জঙ্গি দমনে গোঁজামিলের চেষ্টা করছে সরকার-বিএনপি

রাজধানীর কল্যাণপুরে নয় জঙ্গি নিহত হওয়ার ঘটনায় তীব্র সমালোচনা করেছে বিএনপি। দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী প্রশ্ন তুলেছেন, জঙ্গিদের জীবিত ধরা হচ্ছে না কেনো?
আজ শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, কেনো জঙ্গিবাদ দমনে গোঁজামিল দেয়া হচ্ছে? যা সত্য তা নিয়ে জনগণের মধ্যে তো কোনো হতাশা দেখা দেয় না। গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার ভূমিকা নিয়ে তো কোনো প্রশ্ন উঠেনি। কল্যাণপুরের ঘটনা নিয়ে সংশয়ের সৃষ্টি হয়েছে কেনো? এ ছাড়া সুন্দরবনকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচানোর জন্য যারা আন্দোলন করছে, তাদের ওপর পুলিশের হামলার নিন্দা জানান রুহুল কবির রিজভী।
গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন হয়। এসময় বিএনপির ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদার, গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া, চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শামসুদ্দিন দিদার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
সরকারের উদ্দেশে রিজভী বলেন, আপনাদের আচরণের কারণেই জঙ্গিবাদী অশুভ শক্তির উত্থান হচ্ছে। জঙ্গিদের জীবিত ধরা হচ্ছে না কেনো- এটা এখন জাতির প্রশ্ন। কেনো জিজ্ঞাসাবাদ করে জড়িত অন্যদের পাকড়াও করা হচ্ছে না?
দেশবিরোধী যেকোনো কাজে বিএনপি অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে ভবিষ্যতেও করবে জানিয়ে তিনি বলেন, আগে শোনা যেত, জঙ্গিবাদের সাথে মাদরাসার শিক্ষার্থীরা জড়িত। এখন দেখছি ধনি পরিবারের সন্তানরাও এসব কর্মকাণ্ডে যুক্ত হচ্ছে। সেক্যুলার সরকারের সময় কেনো এসব হচ্ছে?
তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর ১৯৭৫ পূর্ববর্তী কর্মকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে বিএনপি নেতা রিজভী বলেন, জঙ্গিবাদীরা যাকে অনুসরণ করতে পারে, সেই লোক আজকে সরকারের মুখপাত্র। সেই সন্ত্রাস, জঙ্গি এবং গণতন্ত্রের শত্রু হিসেবে তারা (হাসানুল হক ইনুরা) এক সময়ে কাজ করেছে। আজকে ইনুরা জঙ্গিবাদ দমনের নামে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বক্তব্য রাখেন। আজকে যদি কোনো দানব বা কোনো শৃগাল যদি মুরগীর নিরাপত্তার জন্য আফসোস করে, এটা যেমন উপহাসযোগ্য হবে, আজকে হাসানুল হক ইনু জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে কথা বলেন, এটাও উপহাসযোগ্য।
রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ প্রসঙ্গে বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, সরকার দেশ ও জনগণের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের মাধ্যমে প্রতিবেশী রাষ্ট্রের মনোবাসনাকে প্রাধান্য দিচ্ছে।
তিনি বলেন, এ সরকার কাদের সরকার? এ সরকার হচ্ছে নতজানু সরকার। ভিন্ন একটি শক্তির শুধু পদলেহন করতে গিয়ে, তাদের স্বার্থ রক্ষা করতে গিয়ে, তারা দেশকে জাহান্নামের দিকে ঠেলে দিতে দ্বিধা করছে না। একের পর এক অজানা চুক্তির মধ্য দিয়ে তারা দেশ বিক্রি করছে।
তিনি বলেন, দেশের বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ এবং সুন্দরবনের ক্ষতির বিষয়টি আমলে না নিয়ে সরকার অন্য একটি দেশের স্বার্থে রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করছে। এর অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের প্রতিবাদে আয়োজিত জনসমাগমে পুলিশ দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে। এ সরকার দেশের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। তারা দেশ বিক্রি করে দিচ্ছে।
রিজভী বলেন, অন্য একটি দেশের স্বার্থে মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়নে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় বসানো হয়েছে। দলটি এখন তাদের স্বার্থ বাস্তবায়ন করছে। রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের প্রতিবাদে বিক্ষোভকারী জনগণের ওপর হামলা সেটিই প্রমাণ করে।
রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করা হলে সুন্দরবন ধ্বংস হবে উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, এর ফলে প্রাকৃতিক ভারসাম্য হারিয়ে মরুভূমি হবে দেশ। দেশের প্রাকৃতিক বৈচিত্র ধ্বংস করতে সরকার তোড়জোর শুরু করেছে।




