রংপুরের কৃষি নির্ভর মিঠুর হাজার কোটি টাকার সম্পদ

নওশীনকে লালমনিরহাটে বদলি
রাহুল সরকার : রংপুরের স্বাস্থ্যখাতে আলোচিত ঠিকাদার মোতাজ্জেরুল ইসলাম মিঠুর পরিবার কৃষি নির্ভরশীল হলেও এখন তিনি হাজার কোটি টাকার সম্পদের মালিক। বর্তমানে রংপুর নগরীতে তার রয়েছে শত শত বিঘা জমি, ভবন ও হাসপাতালসহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। এর বাইরে বদরগঞ্জ উপজেলায় রয়েছে একটি সিরামিক কারখানা ও একটি এগ্রোবেইজড খামার। এর পাশাপাশি আরো একটি সিরামিক কারাখানার জন্য কেনা হয়েছে বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি। মিঠুর আদি নিবাস গঙ্গাচড়া উপজেলার মহিপুর এলাকায় হওয়ায় স্থানীয়ভাবে তিনি মহি মিঠু নামেও পরিচিত। সাধারণ পরিবারের এই মহি মিঠু ১৯৯১ সালে স্বাস্থ্যখাতে ঠিকাদারীতে যুক্ত হন। এরপর যেন আলাদীনের চেরাগ তার হাতে ধরা দেয়। শুধুমাত্র স্বাস্থ্য খাতে ঠিকাদারী করে তিনি অবৈধভাবে বিপুল সম্পদের মালিক হলেও বরাবরই থেকেছেন ধরা ছোঁয়ার বাইরে। তাকে সহযোগিতা করার অভিযোগে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কর্মরত অফিস সহকারী ও মিঠুর ভাতিজি উম্মে সুলতানা নওশীনকে লালমনিরহাট একশ’ শয্যার হাসপাতালে বদলি করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। তাকে চার কার্য দিবসের মধ্যে সেখানে যোগদান করতে বলা হয়েছে।
সরেজমিন ঘুরে জানা গেছে-রংপুর নগরীর মেডিকেল পূর্বগেটে রয়েছে তার অত্যাধুনিক বাসভবন। সেটির চার দিকে লাগানো রয়েছে সিসি ক্যামেরা। বাসায় কেউ প্রবেশ করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বেজে ওঠে অ্যালার্ম। এছাড়া ভবনটি এমনভাবে নির্মাণ করা হয়েছে যার ছাদে হেলিকপ্টার পর্যন্ত ল্যাণ্ড করতে পারে। তবে বাবা কছিরউদ্দীনের নামে মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার জন্য ব্যাপক তৎপরতা চালিয়েও তিনি সফল হতে পারেননি। কিন্তু নগরীর চব্বিশহাজারি, মহিপুর ও দর্শনায় শত শত বিঘা জমি, নানা অবকাঠামো, ছাত্রাবাসসহ বিপুল সম্পদই তাকে ভিআইপি করেছে। যার প্রমাণ দর্শনা এলাকায় একটি সড়কের নামকরণ হয়েছে ভিআইপি মিঠু সড়ক। অথচ গঙ্গাচড়ার বাড়িটি মিঠু হাজির বাড়ি নামে পরিচিত। আর রংপুরের মানুষ তো তাকে মহি মিঠু বলতেই অভ্যস্ত। জনশ্রুতি রয়েছে-তিনি বাংলাদেশ প্রিমিয়ার ক্রিকেট লীগে (বিপিএল) রংপুর রাইডার্সের মালিক হওয়ার জন্য জোর প্রচেষ্টা চালিয়েছিলেন। কিন্তু বিসিবির কয়েকজন কর্মকর্তার বিরোধীতার কারণে তিনি সফল হতে পারেননি। বাংলাদেশ জন স্বাস্থ্য অধিকার আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক বেলাল হোসেন বলেন, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মিঠু যে সকল মেডিকেল যন্ত্রপাতি সরবরাহ করেছে সেগুলো বর্তমানে কোন কাজে আসছে না। সবগুলো যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে গেছে।
ভুক্তভোগিদের দাবী- স্বাস্থ্যখাতের আলোচিত ঠিকাদার মোতাজ্জেরুল ইসলাম মিঠুর অবর্তমানে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নিয়ন্ত্রন করছেন তারই ভাতিজি যিনি অফিস সহকারী পদে কর্মরত রয়েছেন। তার নাম উম্মে সুলতানা নওশীন। তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, অর্থ-কেলেঙ্কারি, বিশৃক্সখলা সৃষ্টিসহ নানা অভিযোগ এনে ও তার বদলি চেয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে চিঠি দিয়েছেন রংপুর মেডিকেলের পরিচালক ডা. ফরিদুল ইসলাম।
রংপুর মেডিকেলের পরিচালক ডা. ফরিদুল ইসলাম জানান- মিঠুর প্রভাব খাটিয়ে নওশীন সব সময় কাজ করে থাকে। কেউ তার বিরোধীতা করলেই তাকে বদলী হতে হয়।
হাসপাতালের স্বাস্থ্য কমিটির সভাপতি ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মসিউর রহমান রাঙ্গা বলেছেন, কেউ বাহাদুরি করে পার পাবে না। দুদক থেকে অলরেডি তার হিসাব চাওয়া হয়েছে। অন্যায় করে খুব বেশিদিন টিকে থাকা যায়না।
এদিকে এ রিপোর্ট লেখার সময় দুপুর ২টায় জানা গেছে নওশীনকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে লালমনিরহাট একশ’ শয্যা হাসপাতালে বদলি করা হয়েছে এবং চার কার্য দিবসের মধ্যে তাকে সেখানে যোগদান করতে বলা হয়েছে।



