সম্পত্তির জন্য দাদা-দাদির ওপর নাতির হামলা

ফেনীর ফুলগাজীতে সম্পত্তি বিরোধের জেরে দাদা-দাদির ওপর হামলা চালিয়েছে এক মাদকাসক্ত নাতি। উপজেলার মুন্সীরহাট ইউনিয়নের উত্তর আনন্দপুর গ্রামে আবদুল মজিদ মজুমদার বাড়িতে এ বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটে। নাতি সম্রাট আকবর মজুমদার পাপন সম্পত্তির লোভে নির্যাতন হামলা ও মারধর করে দাদা-দাদি, চাচা-চাচিকে ঘর থেকে বের করে দিয়েছে। এ সময় তার হামলায় দাদা-দাদি গুরুতর আহত হন। এ ঘটনায় এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পরে নাতির বিরুদ্ধে ফুলগাজী থানায় অভিযোগ করেন আবদুল মজিদ মজুমদার।
এলাকাবাসী জানান, উপজেলার উত্তর আনন্দপুর গ্রামের আবদুল মজিদ মজুমদারের চার ছেলে ও তিন মেয়ে। তিনি সংসারের অভাব গোছাতে জমি বিক্রি করে বড় ছেলে মোশারফ হোসেন শাহাব উদ্দিনকে সৌদি আরব পাঠান। পরে ছেলের টাকা ও অপর ছেলের রোজগারের টাকা দিয়ে ২০১৫ সালের ১২ ডিসিমেল জায়গার (নিজের সম্পত্তি) ওপর আট রুমের বিল্ডিং নির্মাণ করেন।
শাহাব উদ্দিন বিদেশ চলে গেলে তার ছেলে পাপন বাবার টাকায় ঘর করা হয়েছে বলে দাবি করে। পরে আবদুল মজিদ তার বড় ছেলে শাহাব উদ্দিনকে ৪০ শতাংশ জমি রেজিস্ট্রি করে দেন। কয়েক দিন পর আরও টাকা পাওয়ার অভিযোগ তুলে পাপন দাদা-দাদিসহ সবাইকে ঘর থেকে বের হওয়ার জন্য নির্দেশ দেয়। বিষয়টি শাহাব উদ্দিনকে জানালে তিনিও সবাইকে বের করে দেওয়ার জন্য ছেলেকে নির্দেশ দেন।
গত শুক্রবার আবদুল মজিদের ছোট ছেলে আবদুল কাইয়ুম বাড়িতে এলে পাপন তাকে ঘরে ঢুকতে বাধা দেয়। এক পর্যায়ে আবদুল মজিদ ও তার স্ত্রী আনোয়ারা বেগম এগিয়ে এলে তাদের ওপর হামলা করে গুরুতর আহত করে নাতি পাপন। এ সময় তাদের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে চিকিৎসার জন্য তাদের হাসপাতালে প্রেরণ করেন। আবদুল মজিদের চাচাতো ভাই মাহমুদুর রহমান ও তার স্ত্রী কল্পনা আক্তার এগিয়ে এলে তাদের ওপর চড়াও হয় পাপন। পরে পাপন ১৫ থেকে ২০ জন সন্ত্রাসী এনে কল্পনা আক্তারের ঘরে হামলার চেষ্টা চালায়। তিনি বাধা দিলে তার ছেলেকে তুলে নেওয়ার হুমকি দেয়। পাপন মাদকাসক্ত ছেলে, এলাকায় তার অত্যাচারে অতিষ্ঠ বলেও স্থানীয় প্রবাসী মোশারফ হোসেন জানান।
এদিকে কল্পনা আক্তার স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল আমিন ভূঁইয়াকে জানালে তিনি নিজে কিছু করতে পারবেন না বলে জানান এবং থানায় মামলা করার পরামর্শ দেন।
এ ব্যাপারে আবদুল মজিদের ছেলে আবদুল মান্নান জানান, তার মা-বাবা দু’জনেই অসুস্থ। এরই মধ্যে বড় ভাইয়ের ছেলে পাপনের নিষ্ঠুর নির্যাতনে মা-বাবা আরো অসুস্থ হয়ে পড়েছে। বিষয়টি সমাধান করার জন্য তার মামা স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল আমিনকে জানালে তিনি কোনো বিচার করেননি। এ ব্যাপারে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করছেন তিনি।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল আমিন ভূঁইয়া জানান, বিষয়টি তিনি জেনেছেন। পাপনের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশকে অবগত করা হয়েছে।
তবে অভিযুক্ত পাপন তার বিরুদ্ধে সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
ফুলগাজী থানার অফিসান ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ কুতুব উদ্দিন জানান, তিনি বিষয়টি অবগত আছেন। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। মানবজমিন




