রাজনীতিশিরোনাম

ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী শনিবার : আসছে কঠিন বার্তা

শিক্ষা, শান্তি ও প্রগতির পতাকাবাহী সংগঠন, জাতির মুক্তির স্বপ্নদ্রষ্টা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে গড়া, জীবন ও যৌবনের উত্তাপে শুদ্ধ সংগঠন, সোনার বাংলা বিনির্মাণের কর্মী গড়ার পাঠশালা বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। আর এ সংগঠনের ৭২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী শনিবার (৪ জানুয়ারি)।ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।
এদিকে, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের দেয়া হবে কঠিন বার্তা।
এ বিষয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ছাত্রলীগের বিতর্কিতদের দায় দল নেবে না। এছাড়া ছাত্রলীগের ৭২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বড় জমায়েতের পাশাপাশি অপকর্মে জড়িত ও বিতর্কিতদের জন্য বড় বার্তা আসতে পারে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, আবরার হত্যা এবং রাজশাহী পলিটেকনিকে অধ্যক্ষকে যে ছাত্রলীগ কর্মীরা অপমান করেছে এমন নেতা ও কর্মী আমাদের দরকার নেই।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে তিন দিনব্যাপী কর্মসূচী পালনের ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি। পুনর্মিলনীতে আমন্ত্রণ পাননি চাঁদাবাজিসহ নানা অভিযোগের কারণে অব্যহতিপ্রাপ্ত সাবেক দুই শীর্ষ নেতা। তারা হলেন সাবেক সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী। শোভন-রাব্বানীকে এ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ না জানানোর বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় বলেন, হাইকমান্ডের নির্দেশনায় তাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। পুনর্মিলনীতে সংগঠনের সাবেক নেতাকর্মীরা নতুন নেতাকর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা ও অভিজ্ঞতা বিনিময় করবেন। এছাড়া প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচী, পতাকা উত্তোলন এবং কর্মীদের ওরিয়েন্টন অনুষ্ঠানের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। গতবছরের ১৪ সেপ্টেম্বর চাঁদাবাজিসহ নানা অভিযোগে ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীকে সংগঠন থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়।
অন্যদিকে, ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত শীর্ষ দুই নেতা বলছেন, সামনের সময়গুলোতে সাংগঠনিক তৎপরতা বাড়ানোর পাশাপাশি বছর জুড়ে চলবে বিভিন্ন ওরিয়েন্টশন। গেলো বছর টেন্ডার, চাঁদাবাজি, কমিটি বাণিজ্যের অভিযোগে ছাত্রলীগের শীর্ষ দুই নেতাকে অব্যাহতি দেয়া হয়। এছাড়াও সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীদের নানান অপর্কমের জন্য সমালোচনায় ছিলো সংগঠনটি। যাতে বিব্রত আওয়ামী লীগ নেতারাও।
বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য বলেন, একটি পরিবারের কোন সদস্য যদি অপরাধ করে তাহলে পুরো পরিবারই বদনামের স্বীকার হয়। তাই বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কোন কর্মী যদি অপকর্মে লিপ্ত থাকে তাহলে তা ছাত্রলীগ পরিবারের উপরই বর্তায়।
বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় বলেন, আবরার হত্যাকাণ্ড হওয়ার পর কিন্তু আমরা কাউকে বাঁচানোর চেষ্টা করিনি। যারা দোষী ছিল প্রত্যেককে আমরা বহিষ্কার করেছি। প্রশাসনকেও আমরা অনুরোধ করেছি তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য। আমরা সবসময়ই বলে এসেছি যেই কোন অন্যায় বা অপকর্মে লিপ্ত হবে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কখনই তাদের প্রশ্রয় দেবে না।
তবে, সংগঠনের সাবেক নেতারা মনে করেন ব্যক্তির দায় সংগঠনের উপর বর্তায় না।
বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি বাহাদুর ব্যাপারী বলেন, ২৭ বছরের নিচে যাদের বয়স তারাই ছাত্রলীগ করে, ফলে রাজনৈতিক অঙ্গনে তারা শিশুর ভূমিকায় আছে। ছোটরা ভুল করলে তা শোধরিয়ে নেয়াই আমাদের কর্তব্য। তারা প্রতিনিয়ত শোধরিয়ে যাচ্ছে, এভাবে সামনে এগিয়ে যাবে এটাই আমাদের প্রত্যয়।
এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি-সাধারণ সম্পাদককে কার্যকরী সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ঘোষণার ইঙ্গিতও দিয়েছেন আওয়ামী লীগ শীর্ষ নেতারা।
প্রসঙ্গত, ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি সময়ের দাবিতেই বাংলাদেশ ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠা করেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সময়ের প্রয়োজন মেটাতেই এগিয়ে চলা বাংলাদেশ ছাত্রলীগের। জন্মের প্রথম লগ্ন থেকেই ভাষার অধিকার, শিক্ষার অধিকার, বাঙালির স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠা, দুঃশাসনের বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থান, সর্বোপরি স্বাধীনতা ও স্বাধিকার আন্দোলনের ছয় দশকের সবচেয়ে সফল সাহসী সারথি বাংলাদেশ ছাত্রলীগ।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button