নওগাঁ-৬ আসনের উপ-নির্বাচনে অংশগ্রহণ এখনো চূড়ান্ত করেনি বিএনপি

নওগাঁ প্রতিনিধি : গত ২৭ জুলাই বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নির্বাচিত এমপি ইসরাফিল আলম করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেলে এ আসনটি শূন্য হয়।
সংবিধান অনুযায়ী, কোনো আসন শূন্য হলে তার পরবর্তী নব্বই দিনের মধ্যে সিইসি তার ক্ষমতা প্রয়োগ করে পরবর্তী ভোটের আয়োজন করছেন।
আসন্ন নওগাঁ- ৬ (আত্রাই – রাণীনগর) উপ নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী দেবে কিনা বা আদৌ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে কিনা- এ নিয়ে এখনও সিদ্ধান্ত নেয়নি বিএনপির কেন্দ্রীয় ও জেলা কমিটি। ফলে উপ নির্বাচনে বিএনপির অংশগ্রহন অনেকটাই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
তবে জেলা বিএনপির সূত্র মতে, সাম্প্রতিক কালের দেশের সার্বিক নির্বাচনী পরিবেশ ও করোনা পরিস্থিতির কারণে নওগাঁ- (আত্রাই-রাণীনগর) উপ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা-না করা নিয়ে চিন্তাভাবনা, করছে দলটি। যদিও বিএনপির অনেক নেতা ইতোমধ্যে দলীয় পদে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়েছেন। দলীয় মনোনয়ন পেতে চেষ্টা-তদ্বিরও শুরু করেছেন তারা।
বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তারা হচ্ছেন- চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য লে. কর্ণেল (অব.) আব্দুল লতিফ খান, সাবেক প্রতিমন্ত্রী আলমগীর কবীর, বিএনপি’র জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আনোয়ার হোসেন বুলু, নওগাঁ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য শেখ আব্দুর শুকুর, আত্রাই উপজেলা বিএনপি’র সাবেক আহ্বায়ক শেখ রেজাউল ইসলাম রেজু,
জেলা তাঁতী দলের সভাপতি আলহাজ্ব এছাহক আলী, রাণীনগরের গোনা ইউপি’র সাবেক চেয়ারম্যান আমিনুল হক বেলাল সহ আরো একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী।
তবে স্থানীয় কর্মী-সমর্থকদের মাঝে আসন্ন নির্বাচন নিয়ে তেমন কোন উৎসাহ উদ্দীপনা নেই। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নেতা-কর্মী জানায়, নির্বাচনে সুষ্ঠু হবে ত!
এদিকে জেলা বিএনপির একাধিক নেতা জানায়, দীর্ঘদিন ধরে আমরা রাজনীতির মাঠের বাহিরে। তাই নির্বাচনে অংশগ্রহন জরুরি। কারন, কিছুটা হলেও নেতা-কর্মীরা উজ্জীবিত হবে।
এ বিষয়ে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাষ্টার হাফিজুর রহমান হাফিজ বলেন, বিএনপি নির্বাচন মুখী একটি দল। হাই কমান্ড থেকে কোন সিদ্বান্ত এখনও আসে নাই। এই সরকার ও নির্বাচন কমিশনের উপর জনগনের আস্থা নেই। দল যে সিদ্ধান্তগ্রহণ করবে তা বাস্তবায়ন করতে সকল নেতা কর্মি প্রস্তুত রয়েছেন।
জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি নজমুল হক সনি বলেন, হাই কমান্ড যদি সিদ্ধান্ত নেয় এই উপনির্বাচনে অংশ গ্রহণ করবে।সে ক্ষেত্রে সকল নেতা কর্মিরা ভোট যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়বে।
জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম ধলু বলেন, দলের এখনো সিদ্ধান্ত হই নাই যে উপ নির্বাচনে যাবে কিনা। যদি যায় সে ক্ষেত্রে আমরা মনে করি নওগাঁ-৬ আসন বিএনপির আসন। এই আসনে অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন হয় তাহলে বিএনপি ব্যাপক ভাবে জয় লাভ করবে।
জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মামুনুর রহমান রিপন বলেন, হাই কমান্ড থেকে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেই নাই। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে মধ্য রাতে ভোটডাকাতির মাধ্যমে ক্ষমতায় আসে সরকার। সেই কারণে অগণতান্ত্রিক সরকার উপর থেকে সাধারণ জনগন মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। দেশের মানুষ অবাধ নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন চাই। যদি অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় তাহলে বিএনপির পার্থী ধানের শীষ প্রতীকে বিপুল ভোটে জয় লাভ করবে। কারণ নওগাঁর মাটি বিএনপির ঘাঁটি।
উল্লেখ্য, আ’লীগের প্রার্থী ইসরাফিল আলম মারা যাওয়ার কারণে এই উপ নির্বাচন ।




