আন্তর্জাতিক সংবাদশিরোনাম

উইঘুর নিপীড়ন: চীন থেকে টমেটো-তুলা কিনবে না যুক্তরাষ্ট্র

চীনের জিনজিয়াং প্রদেশ থেকে টমেটো ও তুলো আমদানি করবে না বলে ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
প্রদেশটির মুসলিম সংখ্যালঘু গোষ্ঠী উইঘুরদের ওপর চীন সরকারের নিপীড়নের অভিযোগ এনে এমন সিদ্ধান্ত নিল মার্কিন কর্তৃপক্ষ।
জিনজিয়াংয়ে উইঘুর মুসলিম শ্রমিকদের দিয়ে জোর করে কাজ করায় চীন। এই অঞ্চলে উইঘুরদের প্রচুর ডিটেনশন ক্যাম্প আছে। সেখানেই তাদের জোর করে কাজ করানো হয়।
ডয়চে ভেলে অনলাইন জানায়, তুলা, সুতো থেকে শুরু করে পোশাক এবং টমেটো পেস্ট, পাউডার ও টমেটো থেকে তৈরি হওয়া অন্য জিনিস পাওয়ার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র সমস্যায় পড়বে। দেশটিতে ওই সব জিনিসের দাম বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
মার্কিন আইন অনুসারে কোনো জিনিস জোর করে শ্রমের ভিত্তিতে তৈরি হয়েছে জানতে পারলে তা আটক করবে কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন বিভাগ (সিবিপি)।
সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে সিবিপি জানিয়েছে, চীনের তুলা এবং টমেটোয় আপাতত তারা রিলিজ অর্ডার দেবে না।
সংস্থাটির এক কর্মকর্তা ব্রেন্ডা স্মিথ বলেন, ‘আমাদের কাছে যুক্তিগ্রাহ্য প্রমাণ আছে, তবে তা নির্ণায়ক নয়। জিনজিয়াং থেকে আসা টমেটো ও তুলা ও তুলাজাত জিনিসের ক্ষেত্রে জোর করে শ্রমের ঝুঁকি সব সময়ই থাকে। আমরা তদন্ত চালিয়ে যাব।’
সিবিপি’র দাবি, তাদের হাতে যে প্রমাণ আছে তা থেকে বোঝা যাচ্ছে, শ্রমিকদের ঋণজালে বেঁধে ফেলা হচ্ছে। স্বাধীনভাবে যাতায়াত করতে দেয়া হচ্ছে না। ভয় দেখানো হচ্ছে। বেতন বন্ধ রাখা হচ্ছে। গালাগাল দেয়া হচ্ছে এবং তাদের জীবনযাপনের মানও খুব খারাপ।
সোমবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র জানান, জিনজিয়াংয়ে জোর করে শ্রমের কাজ বন্ধ করতে হবে চীনের ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টিকে।
যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, জিনজিয়াংয়ে ১০ লাখ উইঘুর মুসলিম যে বন্দিশিবিরে আছেন, তার উপযুক্ত প্রমাণ তাদের হাতে আছে। তাছাড়া উইঘুরদের ডিটেনশন ক্যাম্পে রাখার প্রমাণ তাদের হাতে আছে বলেও মার্কিন দপ্তরের দাবি।
বিশ্বের তুলো উৎপাদনের ২০ ভাগ করে চীন। আর তাদের ৮০ ভাগ তুলোর উৎপাদন হয় জিনজিয়াংয়ে। আর বিশ্বের মোট টমেটো উৎপাদনের দুই শতাংশ হয় চীনে। কিন্তু ২০১৫ থেকে টমেটোর উৎপাদন ও রপ্তানি দ্রুত বৃদ্ধি করছে দেশটি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button