
নন্দিত গীতিকবি ও জ্যোতিষী কাওসার আহমেদ চৌধুরী আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। আজ রাত পৌনে ১০টায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। আগামীকাল বুধবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা নাগাদ আজিমপুর কবরস্থানে দাফন করা হবে এই গীতিকবি ও জ্যোতিষীকে। তার ছেলে আহমেদ শাফি চৌধুরী তথ্যটি গণমাধ্যমকর্মীদের নিশ্চিত করেছেন।
দীর্ঘদিন ধরে কিডনির সমস্যা ও রক্তের সংক্রমণসহ একাধিক শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন প্রবীণ এই গীতিকবি। এর আগে তিনি দুইবার স্ট্রোক করেন। তিনি করোনাতেও আক্রান্ত ছিলেন।
১৯৪৪ সালের ১৬ ডিসেম্বর জন্ম নেয়া আমৃত্যু সৃষ্টিশীল মানুষটি তাঁর অসামান্য জীবনের সমাপ্তি টানলেন আটাত্তরে দাঁড়িয়ে।
কাওসার আহমেদ চৌধুরী, দৈনিক পত্রিকায় সংখ্যাতত্ত্বের ভিত্তিতে সাপ্তাহিক ভবিষ্যৎবাণী প্রকাশের কারণে একটি প্রজন্ম তাঁকে ‘জ্যোতিষ’ বলেই ভেবে থাকেন। কিন্তু এ মানুষটি আদতে তা নন। তাঁর জীবন নিয়ে হতে পারে একটি অসামান্য চলচ্চিত্র, প্রকাশ হতে পারে অসাধারণ কোন গ্রন্থ।
স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন সময়ে তিনি বাংলাদেশ সরকারের অধীনে গোয়েন্দা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশে তাঁর মেধার প্রয়োগ আমরা দেখেছি সরকারী চাকুরে হিসেবে, শিল্পী হিসেবে, কবি হিসেবে এবং হাল সময়ে সংখ্যাতাত্ত্বিক হিসেবে। আশি ও নব্বইয়ের দশকে রচিত তাঁর গানগুলো সমৃদ্ধ করেছে আধুনিক ধারাকে। তাঁর মতো মেধাবী গীতিকবি খুব কম পেয়েছি আমরা।
পপসঙ্গীতের রথি-মহারথিরা খ্যাতি পেয়েছেন তাঁর গান গেয়ে, ক্ল্যাসিকাল গায়ক খ্যাত শিল্পীও অর্জন করেছেন সম্মান। কিন্তু, তিনি নিজেই একদিন জানিয়েছিলেন, ‘গীত রচনা মূলত একটি বেঈমান শিল্প’। অভিমান নয়, এটিই বাস্তবতা। বাংলাদেশের গীতিকবিদের মতো অবমুল্যায়িত মেধা খুব কম ক্ষেত্রেই পাওয়া যাবে।
কাওসার আহমেদ চৌধুরীকে নিয়ে বলা শেষ হবেনা, তিনি সেই প্রজন্মের মানুষ যারা তাঁদের সবটুকু মেধার প্রকাশের চেষ্টা করেছিলেন। আমরা কতটুকু নিতে পেরেছি সেটা জানা নেই। তাঁর জন্ম তারিখটি বাংলাদেশের সব’চে আনন্দের দিন, ১৬ ডিসেম্বর।
দেশের বেশ কয়েকটি ব্যান্ড ও সংগীতশিল্পীর জন্য গান লিখেছেন কাওসার আহমেদ চৌধুরী। তার জনপ্রিয় গানগুলোর মধ্যে ‘এই রুপালি গিটার ফেলে’, ‘আমায় ডেকো না ফেরানো যাবে না’, ‘যেখানেই সীমান্ত তোমার সেখানেই বসন্ত আমার’, ‘কবিতা পড়ার প্রহর এসেছে রাতের নির্জনে’ উল্লেখযোগ্য।




