sliderস্থানীয়

গোয়াইনঘাট থেকে নিখোঁজ ৪ শিশু-কিশোর ভারত থেকে বাড়ি ফিরলো

মোঃ নিজাম উদ্দিন,সিলেট প্রতিনিধি: সিলেটের গোয়াইনঘাট থেকে নিখোঁজ হওয়া ৪ শিশু কিশোরকে মুলত ঢাকায় নিয়ে গার্মেন্টেস ফ্যাক্টরিতে চাকরি দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অপহরণ করে ভারতে নিয়ে যায় সাহাব উদ্দিন নামের এক প্রতারক। সাহাব উদ্দিন ভারতের ত্রিপুরায় পাচার করে দেয় ৪ শিশু কিশোরকে। আর সেখানে ৪ জনকে দিয়ে এক সপ্তাহ নির্যাতনের মাধ্যমে ভারী কাজ করানো হয়। পাচার হওয়া কিশোররা হলো দেলোয়ার হোসেন’র পুত্র রাজু মিয়া (১৯) ও সাজু মিয়া (১৫), জাহাঙ্গীর আলমের পুত্র ইমন আহমদ (১৮) ও রশিদ মিয়ার পুত্র সৌরভ (১৫)। ঢাকায় কাজ দেয়ার কথা বলে ফুসলিয়ে চার জনকে অপহরণকারী সাহাব উদ্দিন হাতির খাল গ্রামের সোনা মিয়ার ছেলে। সাহাব উদ্দিন তাদেরকে কুমিল্লা জেলার অতি নিকটবর্তী ভারতের আগরতলায় প্রথমে নিয়ে যায়। পরে তাদেরকে ত্রিপুরায় নিয়ে শ্রমিকের ভারী কাজ করায়। তাদের কাউকে পরিবারের সাথে কোন যোগাযোগ করতে দেয়া হয়নি। ১ সপ্তাহ পর খোজ নিয়ে পারিবারিকভাবে সাহাব উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে সে মুক্তিপন দাবী করে। পরে পরিবারের শিশু কিশোরদেরকে বাড়ি পাঠিয়ে দিতে তাকে ৫০ হাজার টাকা দেয়া হলেও তাদের ফিরিয়ে দেয়নি সে। এমতাবস্থায় শিশু-কিশোরদের পরিবারের পক্ষে রহিমা বেগম গোয়াইনঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ রফিকুল ইসলাম (পিপিএম) কে মৌখিকভাবে বিষয়টি অবহিত করলে গত রবিবার ঘটনার মূল হোতা সাহাব উদ্দিনের বাড়ীতে পুলিশ পাঠানো হয়। এবং সাহাব উদ্দিনের পরিবারকে ছেলেদের উদ্ধার করে দিতে বলা হয়।

পরিবারের উপর পুলিশের চাপের কারণে কিশোরদের ফিরিয়ে দিতে বাধ্য হয় সে। সোমবার সকালে ৪ শিশু কিশোরকে তাদের অভিভাবকের কাছে ফিরিয়ে দিয়ে আলোচনার এক পর্যায়ে পালিয়ে যায় সাহাব উদ্দিন।

মঙ্গলবার বিকাল ৪ টায় গোয়াইনঘাট থানায় নেয়া হয় উদ্ধার হওয়া শিশু-কিশোরকে। এসময় তারা থানায় আলাপকালে ফিরে আসা তিন জন জানায় স্হানীয় হাতিরখাল গ্রামের সাহাব উদ্দিন তাদেরকে ঢাকায় নিয়ে গার্মেন্টসে কাজ দেয়ার লোভ দেখিয়ে তাদেরকে ভারতে পাচার করেছে। সেখানে তারা যেভাবে নির্যাতিত হয়েছে তার বর্ণনা ও দিয়েছে তারা।গোয়াইন ঘাট থানার ওসি’র কৌশলের প্রচেষ্টার কারণে মায়ের কোলে ফিরে আসতে পেরেছে তারা। গোয়াইনঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ রফিকুল ইসলাম (পিপিএম) বলেন, ৪ শিশু-কিশোরকে পাওয়া যাচ্ছেনা এমন অভিযোগ পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে মৌখিক ভাবে জানানো হলে তিনি গুরুত্ব সহকারে উদ্ধার কাজ শুরু করেন। যেহেতু অপহরণকারীর বাড়ি ঘর ও তার আত্মীয়-স্বজনকে পাওয়া যাচ্ছে সে আলোকে কৌশলে উদ্ধার কাজ শুরু করায় তাদের উদ্ধার সম্ভব হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত হচ্ছে। পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কোন অভিযোগ দেয়া হয়নি। এ ব্যাপারে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button