
করোনাভাইরাসের ব্যাপক সংক্রমণ ঠেকাতে পাঁচ দিন সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। ফলে ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত টানা ১০ দিন ছুটি থাকবে দেশের সব সরকারি-বেসরকারি অফিস। ছুটি ঘোষণার পর ১ কোটি ১০ লাখ মোবাইল ফোন ব্যবহারকারী ঢাকা ছেড়েছেন। তাদের সঙ্গে আছেন ৪ লাখ ৮০ হাজার মানুষ, যারা বিদেশ থেকে দেশে ফিরছেন।
এ তথ্য জানিয়েছেন মোবাইল ফোন অপারেটরদের তথ্যের ভিত্তিতে ন্যাশনাল টেলিকম মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা।
এনটিএমসির ওই কর্মকর্তা বলেন, ১ কোটি ফোন ব্যবহারকারীর সঙ্গে তাদের শিশুসন্তান বা যাদের ফোন নেই, তাদের সংখ্যা যুক্ত করলে এ সংখ্যা অনেক হবে। এত বিপলসংখ্যক মানুষের মধ্যে কারও যদি করোনাভাইরাস থেকে থাকে, তাহলে সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে ভয়াবহ আকার ধারণ করবে।
২৩ মার্চ মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব আহমদ কায়কাউস সংবাদ সম্মেলন করে জানান, করোনাভাইরাসের কারণে ২৬ মার্চ থেকে আগামী ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সরকারি ছুটি থাকবে।
তিনি আরও জানান, ২৯ মার্চ থেকে ২ এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটি থাকবে। ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসের ও ২৭ ও ২৮ মার্চের সাপ্তাহিক ছুটিও যোগ হবে। এ ছাড়া ৩ ও ৪ এপ্রিল সাপ্তাহিক ছুটি এ ছুটির সঙ্গে যোগ হবে।
এই ছুটি ঘোষণার পরপরই মানুষ গ্রামে ছুটতে শুরু করে। বাস ও লঞ্চ টার্মিনালে ভিড় লেগে যায়। মহাসড়কে যানজটও হয়। করোনা ঠেকাতে সঙ্গনিরোধের যে পরিকল্পনা, তা মুখ থুবড়ে পড়ে।
জাতিসংঘের এক নথিতে বলা হয়েছে, এই সিদ্ধান্তের কারণে ‘খুব সম্ভবত ঝুঁকিপূর্ণ ও সংক্রমণশীল লোকজন সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে রোগের বিস্তার আরও ত্বরান্বিত হয়েছে।’
তবে নথিতে এও বলা হয়, ঢাকা থেকে লোকজন বের হয়ে যাওয়ায় রাজধানী শহরের ওপর কোভিড-১৯ রোগীদের বোঝা হয়তো কমেছে এবং তা দেশজুড়ে বিন্যস্ত হয়েছে।
পূর্বপশ্চিম




