
মোঃ আব্দুর রব মনসুর,সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জ জেলার কাজিপুর উপজেলায় সরকারি নীতিমালা উপেক্ষা করে বিভিন্ন স্থানে যত্রতত্র বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। এতে নদীতীর সংরক্ষণকাজ হুমকির মুখে পড়ার পাশাপাশি নদীতে নতুন চর সৃষ্টি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। এর ফলে আবাদি জমির পরিমাণও ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি।
কাজিপুর উপজেলা ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, বাংলা ১৪৩৩ সনের বালুমহাল ইজারার আওতায় কাজিপুর মৌজার আরএস খতিয়ান নং-১, আরএস দাগ নং-৭০০১-এর ১৯৪.১৭ একর জমির বালুমহাল মেসার্স মিম কনস্ট্রাকশন প্রতিষ্ঠান প্রায় ১ কোটি ৭৪ লাখ ৫০ হাজার টাকায় ইজারা গ্রহণ করে।
সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী, নদীতীর সংরক্ষণকাজ থেকে কমপক্ষে ৫০০ মিটার দূরে বালু সংরক্ষণ এবং ১,০০০ মিটার দূর থেকে বালু উত্তোলনের বিধান রয়েছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব নিয়ম উপেক্ষা করে নদীতীর ঘেঁষে প্রায় ৩৭টি স্থানে বালু মজুদ ও বেচাকেনা করা হচ্ছে। এছাড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে অনিয়ন্ত্রিতভাবে বালি উত্তোলন চলায় নদীতীর সংরক্ষণকাজ ঝুঁকির মুখে পড়ছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, অপরিকল্পিত বালি উত্তোলনের কারণে নদীতে স্বাভাবিকভাবে নতুন চর সৃষ্টি ব্যাহত হচ্ছে। ফলে কৃষিকাজের উপযোগী নতুন জমি সৃষ্টি না হওয়ায় আবাদি জমির পরিমাণ কমে যাচ্ছে।
এদিকে উত্তোলিত বালি পরিবহনের সময় সড়কে অতিরিক্ত ধুলাবালির সৃষ্টি হওয়ায় জনদুর্ভোগ বাড়ছে। ধুলার কারণে পথচারী ও যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে, দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে এবং শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন ধুলাবাহিত রোগের প্রকোপও বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী। এলাকাবাসী অবৈধ ও নিয়মবহির্ভূতে বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসনের কার্যকার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে কাজিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “বালু সংরক্ষণের ক্ষেত্রে কয়েকটি স্থানে নিয়ম না মানার বিষয়টি নজরে এসেছে। সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয়েছে। সতর্ক করার পরও যদি তারা নিয়ম না মানেন, তাহলে অবৈধ বালি উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



