তপন দাস, নীলফামারী: নীলফামারীর জলঢাকায় পৌরসভার হাটবাজারের উন্মুক্ত ইজারা ডাককে কেন্দ্র করে হামলা, ইজারায় অংশ নিতে বাধা এবং নগদ টাকা ও পে-অর্ডার ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা ও ইজারা প্রক্রিয়া পুনরায় সম্পন্ন করার দাবিতে সংবাদ সম্মেলনের পাশাপাশি মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন অভিযোগকারী ও তার সমর্থকেরা।
বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেলে জলঢাকা পৌর শহরের পেট্রোল পাম্প এলাকায় সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল জলঢাকা পৌর শাখার সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুল মালেক দুলাল। এ সময় সারোয়ার হোসেন ভুট্টু, রউফুল ইসলাম বাবু, শ্রমিক নেতা আলতাফ হোসেনসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
লিখিত বক্তব্যে আব্দুল মালেক দুলাল দাবি করেন, সরকারি রাজস্ব বৃদ্ধি ও হাটবাজারের উন্নয়নের লক্ষ্যে জলঢাকা পৌরসভা পূর্বঘোষণা অনুযায়ী বুধবার দুপুর ১২টায় উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে আগামী তিন মাসের জন্য হাটবাজারের উন্মুক্ত ইজারা ডাকের আয়োজন করে।
তার অভিযোগ, ইজারা ডাকে অংশ নিতে সকাল ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে উপজেলা পরিষদে প্রবেশের সময় সাবেক পৌর মেয়র ও সাবেক উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফাহমিদ ফয়সাল চৌধুরী কমেট এবং যুবদল সদস্য সচিব শাহিনুর হক বাবুর নেতৃত্বে ৫০ থেকে ৬০ জনের একটি দল তার ওপর হামলা চালায়।
আব্দুল মালেক দুলালের দাবি, এ সময় কয়েকজন তাকে মারধর করে তার মুঠোফোন কেড়ে নেন। পরে তার কাছে থাকা দুই লাখ টাকা নগদ এবং ১০ লাখ ৫০ হাজার টাকার পে-অর্ডার জোরপূর্বক নিয়ে নেওয়া হয়। এরপর তাকে একটি দোকানঘরে আটকে রাখা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও দাবি করেন, খবর পেয়ে উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ময়নুল ইসলাম ঘটনাস্থলে গেলে তাকেও হাট ইজারার উন্মুক্ত ডাকে অংশগ্রহণে বাধা দেওয়া হয় এবং একটি দোকানঘরে আটকে রাখা হয়।
অভিযোগকারী বলেন, ঘটনাটি জানিয়ে পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর সচিব আশরাফুজ্জামানকে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পরে নির্ধারিত হাটবাজারটি তুলনামূলক কম দরে তিন মাসের জন্য ইজারা দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে আব্দুল মালেক দুলাল বলেন, ঘটনাটি শুধু ব্যক্তিগত ক্ষতির বিষয় নয়, এর ফলে জলঢাকার শান্তিপূর্ণ পরিবেশও অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে। তিনি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং ইজারা প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
তিনি জানান, এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে জলঢাকা থানায় এজাহার দায়ের করা হয়েছে। একই সঙ্গে জলঢাকা পৌরসভার হাটবাজারের ইজারা প্রক্রিয়া পুনরায় উন্মুক্তভাবে সম্পন্ন করার দাবি জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলন শেষে আয়োজকরা তাদের দাবির পক্ষে জলঢাকা উপজেলার পেট্রোল পাম্প এলাকায় রংপুর মহাসড়ক অবরোধ করে কর্মসূচি পালন করেন। এ সময় তারা উপজেলা পরিষদ ও ইউএনও কার্যালয়ের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে ঘটনার প্রকৃত চিত্র বের করার দাবি জানান।
বিক্ষোভকারীদের ঘোষণা, ঘটনার প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার ও আইনানুগ ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
তবে সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।