রংপুর বিভাগের আট জেলায় ধান চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি

রংপুর প্রতিনিধি : অতিরিক্ত সময় বৃদ্ধি করেও রংপুর বিভাগের রংপুর, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, নীফামারী, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও এবং পঞ্চগড় জেলায় ধান চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি । বিভাগের আট জেলায় ধান সংগ্রহ হয়েছে ৩৩ হাজার ৪২২ দশমিক ৬৮০ মেট্রিক টন এবং চাল সংগ্রহ হয়েছে মোট এক লাখ ৭৬ হাজার ৫১৬ দশমিক ৭ মেট্রিক টন । অর্জিত চালের পরিমাণ লক্ষ্যমাত্রার শতকরা ৭৫ ভাগ হলেও ধান সংগ্রহ হয়েছে লক্ষ্যমাত্রার ৪ ভাগের মাত্র এক ভাগ।
রংপুর আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রকের দাবী- ধান চালের লক্ষ্যমাত্রা এবং সংগ্রহ সার্বিক দিক বিবেচনায় দেশের অন্যান্য বিভাগের চেয়ে রংপুর বিভাগ ধান চাল সংগ্রহের শীর্ষে রয়েছে। তবে চুক্তিবন্ধ হয়েও চাল দিতে যে সব মিলাররা ব্যর্থ হয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
রংপুর বিভাগীয় আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে- বিভাগে ধানের লক্ষ্যমাত্রা ছিল এক লাখ ৪২ হাজার ২১৭ মেট্রিক টন এবং চালের লক্ষ্যমাত্রা ছিল দু’ লাখ ৫৫ হাজার ৭৯০ মেট্রিক টন । এর মধ্যে সিদ্ধ চাল হচ্ছে দু’ লাখ ৩৬ হাজার ২২৮ মেট্রিক টন এবং আতপ চাল হচ্ছে ১৯ হাজার ৫৬২ মেট্রিক টন।
রংপুরে জেলায় ২৩ হাজার ২৮৮ মেট্রিক টন ধানের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ধান সংগ্রহ হয়েছে দু’ হাজার ৪৯১ দশমিক ৬৪০ মেট্রিক টন, সিদ্ধ চাল ২৯ হাজার ২৭৬ মেট্রিক টন এবং আতপ চাল এক হাজার ২৬ মেট্রিক টন। লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে সংগ্রহ হয়েছে যথাক্রমে ১৯ হাজার ৬২৬ দশমিক ২৪০ মেট্রিক টন এবং ১৮ দশমিক ৬শ মেট্রিক টন।
গাইবান্ধা জেলায় ২৩ হাজার ৮৬২ মেট্রিক টন ধানের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ধান সংগ্রহ হয়েছে ৮ জার ৭৯০ দশমিক ২শ মেট্রিক টন। সিদ্ধ চাল ২৩ হাজার ৬৮৩ মেট্রিক টন এবং আতপ চাল ১ হাজার ৬২৮ মেট্রিক টন লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছে যথাক্রমে ১৯ হাজার ৫৯৯ দশমিক ৬৩০ মেট্রিক টন এবং ১ হাজার ২৫১ দশমিক ১৫০ মেট্রিক টন।
কুড়িগ্রাম জেলায় ২০ হাজার ৭৫০ মেট্রিক টন ধানের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ধান সংগ্রহ হয়েছে ৭ হাজার ৩৮১ দশমিক ৩৬০ মেট্রিক টন। সিদ্ধ চাল ১৭ হাজার ১২৯ মেট্রিক টন এবং আতপ চাল ১ হাজার ৪৪৫ মেট্রিক টন লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছে যথাক্রমে ১৩ হাজার ৯৫৫ দশমিক ৩১০ মেট্রিক টন এবং ৭৮৩ দশমিক ৩৯০ মেট্রিক টন।
লালমনিরহাট জেলায় ৮ হাজার ৯৪৬ মেট্রিক টন ধানের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ধান সংগ্রহ হয়েছে ১হাজার ৩৩ দশমিক ৮৮০ মেট্রিক টন। সিদ্ধ চাল ১১ হাজার ৬৯৬ মেট্রিক টন এবং আতপ চাল ৩৯৩ মেট্রিক টন লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে যথাক্রমে সিদ্ধ চাল সংগ্রহ হয়েছে ৮ হাজার ১১৯ দশমিক ৯৮০ মেট্রিক টন এবং আতপ চাল সংগ্রহ হয়েছে ১৯ দশমিক ২৬০ মেট্রিক টন।
নীলফামারী জেলায় ১৬ হাজার ৭৯৮ মেট্রিক টন ধানের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ধান সংগ্রহ হয়েছে ১ হাজার ৬৮০ দশমিক ১২০ মেট্রিক টন। সিদ্ধ চাল ১৯ হাজার ৬১২ মেট্রিক টন এবং আতপ চাল ১ হাজার ১৫৪ মেট্রিক টন লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছে যথাক্রমে ১২ হাজার ৮৮৪ দশমিক ১৬০ মেট্রিক টন এবং ৭৩৭ দশমিক ৫৫০ মেট্রিক টন।
দিনাজপুর জেলায় ৩২ হাজার ৭২ মেট্রিক টন ধানের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ধান সংগ্রহ হয়েছে ৯ হাজার ১৫৩ দশমিক ৪০ মেট্রিক টন। সিদ্ধ চাল ৯১ হাজার ৭২৩ মেট্রিক টন এবং আতপ চাল ১৩ হাজার ৯২ মেট্রিক টন লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছে যথাক্রমে ৬৬ হাজার ৬৮৩ দশমিক ৬১০ মেট্রিক টন এবং ৯ হাজার ১২২ দশমিক ৭৬০ মেট্রিক টন।
ঠাকুরগাঁও জেলায় ১১ হাজার ৩০৯ মেট্রিক টন ধানের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ধান সংগ্রহ হয়েছে ২ হাজার ১৩২ দশমিক ৮শ মেট্রিক টন। সিদ্ধ চাল ৩২ হাজার ৮৬৭ মেট্রিক টন এবং আতপ চাল ৫শ ২৯ মেট্রিক টন লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে শুধু সিদ্ধ চাল সংগ্রহ হয়েছে ১৭ হাজার ৭২২ দশমিক ৭১০ মেট্রিক টন ।
পঞ্চগড় জেলায় ৫ হাজার ১৯২ মেট্রিক টন ধানের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ধান সংগ্রহ হয়েছে ৭৫৯ দশমিক ৬৪০ মেট্রিক টন। সিদ্ধ চাল ১০ হাজার ২৪২ মেট্রিক টন এবং আতপ চাল ২শ ৯৫ মেট্রিক টন লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে শুধু সিদ্ধ চাল সংগ্রহ হয়েছে ৫ হাজার ৯৯১ দশমিক ৭২০ মেট্রিক টন।
সরকার ২৬ টাকা কেজি দরে ধান সরাসরি কৃষকদের কাছে থেকে এবং ৩৬ টাকা দরে চাল চুক্তিবদ্ধ অটোরাইস মিল এবং হাসকিং মিলের কাছে সংগ্রহ করার জন্য গত ৩১ আগষ্ট পর্যন্ত সময় সীমা বেঁধে দেয় । কিন্তু নির্দিষ্ট শেষে ধান চাল সংগ্রহ সন্তোষজনক না হওয়ায় ১৫ দিন সময় বৃদ্ধি করে। কিন্তু অতিরিক্ত সময় বৃদ্ধি করেও ধান চালের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা সম্ভব হয়নি।
এজন্য কৃষিকাজের সাথে সংশ্লিষ্টদের অভিমত বৈশি^ক মহামারী করোনা এবং ৩ দফা বন্যা সহ বিভিন্ন কারনে মৌসুমের শুরু থেকে ধান চালের বাজার উর্ধ্বগতি থাকায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ে ধান চাল সংগ্রহ অভিযানে।
রংপুর আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক আব্দুস সালাম জানান, নানা সমস্যা সত্তে¡ও রংপুর বিভাগের ধান চাল সংগ্রহ সন্তোষজনক। অনেক বিভাগে ধান চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা অনেক কম। পাশাপাশি সংগ্রহ কম।
সেখানে এই বিভাগে লক্ষ্যমাত্রা অনেক বেশি। তিনি দাবি করেন এত প্রতিকুলতা সত্তে¡ও আমরা টার্গেটের শতকরা ৭৫ চাল ভাগ সংগ্রহ করতে পেরেছি।
উল্লেখ্য রংপুর বিভাগে ২৭২ টি অটো রাইস মিল এবং ৭ হাজার ৮০ হাসকিং মিল মালিকের সাথে চাল প্রদানের চুক্তি হয়েছিলো।




