ক্ষান্ত হয়নি হামলাকারী রফিক। হাসপাতালে ঢুকেও মামলা তুলে নিতে প্রাণনাশের হুমকী দিচ্ছে বলে জানায় ভুক্তভূগী পরিবারটি। এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রথমে স্বামীকে পরে তার স্ত্রীকে হাত পা বেঁধে বর্বর কায়দায় নির্যাতন চালানোর ঘটনাটি ঘটেছে সাটুরিয়ার কোমলপুর গ্রামে।
জানা গেছে, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে গত ২৫ আগস্ট কোমলপুর গ্রামের আঃ হাসিদের পুত্র ফারুক হোসেনের সাথে তারই ভাই আব্দুর রফিকের ঝগডা বাঁধে। এক পর্যায়ে রফিক ও তার সহযোগীরা ধারালো অস্ত্র ও লোহার রড দিয়ে ফারুক হোসেনের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে উপর্যপরী আঘাত করে। এতে রক্তাক্ত জখম হয়ে ফারুক মাটিতে লুটিয়ে পরলে অচেতন অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে সাটুরিয়া সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।
তার চিকিৎসা শেষ না হতেই মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ফারুকের স্ত্রী লিপি আক্তারকে তার বসত ঘর থেকে টেনে হিঁচডে বের করে হাত পা বেঁধে মধ্যযুগীয় কায়দায় বর্বর নির্যাতন চালায় রফিক ও তার সহযোগীরা। রাতেই লিপিকে স্থানীয়রা অচেতন অবস্থায় সেখান থেকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেক্সে ভর্তি করে। এসময় নির্যাতিত নারীর পোল্ট্রি খামার ভাংচুর করে প্রায় লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি করে।
হাসপাতালের কর্তব্যরত নার্স দুলালী রানী জানান, মেয়েটিকে (লিপিকে) অমানবিকভাবে আঘাত করা হয়েছে। তার যৌনাঙ্গ ও উরুতে রক্ত জমাট বেধে আছে ও বিভিন্ন স্থানের মাংস উঠে গেছে।
এদিকে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে রফিকের অনুসারী স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা উঠে পরে লেগেছে।
ফারুক হোসেন সাংবাদিকদের জানায়, জমি সংক্রান্ত দ্বন্ধে রফিক তার দলবল নিয়ে আমাকে ধারালো দা ও লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে আহত করে। এর এক সপ্তাহ পরে আমার অনুপস্থিতে অভিযুক্তরা আমার স্ত্রীকে হাত-পা বেধে বর্বর নির্যাতন করে বাড়ির উঠানে ফেলে রাখে। তারা আরো বলেছে যদি আমি বাডি যাই তাহলে প্রানে মেরে ফেলবে।
সাটুরিয়া থানার ওসি হাবিবুল­াহ সরকার ঘটনার সত্যতা জানান, এব্যাপারে মামলা দায়ের হয়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button