অনাগত সন্তানের পিতৃ পরিচয়ের আশায় দ্বারে দ্বারে ঘুরছে অন্তঃসত্মা কিশোরী
নিজস্ব প্রতিনিধি, মানিকগঞ্জ: চার মাসের অন্তঃসত্বা এক কিশোরী(১৩). অনাগত সন্তানের পিতৃ পরিচয় স্বীকৃতির দাবীতে বিচারের আশায় দ্বারে দ্বারে ঘুরছে। এলাকার সমাজপতিরা ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার জন্য জোর চেষ্টা চালাচ্ছে। গণমাধ্যম কর্মীদের কোন প্রকার তথ্য না দেয়ার জন্য এ পরিবারটিকে নিষেধ করা হয়েছে। অসহায় পরিবারটিকে একটি প্রভাবশালী মহল এলাকা থেকে উচ্ছেদ সহ বিভিন্ন প্রকার হুমকি ধামকি দিচ্ছে। ঘটনাটি ঘটেছে সম্প্রতি ঘিওর উপজেলার রসুলপুর গ্রামে।
সরেজমিন গত সোমবার বিকেলে পরিদর্শন করে জানা গেছে, রসুলপুর গ্রামের দিনমজুর হত দরিদ্র রায়হান মিয়ার (রোহান) নাবালিকা কন্যার সাথে একই গ্রামের আওলাদ হোসেনের ছেলে আজম মিয়ার(১৫) সাথে দু’বছর ধরে গভীর প্রনয় ছিল। একপর্যায়ে তাদের দৈহিক সম্পর্ক গড়ে উঠলে সে গর্ভবতী হয়ে পড়ে। শারীরিক পরিবর্তন হতে থাকলে কিশোরী তার বাবা-মাকে বিষয়টি বলে দেয়। বাবা রোহান কোন উপায় না পেয়ে অবশেষে গ্রামের মাতব্বরদের কাছে বিষয়টি জানায়। গত ২ আগষ্ট রসুলপুর গ্রামের আঃ জব্বার মেম্বারের বাড়ীতে এক গ্রাম্য সালীশের আয়োজন করা হয়। অনেক তর্কবিতর্কের পরে জুরিবোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আওলাদের ছেলেকে ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা ও কিশোরীকে বিয়ের সিদ্ধান্ত দেয়া হয়। জুরিবোর্ডের দায়িত্বে ছিলেন, এলাকার মাতব্বর মাহমুদ আলী, জব্বার মেম্বার, জামাল মিয়া সহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। এ দিকে গত প্রায় এক মাস অতিবাহিত হওয়ার পর ওই কিশোরীর জরিমানার টাকা দেয়া হয়নি বলে একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়।
এ ব্যাপারে রসুলপুর গ্রামের মাতব্বর মাহমুদ আলী জানান, গ্রামবাসীর উপস্থিতিতে বিয়ের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। তবে মেয়ে ও ছেলের বয়স কম থাকায় কোর্টের মাধ্যমে বিয়ের ব্যবস্থা করা হয়। কাজেই পত্রিকায় লিখে কোন লাভ নাই। ইউ.পি সদস্য আঃ জব্বারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে আমি কিছু জানি না।
ঘিওর থানা অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, এ ব্যাপারে থানায় কোন অভিযোগ করা হয়নি। অভিযোগ পেলে সুষ্ঠ তদন্তের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
এলাকার লোকজন সুষ্ঠ তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য প্রশাসনের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।



