শিরোনাম

ক্যাম্পে অস্ত্রধারীদের মহড়া : মুন্না ও কালাম গ্রুপের কাছে জিম্মি রোহিঙ্গারা

আল ইয়াকিন নেতা মাস্টার আবুল কালাম গত ২৬ আগস্ট ‘নিখোঁজ’ হওয়ার ঘটনায় আরাকান রোহিঙ্গা সলভেশন আর্মি (আরসা) ও আল ইয়াকিন গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ শুরু হয়। এরই জের ধরে ৭ সেপ্টেম্বর আরসা গ্রুপ ত্যাগকারী মুন্নার দুই ভাই মাহমুদুল হক ও ফরিদকে উত্তেজিত রোহিঙ্গারা কুপিয়ে হত্যা করে। নিখোঁজ রয়েছেন মুন্নার বাবা দ্বীন মোহাম্মদ ও আরেক ভাই ওমর ফারুক। প্রতিশোধপরায়ণ এসব রোহিঙ্গার মধ্যে দা-কুড়াল সম্পর্কের কারণেই পরিস্থিতি দিনে দিনে অবনতি হচ্ছে বলে দাবি করেছেন কুতুপালং রোহিঙ্গা রেজিস্টার্ড ক্যাম্পের চেয়ারম্যান হাফেজ মাওলানা জালাল আহমদ। তিনি বলেন, মুন্না ও কালাম গ্রুপের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারপূর্বক আইনের হাতে সোপর্দ করা না হলে ক্যাম্পের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে না।
হাফেজ জালাল আহমদ আরো বলেন, মুন্না ও আবুল কালাম মূলত আরসা গ্রুপের নেতা। বিভিন্ন কারণে মুন্না দল ত্যাগ করে চলে আসার কারণে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। ক্যাম্পে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মুন্নার দুই ভাইসহ ১৪ দিনে ৯ জন নিহত ও ২০ জন রোহিঙ্গা গ্রেপ্তারের পরও ক্যাম্পের পরিবেশ স্বাভাবিক হচ্ছে না। সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে অস্ত্রধারী রোহিঙ্গাদের অবাধ বিচরণের কারণে সাধারণ রোহিঙ্গাদের প্রাণভয়ে নির্ঘুম রাত কাটাতে হয়। তিনি আরো বলেন, ২৯ বছর ধরে তারা কুতুপালং ক্যাম্পে বসবাস করছেন। তাদের কারণে প্রশাসন বা সরকারের কোনো ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়নি। অথচ নতুন করে আসা রোহিঙ্গাদের অযাচিত হস্তক্ষেপ, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ক্যাম্পে অস্থির পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক রোহিঙ্গা জানান, ইয়াবা চালানের ভাগবাঁটোয়ারাকে কেন্দ্র করে কালাম মাস্টারকে অপহরণ করা হয়। মুন্না কুতুপালং এলাকায় মারকাজ পাহাড়ে অবস্থান করলেও বর্তমানে প্রকাশ্যে আসছেন না। মুন্নার গ্রুপ দাবি করছে, আবুল কালাম মাস্টারের গ্রুপ মুন্নাকে অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে গেছে এবং তার দুই ভাইকে হত্যা করে বাড়িঘর জ্বালিয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে কালাম গ্রুপের দাবি, মুন্না গ্রুপের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা আবুল কালাম মাস্টারকে হত্যার উদ্দেশ্যে ধরে নিয়ে গেছে। কালাম-মুন্না ‘নিখোঁজ’ হওয়ার পর ক্যাম্পে ক্যাম্পে শুরু হয় দুই গ্রুপের সমর্থিত অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের তাণ্ডব। ভয়ে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে বলে দাবি করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন কমিটির নেতা পালংখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এম গফুর উদ্দিন চৌধুরী বলেন, গুটি কয়েক চাঁদাবাজ রোহিঙ্গা নেতার কারণে ৩৪টি ক্যাম্পের সাধারণ রোহিঙ্গারা জিম্মি হয়ে পড়েছে। এসব রোহিঙ্গাদের তালিকা করে আইনের আওতায় আনা না গেলে পরিস্থিতির আরো অবনতি হবে।
চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আনোয়ার হোসেন বলেন, ক্যাম্পে আধিপত্য বিস্তারের নামে কোনো প্রকার নৈরাজ্য করা চলবে না। ক্যাম্পে লুকিয়ে রাখা অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা হবে। কোনো অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না। উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ আহমেদ সনজুর মোরশেদ বলেন, ইয়াবার টাকা লেনদেন নিয়ে প্রতিদিন ক্যাম্পে সংঘর্ষ হচ্ছে। এদের আইনের আওতায় আনা হবে।
সুত্র : ইত্তেফাক

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button