শিরোনাম

চাঁদপুর শহর রক্ষা বাঁধে ভাঙন, কাজে অনিয়মের অভিযোগ

চাঁদপুর শহররক্ষা বাঁধের পুরানবাজার হরিসভা এলাকায় মেঘনা নদীর ভাঙন দেখা দিয়েছে।
চাঁদপুর শহররক্ষা বাঁধের পুরানবাজার হরিসভার ৪৫ মিটার এলাকায় আবারও নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে মেঘনার ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে পুরো এলাকা। বুধবার রাত ১০টায় হঠাৎ করে ভাঙন দেখা দেয়। ভাঙনে একটি বৈদ্যুতিক পিলারসহ প্রায় ২০মিটার এলাকা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে কয়েকশ’ মানুষের বসতবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, মাদ্রাসাসহ হরিসভা মন্দির।
এদিকে ভাঙনরোধে কাজ শুরু করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা। তবে ঠিকাদারের কাজের মান নিয়ে অভিযোগ রয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের। নদীতে ডাম্পিংকৃত জিও টেক্সটাইল ব্যাগে যে পরিমাণে বালি ভরার কথা রয়েছে তা মানা হচ্ছে না। এতে করে নদী ভাঙনরোধ করা নিয়ে শঙ্কিত স্থানীয় বাসিন্দারা। যদিও ঠিকাদার ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।
পুরানবাজারের স্থানীয় বাসিন্দা বিমল চক্রবর্তী বলেন, গত বুধবার রাত সাড়ে ৯টায় দিকে হঠাৎ করে নদীভাঙন দেখা দেয়। নদীর ঢেউ ও ঘূর্ণিপাতের প্রভাবে পাড় ভেঙে যাচ্ছে। এ সময় একটি বৈদ্যুতিক তারের খুঁটি নদীতে বিলীন হয়ে যায়। ওই স্থানের বিদ্যুৎ ও গ্যাসের লাইন বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। স্থানীয় অনেক মানুষ ভয়ে তাদের আসবাবপত্র অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, গত কয়েক মৌসুম যাবৎ আমাদের এলাকাটি মেঘনার ভাঙনের শিকার হচ্ছে। গত বর্ষায় নদীভাঙনে হরিসভা এলাকার অন্তত ৩০টি পরিবার তাদের বসতভিটা হারিয়েছে। এই বছর জুলাই মাসেও এই এলাকায় প্রায় ৪০মিটার এলাকায় ফাটল দেখা দেয় এবং ব্লক ও বালির বস্তা নদীতে দেবে যায়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেক বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন, প্রতিটি বালির বস্তায় আড়াই শ’ কেজি করে বালি ভর্তি করার কথা থাকলেও তা করা হচ্ছে না। মূলত পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগসাজশে এই অনিয়ম করে যাচ্ছে ঠিকাদারের লোকজন। প্রতিটি বস্তায় ৬ ওড়া ভর্তি বালি ভরার কথা থাকলেও দেওয়া হচ্ছে কোনোটাতে ৩ ওড়া কোনোটাতে ৪ ওড়া। বালির বস্তার ওজন দেওয়ার জন্য নেই কোন যন্ত্রপাতি। নিজেদের ইচ্ছে মত ব্যাগে বালি ভরে নদীতে ফেলা হচ্ছে। এভাবে কাজ করলে ভাঙন টেকানো সম্ভব হবে না। আমরা চাই আমাদের বাপ-দাদার ভিটে মাটি রক্ষার্থে স্থায়ীভাবে যেন নদীতে বাঁধ দেওয়া হয়।
তবে ঠিকাদার মো. তাফাজ্জল হোসেন পাটোয়ারি বলেন, এই কাজের মূল ঠিকাদার আমি হলেও অন্য আরেকজন সাব-ঠিকাদার কাজ করছে। আমার জানামতে এখানে কোন দুর্নীতি করা হচ্ছে না। কাজের মানদণ্ড ঠিক রেখে যথাযথভাবে করা হচ্ছে।
এ ব্যাপারে চাঁদপুর জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. বাবুল আখতার বলেন, কাজে কোন অনিয়ম হচ্ছে না। যারা অভিযোগ করেছেন তারা না জেনেই অভিযোগ তুলছেন।ইমার্জেন্সিভাবে কাজ করা হচ্ছে, এখানে যন্ত্র দিয়ে মেপে ব্যাগ ফেলার মত সময় নেই। তার পরেও কারো মনে যদি কোন সন্দেহ থেকে থাকে তবে আমরা যন্ত্র এনে মেপে তা পরীক্ষা করে দেখাতে পারবো।
বালির ব্যাগের ওজনের ব্যাপারে তিনি বলেন, আমরা চোখে দেখেই পরিমাপ করতে পারি ঠিক আছে কি না। এখানে অনিয়মের কিছু নেই। কাজ করতে গেলে কিছু ভুলত্রুটি হতে পারে। তবে কেউ যদি কোন অনিয়মের সঙ্গে জড়িত থাকে তবে তার বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের ব্যবস্থা করা হবে।
ভাঙনস্থল পরিদর্শনে গিয়ে চাঁদপুর সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী ব্যাপারী বলেন, চাঁদপুর শহর রক্ষায় সরকার বরাবরই উদার। শহররক্ষা বাঁধ টিকিয়ে না রাখা গেলে বিলীন হতে পারে পুরো অঞ্চল। তাই কোন ভাবেই কাজের মান নিয়ে আপোস করা যাবে না। এ জন্য আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট অনুরোধ জানাই তারা যেন সঠিকভাবে বাঁধ সংরক্ষণের কাজটি সম্পন্ন করেন। দেশ রূপান্তর

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button