বিনোদন

আমজাদ হোসেনের বিদায়ে এফডিসিতে কান্নার রোল

প্রখ্যাত নির্মাতা, গীতিকার, অভিনেতা আমজাদ হোসেনের প্রিয় কর্মক্ষেত্র এফডিসি। জীবনের কর্মময় সোনালী দিনগুলো তিনি সকাল থেকে রাত অবধি কাটিয়েছেন এখানেই। কত স্মৃতি, কত ছবি, কত শত আবেগমথিত দিন কেটেছে এই এফডিসিতে। জীবনের শেষের সময়টাও তিনি কাটিয়েছেন এখানে। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতিতে তাকে দেখা যেতো নিয়মিত। এফডিসির সাথে তার যেন নাড়ীর বাঁধন।
তিনি যেমন ভালোবাসা দিয়েছিলেন এই এফডিসিকে। পেয়েছেনও তেমন। এফডিসি, এফডিসির সহকর্মী থেকে শুটিং ফ্লোরের কংক্রিট বুকেও ছাপ আছে সেই ভালবাসার। বরেণ্য চলচ্চিত্রকারের বিদায় বেলায় তাকে দেখতে চিত্রপাড়া আজ লোকে লোকারণ্য। সবার চোখে মুখেই প্রিয়জন হারানোর বিষণ্ণতা, গাঢ় বেদনার ছাপ। আজকের পর যে এফডিসি আর দেখা পাবে না এই কর্মবীর প্রেমিকের। আর কোন আড্ডায় সরব হবেন না এ মেধাবী! সকলেরই চোখ তাই ভিজে ভিজে উঠছে। ভিজে যাচ্ছে এফডিসি পবিত্র অশ্রুতে।
আজ (২২ ডিসেম্বর) সকাল সোয়া ১১টা থেকে শহীদ মিনারে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বেলা সোয়া ১টায় আমজাদ হোসেনের মরদেহ নিয়ে আসা হয় এফডিসিতে। মরদেহ এখানে আসবে শুনে সকাল থেকে সাধারণ মানুষ ভিড় করতে থাকে এফডিসির গেটে। লাশ নিয়ে যাওয়ার পর এফডিসিতে তৈরী হয় হৃদয় বিদারক দৃশ্যের। কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন দীর্ঘদিনের সতীর্থরা।
গুণী এই মানুষকে শেষবারের মতো দেখতে জনতার ঢলের মধ্যে অশ্রুসজল চোখে দেখা গেলো চিত্রনায়ক আলমগীর, ফারুক, ববিতা, ইলিয়াস কাঞ্চন, চম্পা, সুচরিতা, এটিএম শামসুজ্জামানদের মতো গুণী অভিনেতাদের।
মান্না ডিজিটাল স্টুডিওর সামনে রাখা হয় আমজাদ হোসেনের মরদেহ। যেখানে আরও উপস্থিত হন এফডিসির এমডি, নির্মাতা গুলজার আহমেদ, সোহানুর রহমান সোহান, বদিউল আলম খোকন, পূর্ণিমা, চিত্রনায়ক রিয়াজ, জায়েদ খান, সাইমন ও আরিফিন শুভ সহ এফডিসি কেন্দ্রীক বিভিন্ন সংগঠনের নেতা-নেত্রীরা।
এ সময় নায়ক ফারুক বলেন, গ্রামীণ গল্প ও চিত্র ফুটে উঠতো আমজাদ হোসেনের নির্মাণে। যতদিন বাংলা চলচ্চিত্র থাকবে, ততদিন আমজাদ হোসেন আমাদের মাঝে বেঁচে থাকবেন।
ববিতা বলেন, আমজাদ হোসেন ইজ দ্য বেস্ট আইকন ইন আওয়ার ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি। নির্মাতা হিসেবে তিনি যেমন দুর্দান্ত ছিলেন, মানুষ হিসেবেও ছিলেন অমায়িক। তার ছবিগুলো হল থেকে সহজে নামতো না। তার ছবি গোলাপী এখন ট্রেনের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে সম্মাননা পেয়েছি।
নায়ক আলমগীর বলেন, যখন ছাত্র ছিলাম তখন থেকে আমজাদ হোসেনকে চিনি। আমি, জামান সাহেব, ঝন্টু, ইফতেখার সাহেব সপ্তাহে তিন-চার বসে গল্প, আড্ডায় মেতে থাকতাম। ওই আড্ডায় আমাদের শিক্ষক আমজাদ হোসেন। তার থেকে যতটুকু শিক্ষা পেয়েছি, বাকি পথচলায় ওই শিক্ষা কাজে লাগাবো।
ব্যাংককের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে গত ১৪ ডিসেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আমজাদ হোসেন। সেখান থেকে গতকাল শুক্রবার (২১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় আমজাদ হোসেনের মরদেহ আসে ঢাকায়।
আগামীকাল, রবিবার (২৩ ডিসেম্বর) সকাল ১১ টায় জামালপুর সদর হাইস্কুল মাঠে তার পঞ্চম জানাজা শেষে দাফন করা হবে স্থানীয় গোরস্থানে তার বাবার কবরে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button