আন্তর্জাতিক সংবাদশিরোনাম

খাটো পোশাক পরলেই জরিমানা!

নারীরা কী ধরনের পোশাক পরবেন এবং পরতে পারবেন না, সে বিষয়ে সরকার একটি আইনের খসড়া নিয়ে কম্বোডিয়ায় বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
এই আইন অনুযায়ী, প্রস্তাবিত ওই আইনে কোনো নারী শরীর দেখা যায় এ রকম পোশাক পরলে তাকে জরিমানা করার কথা বলা হয়েছে।
বিবিসি জানায়, জন-শৃঙ্খলাজনিত এই খসড়া আইনে নারীদের ‘খুব বেশি খাটো অথবা খুব বেশি খোলামেলা’ পোশাক পরার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। আইনটিতে পুরুষের খালি গায়ে থাকা নিষিদ্ধ করারও প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
সরকার বলছে, দেশটির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং সামাজিক মান-মর্যাদা রক্ষার উদ্দেশ্যে বিলটি আনা হয়েছে।
তবে সরকারের এই উদ্যোগ জানাজানি হওয়ার পর সেটা ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে। মলিকা টান (১৮) নামে এক তরুণীর উদ্যোগে প্রস্তাবিত এই আইনের বিরুদ্ধে একটি অনলাইন পিটিশন শুরু হয়েছে। আগস্টে শুরু হওয়া এই পিটিশনে এরই মধ্যে ২১ হাজারের বেশি মানুষ সই করেছেন।
মলিকা বলেন, ‘এ ধরনের একটি আইন করার উদ্যোগ নারীদের ওপর আক্রমণ। যে পোশাক পরতে আমার ভালো লাগবে, আমি সেই জামা কাপড় পরতে চাই। আমি চাই না সরকার এখানে কোনো সীমা বেঁধে দিক।’
আরও অনেক নারী মনিকার এই অবস্থানের সঙ্গে একমত প্রকাশ করে সামাজিক মাধ্যমে নিজেদের ছবি পোস্ট করে প্রশ্ন ছুড়ে দিচ্ছেন- ‘এই জামা পরার জন্য কি আমার জরিমানা হবে?’ তারপর সেগুলো ছড়িয়ে পড়ছে #mybodymychoice এই হ্যাশট্যাগের মাধ্যমে।
জানা গেছে, দেশটিতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নারীরা খোলামেলা বা শরীর দেখা যায় এমন পোশাক পরলে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ‘যথাযথ’ পোশাক না পরলে গানের শিল্পী ও অভিনেত্রীদের অনুষ্ঠান নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
এছাড়াও খসড়া আইনটিতে যারা ‘মানসিক প্রতিবন্ধী’ তাদের ‘জনসমক্ষে অবাধ’ হাঁটাচলার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। নিষিদ্ধ করতে বলা হয়েছে সব ধরনের ভিক্ষাবৃত্তি।
এমনকি কোনো একটি জায়গায় জড়ো হওয়ার আগে কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অনুমতি নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
মানবাধিকার সংগঠন কম্বোডিয়ান সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটসের নির্বাহী পরিচালক চাক সোপিপ বলেছেন, বিলটি পাস হলে সমাজের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ওপর সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়বে।
সরকারের মন্ত্রীরা এবং জাতীয় পরিষদ বিলটি অনুমোদন দিলে এটি কার্যকর হবে আগামী বছর।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ওক কিমলেখ এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি বলেছেন, ‘এটি এখন খসড়া পর্যায়ে আছে।’
তবে মানবাধিকার আন্দোলনের নেতা চাক সোপিপের আশঙ্কা, জনগণের দিক থেকে চাপ দেওয়া না হলে কোনো ধরনের যাচাই-বাছাই ছাড়াই হয়তো বিলটি পাস হয়ে যেতে পারে। দেশ রূপান্তর

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button