মোঃ আব্দুর রব মনসুর: সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: বর্ষার শেষ সময়ে সিরাজগঞ্জের চরাঞ্চল ও বিভিন্ন এলাকায় মরিচ চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। কম সময়ে ফলন, কয়েক দফায় ফসল সংগ্রহ এবং বাজারে সারা বছর ভালো চাহিদা থাকায় এ অঞ্চলের কৃষকদের কাছে মরিচ অন্যতম লাভজনক ফসল হয়ে উঠেছে। উর্বর পলিমাটি ও অনুকূল আবহাওয়ায় এবার মরিচের বাম্পার ফলন ও ন্যায্যমূল্য পাওয়ায় চাষিদের মুখে হাসি ফুটেছে।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, জেলার ৯টি উপজেলায় প্রায় ১ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে মরিচ আবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে চৌহালী, বেলকুচি, কামারখন্দ, কাজিপুর ও সদর উপজেলার চরাঞ্চলগুলো মরিচ চাষের জন্য প্রধান হিসেবে বিবেচিত। সাধারণত রোপা আমন ধান কাটার পর রবি মৌসুমে দেশীয় ও হাইব্রিড জাতের মরিচের চাষ করা হয়ে থাকে।
জেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের খরিফ-১ মৌসুমে জেলায় ২৫১ হেক্টর জমিতে ২ হাজার ৮৬৯ মেট্রিক টন মরিচ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ইতিমধ্যে ১৭৫ হেক্টর জমির ফসল তোলা হয়েছে, যাতে মোট ১ হাজার ৯৪৫ টন মরিচ উৎপাদিত হয়েছে। চলতি মৌসুমে অতিরিক্ত বৃষ্টি ও আর্দ্রতার কারণে কিছু ক্ষতি হলেও কৃষি বিভাগের সময়োপযোগী পরামর্শ ও সহযোগিতায় কৃষকেরা তা সফলভাবে প্রতিরোধ করেছেন।
মাঠপর্যায়ের কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, সদর উপজেলার কাওয়াকোলা ইউনিয়নের কৃষক আব্দুল হাই হাইব্রিড মরিচ চাষ করে অল্প সময়ে অধিক ফলন পেয়েছেন। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এসব মরিচ ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হচ্ছে। কাজীপুর ইউনিয়নের খুন্দবান্দী গ্রামের কৃষক আনোয়ার জানান, উৎপাদন ও পরিচর্যায় খরচ হলেও বর্তমান বাজারে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ৮০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া গান্ধাইল ইউনিয়নের উদগাড়ীগ্রামের কৃষক রঞ্জু মাত্র ৫ শতাংশ জমিতে ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা খরচ করে ধানের চেয়ে অনেক বেশি লাভ পেয়েছেন। এতে উৎসাহিত হয়ে তিনি আগামীতে মরিচের আবাদ আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা করছেন।
মরিচ চাষের সার্বিক বিষয়ে সিরাজগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) মোহাম্মদ রেজাউল হক এবং সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এস. এম. নাসিম হোসেন জানান, মাঠপর্যায়ে কৃষকদের সুস্থ-সবল চারা রোপণ, সুষম সার ব্যবহার এবং সঠিক পরিচর্যার বিষয়ে নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তাদের মতে, পরিকল্পিত চাষাবাদ ও সময়মতো বালাই দমন নিশ্চিত করা গেলে অতিবৃষ্টির ক্ষতি পুষিয়ে নিয়ে কৃষকেরা আরও ভালো ফলন ও কাঙ্ক্ষিত ন্যায্যমূল্য পাবেন।