sliderস্থানিয়

কাজিপুরে বৃষ্টির কারণে কাঁচাবাজারে মূল্য বৃদ্ধি

মোঃ আব্দুর রব মনসুর,সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: বর্ষা মৌসুমে দেশের বিভিন্ন জায়গায় টানা বৃষ্টির কারনে সরবরাহ কম হওয়ার অজুহাতে সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলায় এক সপ্তাহের ব্যবধানে সবজির দাম কেজিপ্রতি ২০ টাকা থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ২০০ টাকায়। ২/৩ টি সবজি ছাড়া প্রায় সব ধরনের সবজির দামই বেড়েছে।

২৩ জুলাই (বৃহস্পতিবার) পৌরসভা ও কয়েকটি সবজি বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়। কয়েকজন ব্যবসায়ি জানান, কয়েক দিনের বৃষ্টির কারণে সবজি আড়তে সবজির সরবরাহ কমে যাওয়ায় প্রায় সব ধরনের সবজির দাম বেড়েছে। কৃষকরা তাদের সবজিবাহী পিক-আপ, রিকসা ভ্যান আড়তে পৌঁছাতে দেরি হওয়ায় চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অনেকটা কমে গেছে। ভারী বৃষ্টিতে অনেক এলাকার সবজির খেত পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ৪০ শতাংশ উৎপাদনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর কারনে বাজারে সরবরাহ অর্ধেকে নেমেছে বলে জানা যায়।

কাজিপুর পৌরসভা, সোনামুখী মাথাইচাপড়, শিমুলদাইড়, গান্ধাইল ও মেঘাই সবজি বাজার ঘুরে দেখা যায়, পেটল ৫০-৬০ টাকা, করলা ৫০-৬০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৪০ টাকা কেজি, ঢেঁড়শ ৫০ টাকা কেজি, পুঁইশাক, মুলাশাক ৩০ টাকা কেজি, বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে। করলার দাম ৮০ টাকা, পটোল ৬০ টাকায়, ঢেঁড়স ৮০ টাকায়, ঝিঙা ৭০ টাকা, শসা ১০০ টাকা, কাঁচা মরিচ ২০০ টাকা, লাউ ৫০ টাকা, সবজি ৩০-৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহ খানিক আগের তুলনায় এসব সবজির দাম প্রতি কেজিতে ২০ টাকা থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। গত ৭ দিন আগেও একেকটি লাউ বিক্রি হয়েছে ২০ টাকায়, কিন্তু বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে আকার ভেদে ৫০ টাকায়। প্রতি কেজি পেঁপে বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়, গাজর ১৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ডিম ৪৫ টাকা হালি, সোনালী মুরগী ৩০০ টাকা, ব্রয়লার মুরগী ২০০ টাকা। আর দেশি মুরগী ৪৫০-৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস সারে ৭০০ টাকা আর খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ৯০০ টাকা থেকে ১০০০ টাকা কেজি দরে।

কাজিপুর পৌর সবজি বাজারের শহিদুল হোসেন নামের এক সবজি বিক্রেতা জানান, কয়েকদিনের বৃষ্টির কারণে কাজিপুরের সবজির সরবরাহ হয়েছে এবং হচ্ছে প্রায় অর্ধেক। যেসব এলাকায় সবজির চাষাবাদ বেশি, সেসব এলাকা বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় আবাদ হয়েছে প্রায় অর্ধেক। আর একারনেই সবজির সংকট দেখা দিয়েছে। তবে বৃষ্টির পানি শুকিয়ে গেলেই সবজির দাম কমতে পারে বলে জানান তিনি। এক মহিলা ক্রেতা বলেন, সরবরাহ সংকটের কথা বলে কিছু ব্যবসায়ী দিগুণ মুনাফার জন্য সবজি প্রতি ২০ টাকা থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেশি নিচ্ছেন। ফলে নিম্ন মধ্য বিত্ত ক্রেতাদের নাভিশ্বাস অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button