
পতাকা ডেস্ক: আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি’র চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেছেন, শুধু জুলাই সনদ না, ক্ষমতায় আসার পর বিএনপি সরকার তাদের ঘোষিত ৩১ দফা রাষ্ট্র মেরামত কর্মসূচি বাস্তবায়নের নীতিও মানছেনা। তাদের প্রাথমিক কার্যক্রমে মনেহচ্ছে ক্রমশ: তারা পুরোনো দলীয়করণ নীতিতেই চলছে এবং চলবে। আজ কনজুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) ও দৈনিক সমকাল এর যৌথ আয়োজনে “বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত সংস্কার: জনপ্রত্যাশা” শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি একথা বলেন। বৈঠকে বিএনপি’র ৩১ দফা রাষ্ট্র মেরামত কর্মসূচির ১৭ নম্বর দফা পাঠ করে তিনি বলেন; বিএনপি বলেছে, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ খাতে দায়মুক্তি আইনসহ সকল কালাকানুন বাতিল করা হবে এবং রাষ্ট্রীয় অর্থনীতিতে রক্তক্ষরণ রোধ করার লক্ষ্যে জনস্বার্থবিরোধী কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো থেকে বিদ্যুৎ কেনায় চলমান সীমাহীন দুর্নীতি বন্ধ করা হবে। বাস্তবে ৩১ দফার ১, ৮ ও ৯ নম্বর দফা শুরুতেই বিএনপি রক্ষা করেনি বলে তিনি অভিযোগ করেন ।
দৈনিক সমকালের সম্পাদক শাহেদ মোহাম্মদ আলী’র সঞ্চালনায় সভায় সূচনা বক্তব্য রাখেন ক্যাব-এর জ্বলানি উপদেষ্টা অধ্যাপক শামসুল আলম। বৈঠকে ধারনাপত্র তুলে ধরেন, ক্যাব-এর প্রতিনিধি শুভ কিবরিয়া। গোলটেবিলে অনলাইনে যুক্ত হন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, বক্তব্য রাখেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, সিপিডি’র গবেষক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম, বাসদের বজলুর রশীদ ফিরোজ, ক্যাব সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবীর ভূঁইয়া, এনসিপি, গনসংহতি আন্দোলন, সিপিবি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ রাজনৈতিক ও নাগরিক সমাজের নেতৃবৃন্দ।
মজিবুর রহমান মঞ্জু তাঁর বক্তব্যে আরও বলেন, বাংলাদেশে বিদ্যুতের চাহিদা ১৮ হাজার মেগাওয়াট কিন্তু বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ৩২ হাজারেরও বেশি উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন ইনফ্রাস্টাকচার তৈরী করা হয়েছে। এর পেছনে বছরে ৯১ হাজার কোটি টাকা ক্যপাসিটি চার্জের নামে দুর্নীতি করা হয়েছে। তিনি প্রশ্ন রাখেন, নির্বাচনে বড় বড় ঋণখেলাপিরা অংশ নিয়ে এমপি হবার পর তারা কীভাবে এই দুর্নীতি ও অপচয় থেকে দেশকে উদ্ধার করবে? তিনি বলেন এই সংসদকে আমরা পর্যবেক্ষণ করবো, তারা যদি রাষ্ট্রের সমস্যাকে প্রাধান্য না দিয়ে অতীতের মত অহেতুক রাজনৈতিক বিতর্ক নিয়ে সময় কাটায় তাহলে আমরা যারা নির্বাচনে জিততে পারিনি কিন্তু বিপুল সংখ্যক নাগরিকের সমর্থন পেয়েছি তারা একটি ছায়া সংসদ তৈরি করতে বাধ্য হবো। জনাব মঞ্জু বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ক্ষেত্রে দেশের সংকট সমাধান বিষয়ে জনগণকে সচেতন করে তোলার উপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ক্যাবের উচিত হবে শুধু সিভিল সোসাইটি বা রাজনীতিবিদদের নিয়ে মিটিং নয় এর পাশাপাশি সাধারণ জনগণ অর্থাৎ কনজুমারদের সচেতন করার জন্যও তারা উদ্যোগ নেবেন বলে আশাকরি।




