sliderস্থানিয়

ঈদের আনন্দে সামিল বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুরা

শফিকুল ইসলাম সুমন,মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি : মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার কাটিগ্রামের ছোট্ট একটি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রাঙ্গণ শুক্রবার সকালে ভরে উঠেছিল শিশুদের কোলাহলে। কেউ উচ্ছ্বাস নিয়ে নিজের আনন্দ প্রকাশ করছিল, কেউ আবার তাদের কাছে থাকা প্যাকেটের ভেতর কী আছে তা দেখার আগ্রহে ব্যস্ত। 

ঈদুল আজহার দ্বিতীয় দিনে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন এসব শিশুর হাতে তুলে দেওয়া হয় কোরবানির মাংস ও ঈদ উপহারের প্যাকেট। আয়োজনটি করে ‘ব্লুমস বিশেষায়িত বিদ্যালয়’।

বিদ্যালয় সূত্র জানায়, প্রায় অর্ধশত শিশুর মধ্যে খাসির মাংস, সেমাই, চিনি, খিচুড়ির চাল, তেলসহ বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়। ঈদের আনন্দ থেকে যাতে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুরা বঞ্চিত না হয়, সেই ভাবনা থেকেই প্রতিবছরের মতো এবারও এ উদ্যোগ নেওয়া হয়।

মানিকগঞ্জের কাটিগ্রাম এলাকায় ২০১১ সালে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য ‘ব্লুমস বিশেষায়িত বিদ্যালয়’ প্রতিষ্ঠা করেন ২০১৬ সালে গুলশান হলি আর্টিজান জঙ্গি হামলায় শহীদ তৎকালীন গোয়েন্দা পুলিশের জ্যেষ্ঠ সহকারী কমিশনার (এসি) রবিউল করিম। তার মৃত্যুর পর নানা সঙ্কট থাকলেও থেমে থাকেনি বিদ্যালয়ের কার্যক্রম। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে প্রায় অর্ধশতাধিক বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের নিয়মিত পাঠদান, থেরাপি চিকিৎসা, নানা ধরনের প্রশিক্ষণ দেওয়াসহ বিভিন্ন সেবা পাচ্ছে। শিশুদের বাড়ি থেকে বিদ্যালয়ে আনা-নেওয়াসহ দুপুরের খাবারের ব্যবস্থাও করে প্রতিষ্ঠানটি।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্যরা জানান, শুরুতে অল্প কয়েকজন শিক্ষার্থী নিয়ে কার্যক্রম শুরু হলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ও ব্যয়, দুটিই বেড়েছে। বর্তমানে শিক্ষার্থীদের খাবার, শিক্ষকদের বেতন ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ মিলিয়ে প্রতি মাসে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা ব্যয় হয়। এর বড় একটি অংশ বহন করেন প্রয়াত রবিউল করিমের বন্ধু ও ব্লুমসের সদস্যরা। স্থানীয় মানুষের সহযোগিতাও রয়েছে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ব্লুমসের সভাপতি জিআর শওকত আলী, সদস্যসচিব ও প্রয়াত এসি রবিউল করিমের ভাই শামসুজ্জামান শামস, পরিচালক (প্রশাসন) নূর সিদ্দিকী, প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম, সদস্য মারুফ আহমেদ দুলালসহ স্থানীয় সাংবাদিক ও বিদ্যালয়-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

বিদ্যালয়ের সভাপতি জিআর শওকত আলী বলেন, মূলত ব্লুমসের সঙ্গে সার্বক্ষণিকভাবে জড়িত ছয়জন শুভাকাঙ্খীর দেওয়া ছয়টি খাসি কোরবানি দিয়ে প্রতিষ্ঠানটির বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাংস বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া চাল, সেমাই, তেল, চিনিও দেওয়া হয়েছে। সমাজের বিত্তবান মানুষ এগিয়ে এলে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্কটগুলো কাটিয়ে শহীদ রবিউলের স্বপ্ন পরিপূর্ণভাবে বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button