গাইবান্ধায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি : সাঘাটায় নদীভাঙ্গনে ভেসে গেছে মাদ্রাসা বাড়ি-ঘর

গাইবান্ধা প্রতিনিধি : গাইবান্ধার ব্রহ্মপুত্র, ঘাঘট ও করতোয়া নদীর পানি শনিবার পর্যন্ত এখনও বিপদসীমার অনেক উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি অবনতি অব্যাহত রয়েছে। করতোয়া নদী তীরবর্তী এলাকা পলাশবাড়ি ও গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে।
দীর্ঘদিন পানিবন্দী থাকায় শুকনো খাবার, গবাদি পশুর খাদ্য সংকট, জ্বালানি, পয়ঃনিস্কাশন ও বিশুদ্ধ পানির অভাবে বন্যা কবলিত এলাকার পরিবারগুলো চরম দুর্ভোগে দিন যাপন করছে। বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধে আশ্রিত পরিবারগুলো একই কারণে নানা দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। অপরদিকে সাঘাটার সীমান্তবর্তী যমুনার করাল স্রোতে ও হঠাৎ নদীভাঙ্গন বৃদ্ধি পেয়ে ৭২ ঘন্টার ব্যবধানে ভেসে গেছে হলদিয়া ইউনিয়নের কালুরপাড়া গ্রামের শতাধিক পরিবারের বাড়িঘর ও কালুরপাড়া এবতেদায়ী মাদ্রাসার ঘর । অনেকেই তাদের বাড়িঘর ভাঙ্গনের শিকার হলে আবার নতুন কোন জেগে ঊঠা চরে ঘরগুলি রেখে দিচ্ছে। আবার অনেকেই পাশেই সাঘাটা ওয়াপদা বাধেঁ এনে কোনরকমে মাথা গোঁজার ঠাই করেছে।
কালুরপাড়া স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদ্রাসার প্রধান মাসুদ মন্ডল জানান, বুধবার দিবাগত রাত অানুমানিক ২টায় কালুরপাড়া থেকে খবর আসে কিছুক্ষন আগ থেকে পানি স্রোত ও নদীভাঙ্গন বৃদ্ধি পেয়েছে। খবর পেয়ে ওই রাতেই নৌকা যোগে আমি সেখানে পৌছাইয়ে দেখী মাদ্রাসার ঘরের টিনের বেড়া ও চেয়ার টেবিল পানির তোড়ে ভেসে গেছে। আর ঘরগুলি পানির সাথে হেলে পড়েছে। এলাকার লোকজন মিলে দুটি ঘরের একটি কোনমতে উদ্ধার করতে পারলেও অন্যটির ভেসে নিয়ে গেছে। তিনি বলেন ওই চরের একমাত্র ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীদের জন্য পাঠদানের ব্যবস্থা কিভাবে করবো তা ভেবে কুল পাচ্ছিনা। সরকারের তরফ থেকে সাহায্যে না করলে শিশুদের পাঠদানের ব্যবস্থা করা হবে অনেক কষ্টের।

অপরদিকে গত কয়েক বছরে হলদিয়ার নদী ভাঙ্গনের শিকার শতাধিক পরিবার ঘুড়িদহের চিনির পটল গ্রামে আশ্রয় নেয়। চলতি বন্যায় হঠাৎ পানির তোড়ে চিনিরপটল গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা ও আশ্রিত শতাধিক পরিবারের বসতবাড়ি লন্ডভন্ড করে রেখে গেছে। ঘরহারা মানুষের আহাজারিতে আকাশ বাতাস ভারি হয়ে উঠেছে। গরু ছাগল ও পরিবার পরিজন নিয়ে কোনমতে বেচে গেলেও তাদের মাথা গোঁজার ঠাই হারিয়ে বিভিন্ন স্থানে মানবেতর জীবন করছে। এখন পর্যন্ত পানির স্রোতের বেগ কমেনি। আগামী দুএকদিনে আরো শতাধিক পরিবার তাদের বাড়িঘর হারাবে বলে অনেকেই জানান। কোনভাবেই তাদের পাশে দাড়ানোর চেষ্টা করে লাভ হচ্ছেনা। কারন পানির তোড়ে নৌকা দাড়িয়ে রাখা সম্ভব হচ্ছেনা। বানভাসি ও পানির স্রোতে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের পাশে সরকারি বা বেসরকারিভাবে কেহই সাহায্যের হাত বাড়ায়নি বলে তারা আক্ষেপ করেন।সিভিল সার্জন ডা. এবিএম আবু হানিফ বলেন, বন্যা উপদ্রুত এলাকায় ৬১টি মেডিকেল টিম সার্বক্ষণিক কাজ করছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, এখন ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বিপদসীমার ৯৪ সেন্টিমিটার, ঘাঘট নদীর পানি ৬৮ সেন্টিমিটার এবং করতোয়া নদীর পানি ১২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
গাইবান্ধা জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা সুত্রে জানা গেছে, জেলার সদর, সুন্দরগঞ্জ, সাঘাটা ও ফুলছড়ি উপজেলার ২৬টি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলের ১ লাখ ৩১ হাজার ৩২০ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য দ্বিতীয় দফায় এ পর্যন্ত ২১০ মেট্রিক টন চাল ও নগদ ১৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা, শিশুখাদ্য চার লাখ টাকার, গোখাদ্য দুই লাখ টাকার ও ৩ হাজার ৬০০ প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে এগুলো বিভিন্ন ইউনিয়নে বিতরণ কার্যক্রম চলছে




