কুষ্টিয়ায় ১৮টি রেড জোন এলাকায় লকডাউন চলছে

সংবাদদাতা, কুষ্টিয়া : কুষ্টিয়া জেলার অধিক করোনাকবলিত ১৮টি রেড জোনে পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী বৃহস্পতিবার সকাল থেকে লকডাউন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এসব এলাকায় আগামী ২১ দিন এ লকডাউন চলবে।
লকডাউনের অংশ হিসেবে এরই মধ্যে কুষ্টিয়া পৌর এলাকার ৪ নং ওয়ার্ডের গোশালা রোড, ৬ নম্বর ওয়ার্ডের হাউজিং ডি, এ ও বি ব্লক, ৭ নম্বর ওয়ার্ড, ১৮ নং ওয়ার্ডের পশ্চিম মজমপুরসহ বেশ কয়েকটি এলাকা এবং ভেড়ামারা পৌর এলাকার নওদাপাড়া ও ষোলদাগ এলাকার বেশ কয়েকটি রাস্তা প্রবেশ মুখে বাঁশ দিয়ে ব্যারিকেড তৈরী করা হয়েছে, যাতে ওই এলাকায় কেউ বাইরে থেকে প্রবেশ বা বাইরে বের না হতে পারে। একই সাথে ওই এলাকায় ওষুধের দোকান ছাড়া সব ধরনের দোকান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে।
কুষ্টিয়া সদর জুবায়ের হোসেন চৌধুরী ও ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা সোহেল মারুফ জানান, আজকের মধ্যেই রেড জোন ঘোষিত সবগুলো এলাকায় একই ধরণের ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে এসব পরিবারে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের যোগানের ব্যবস্থা করা হবে। তবে সরেজমিনে আজ শুক্রবার সকালে কুষ্টিয়ায় তার বাস্তবায়ন চোখে পড়েনি।
এর আগে গত ১৪ দিনে করোনা রোগী শনাক্তের সংখ্যার ভিত্তিতে ওয়ার্ডগুলোকে তিন শ্রেণীতে ভাগ করা হয়। তার মধ্যে কুষ্টিয়া পৌরসভার ১নং ওয়ার্ড (থানাপাড়া ও কমলাপুর), ২নং ওয়ার্ড (কুঠিপাড়া), ৫নং ওয়ার্ড (চৌড়হাস, ফুলতলা), ৬নং ওয়ার্ড (হাউজিং), ৭নং ওয়ার্ড (কালিশংকরপুর), ১৬ ং ওয়ার্ড (বাড়াদী ও কমলাপুর), ১৮নং ওয়ার্ড (মজমপুর ও উদিবাড়ী) এবং ২০নং ওয়ার্ড (কুমারগাড়া ও চেঁচুয়া) ও শহর লাগোয়া হাটশ হরিপুর ইউনিয়ন রেড জোন ঘোষণা করা হয়।
অন্যদিকে, ভেড়ামারা পৌরসভার রেড জোন এলাকাগুলো হলো ১নং ওয়ার্ড ফারাকপুর, ২নং ওয়ার্ড ফারাকপুর ও নওদাপাড়া, ৩নং ওয়ার্ড নওদাপাড়া, ৪নং ওয়ার্ড নওদাপাড়া ও পূর্ব ভেড়ামারা, ৬নং ওয়ার্ড কলেজপাড়া, ৮নং ওয়ার্ড কুঠিবাজার, ও ৯নং ওর্য়াড বামনপাড়া। এছাড়াও চাঁদগ্রাম এবং বাহিরচর ইউনিয়নকে রেড জোন ঘোষণা করা হয়েছে।
এখন পর্যন্ত কুষ্টিয়া জেলায় মোট করোনায় আক্রান্ত ৩০৭ জন। এ পর্যন্ত মারা গেছে দুইজন। তবে আক্রান্তদের মধ্যে ইতিমধ্যে ৭১ জন সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছেন।
রেড জোনের দ্বিতীয় দিনে আজ শুক্রবার সকালে শহরের রেড জোন এলাকা ও হাটশ হরিপুর ইউনিয়ন এলাকায় সরেজমিনে দেখা গেছে মানুষজনের চলাচল একেবারেই কম। বিশেষ প্রয়োজনে এবং বাজারে কিছু মানুষ দেখা গেছে। বাজারে অধিকাংশ মানুষই মুখে মাস্কবিহীন। কুষ্টিয়া শহরের সকল দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। তবে সকাল ১০টা পর্যন্ত প্রশাসনের কোনো তৎপরতা চোখে পড়েনি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে রেড জোনের নিয়ম মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে প্রতিদিনই মাইকিং করা হচ্ছে।
এদিকে প্রতিদিনই জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভ্রাম্যমান আদালত বসিয়ে সরকারি বিধি-নিষেধ মান্য না করার অপরাধে অর্থদন্ডাদেশ দেয়া হচ্ছে।



