Uncategorized

কুড়িগ্রামের ২ উপজেলা এখন পানির নিচে

কুড়িগ্রামে গত মঙ্গলবার ডুবেছে জেলার চর রাজীবপুর উপজেলা। বুধবার রাতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের সেচ বাঁধ ভেঙ্গে, সোনাভরি নদী ও ব্রহ্মপুত্র নদের পানি, এক যোগে রৌমারী শহরে প্রবেশ করেছে। একাত্তরের মুক্তঞ্চল খ্যাত রৌমারী এখন পানিতে টইটুম্বুর। মানুষজন আশ্রয়ের খোঁজে ছুটছেন নিরাপদ স্থানে।
রৌমারীর ভারপ্রাপ্ত উপজেলা প্রকৌশলী মেজবা উল আলম জানান, সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টার দিকে বাঁধটির ২৫ মিটার অংশ পানির চাপে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এটি কোনো শহর রক্ষা বাঁধ নয়। মূলত রৌমারীতে কোনো শহর রক্ষা বাঁধ নেই। সোনাভরি নদীর পানি উপচে যাতে ফসলের ক্ষতি করতে না পারে, সেজন্য এটি তৈরি করা হয়েছিল।
রৌমারী উপজেজলা নির্বাহী অফিসার জানান, বৃহষ্পতিবার ভোর থেকে রৌমারীতে পানি ঢুকতে শুরু করেছে। তার এলাকায় প্রায় দেড় লক্ষাধিক মানুষ পানি বন্দি। ডুবে গেছে উপজেলা পরিষদ চত্বর, বাজারের বেশিভাগ অংশ ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। তার বিভিন্ উঁচু সড়ক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নিয়েছেন। আশ্রিত মানুষদের তাকে বলেছেন , তাদের খাদ্যের চেয়ে জরুরি দরকার পানীয় জল আর ল্যাট্রিন। তিনি দূর্গতের জন্য ইতিমধ্যে ৫০ টি নলকুপ ও ৫০টি অস্থায়ী ল্যাট্রিনের ব্যবস্থা করেছেন। ৫ টন চিড়া ও ৪০০ কেজি চিড়া বিতরণ শুরু করেছেন।
রাজীবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার নবীরুল ইসলাম জানান, তার উপজেলার ৫৬ হাজার জনসংখ্যার মধ্যে ৩০ হাজার মানুষই পানিবন্দি।
এদিকে জেলার আড়াই লাখ পানিবন্দি ও বিভিন্ন রাস্তায় মানুষ আশ্রয় নেওয়া মানুষের মাঝে পানিয় জল ও খাদ্য সংকট তীব্র হয়ে উঠেছে। জেলা প্রশাসন থেকে ত্রাণ বিতরণ শুরু হলেও তা মানুষের সংখ্যা অনুপাতে একেবারেই নগন্য। বেসরকারি কোনো সংস্থা বা ব্যক্তি উদ্যোগেও এবার বন্যাকবলিত এলাকায় ত্রাণ বিতরণের খবর পাওয়া যাচ্ছে না।
বুধবার জেলার উলিপুরের বন্যাকবলিত এলাকা থেকে শুরু করে চিলমারী উপজেলার কাঁচকোল স্লুইসগেট পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার রাস্তায় আশ্রয় নেয়া বন্যা কবলিত মানুষজনের সাথে কথা হয়। দুই দফা বণ্যায় তারা প্রায় ২২ দিন ধরে রাস্তায় আশ্রয় নিয়ে আছেন। কিন্তু কোনো জনপ্রনিধি একদিনের জন্য তাদের খোঁজ নিতে আসেন নাই। একটি দানাওি ত্রাণ তাদের ভাগ্যে জোটেনি বলে তারা অভিযোগ করেন।
এদিকে ধরলার পানি কমতে থাকায়, ওইনদী এলাকায় কোনো এলাকা থেকে পানি নামতে শুরু করেছে। কুড়িগ্রাম ভূরুঙ্গামারী সড়কে ওঠা পানি নেমে গেছে। তবে এখনো বিপদসীমার ৭১ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে ধরলা নদীর পানি হচ্ছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড কুড়িগ্রামের বন্যা নিয়ন্ত্রণ কক্ষ জানায়, তিস্তার পানি বিপদ সীমার অনেক নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে তিস্তা অববাহিকায় বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। তবে ব্রহ্মপুত্রে গত ২৪ ঘন্টায় ৫ সেন্টিমিটার পানি কমলেও এখনো বিপদসীমার ৯৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তীত আছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৯ উপজেলার জন্য ২ হাজার প্যাকেট শুকনা খাবার ও ৫ উপজেলার জন্য ৫ লাখ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে জানিয়েছেন, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা দীলিপ কুমার সাহা। এতে প্রতি উপজেলার পেয়েছে ২২২টি করে প্যাকেট। তবে সেগুলো এখনো বিতরণ শুরু করা হয়নি বলে জানা গেছে।
সুত্র : দেশ রূপান্তর।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button