ঘিওরে এক চতুর্থাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নেই শহীদ মিনার
আব্দুর রাজ্জাক, ঘিওর, মানিকগঞ্জ: ভাষা আন্দোলনের ৭১ বছর অতিবাহিত হবার পরেও মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলায় এক চতুর্থাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নেই শহীদ মিনার। শহীদদের স্মরণে অধিকাংশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক উচ্চ বিদ্যালয় ও মাদ্রাসা গুলোতে
শহীদ মিনার নির্মান করা হয়নি। ১৪০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শহীদ মিনার রয়েছে মাত্র ৩৭টিতে। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনোটিতে অস্থায়ীভাবে শহীদ মিনার বানিয়ে দিবসটি পালন করা হয়। আবার কোনো প্রতিষ্ঠানে দিবসটি পালনই করা হয় না। বিদ্যালয়গুলোতে শহীদ মিনার না থাকার দরুন ভাষা আন্দোলনের প্রকৃত ইতিহাস থেকে বঞ্চিত হচ্ছে শত শত শিক্ষার্থীরা।
জানা গেছে, উপজেলায় ৮৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ২২টি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ৩টি নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ২০টি কিন্ডারগার্টেন ও ১০টি মাদ্রাসা আছে। এর মধ্যে ১৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এবং ১৯ মাধ্যমিক উচ্চ বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার আছে। বাকি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নেই।

আমাদের অস্তিত্বের প্রতীক সেই ৫২’র ভাষা আন্দোলনে শহীদদের স্মরণে বিদ্যালয়গুলোতে শহীদ মিনার না থাকায় অভিভাবকরা ক্ষুদ্ধ। অমর ২১ ও আন্তজার্তিক মাতৃভাষা দিবসে শহীদদের স্মরণে শ্রদ্ধা জানাতে শিক্ষার্থীরা স্ব-স্ব বিদ্যালয়ে স্থায়ীভাবে শহীদ মিনারের দাবি জানালেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা নেয়নি।
গুটি কয়েকটি বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার থাকলেও বছরে বিভিন্ন জাতীয় দিবসে দু’ তিন বার পরিস্কার করা হয়। বাকি দিনগুলোতে কেউ খবর রাখেনা। অনেক শিক্ষার্থীরা অমর ২১ ফেব্রুয়ারি ও ভাষা আন্দোলনের শহীদদের অবদান সম্পর্কে তাদের নুন্যতম ধারনা নেই। দিবসগুলোতে কোন ধরনের আয়োজন করা হয়না।
সরজমিন উপজেলার বানিয়াজুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২১ ফেব্রুয়ারী দেখা যায়, সেখানে কোনো শহীদ মিনার নেই। ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ বাবুল মিয়া বলেন, ‘অর্থের অভাবে প্রতিষ্ঠানে স্থায়ী শহীদ মিনার তৈরি করতে পারিনি। উপজেলা চেয়ারম্যান, ইউনিয়নের সাবেক ও বর্তমান চেয়ারম্যানকে অবহিত করেছি। তারা আশ্বাস দিয়েছেন। একুশে ফেব্রুয়ারি এলে স্কুলের মাঠে অস্থায়ী শহীদ মিনার বানিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

সাইংজুরী বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নূর জান্নাত বলে, একুশে ফেব্রুয়ারির দিন স্কুল ছুটি থাকে। স্যার ও ছাত্ররা মিলে কলাগাছ, বাঁশ দিয়ে শহীদ মিনার বাননিয়ে আমরা সকালে ফুল দেই।’
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হাসিনা আক্তার পারভীন বলেন, সরকারিভাবে বরাদ্দ না থাকায় এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মাণ করা যাচ্ছে না। তবে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের শিক্ষক, অভিভাবক ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা ব্যক্তি উদ্যোগে শহীদ মিনার তৈরি করতে চাইলে আমরা যথাসাধ্য সহযোগিতা করবো।

ঘিওর সদর ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ অহিদুল ইসলাম টুটুল জানান, আমি এলজিএসি প্রকল্পের মাধ্যমে ৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মান করেছি। তবে বরাদ্দ পেলে পর্যায়ক্রমে শহীদ মিনার করার চেষ্টা করব।
বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক রনজিত কুমার রায় জানান, ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হলে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মান করা প্রয়োজন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হামিদুর রহমান জানান,নতুন প্রজন্মের নিকট ভাষা আন্দোলনের সঠিক ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে বিদ্যালয়গুলোতে শহীদ মিনার নির্মান করার জন্য দ্রুত একটি প্রকল্প তৈরী করে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।
উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, পরিকল্পনা করে পর্যায়ক্রমে সব প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মাণ করে দেওয়া হবে।


