বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিশিরোনাম

পৃথিবীর সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন আকাশের খোঁজ

বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, তারা পৃথিবীর সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন আকাশের সন্ধান পেয়েছেন। যার বায়ুমণ্ডল মানুষের কর্মকাণ্ড দ্বারা তৈরি ক্ষতিকর কণা থেকে মুক্ত। অ্যান্টার্কটিকা ঘিরে থাকা দক্ষিণ মহাসাগরে পাওয়া গেল সেই স্থান।
সিএনএন এক প্রতিবেদনে জানায়, কলোরোডা স্টেট ইউনিভার্সিটির একদল গবেষক দক্ষিণ সাগরে বায়োঅ্যারোসল কম্পজিশনের ওপর গবেষণা করে বিরল এ বায়ুমণ্ডলের দেখা যান। এ ধরনের গবেষণা এবারই প্রথম।
আবহাওয়া ও জলবায়ু ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। যা আবার বিশ্বের এক প্রান্তের সঙ্গে অন্য প্রান্তকে সংযুক্তও করে। এ কারণ এক অঞ্চলের পরিবর্তন অন্য অঞ্চলেও প্রভাব ফেলে। এরই মাঝে বিজ্ঞানী ও গবেষকরা মানুষের কর্মকাণ্ড দ্বারা প্রভাবিত হয়নি এমন অঞ্চল খুঁজে চলছিলেন।
অধ্যাপক সনিয়া ক্রেইডেনউইজ ও তার দল আগেই সন্দেহ করেছিলেন পৃথিবীর অন্যান্য অঞ্চলের চেয়ে দক্ষিণ মহাসাগরের বায়ুমণ্ডল মানুষ ও ধূলিকণা দ্বারা কম ক্ষতিগ্রস্ত। তারা দেখেন বায়ু মণ্ডলের একদম নিচের স্তর জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার, নির্দিষ্ট ফসল বপন, সার উৎপাদন বা বর্জ্য পানি নিষ্কাশন বা এ ধরনের দূষণ দ্বারা প্রভাবিত নয়।
কঠিন ও তরল কণা দ্বারা গঠিত অ্যারোসল বায়ুমণ্ডলকে দূষিত করে। এ গবেষণায় দক্ষিণ মহাসাগরের আকাশে এক ধরনের ব্যাকটিরিয়া ব্যবহার করে বায়ুর পরিচ্ছন্নতা পরিমাপ করা হয়। গবেষকরা বলছেন, ওই এলাকার মেঘে থাকা অ্যারোসল সরাসরি সাগরের জৈবিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত। যার সঙ্গে অনুজীব ও পুষ্টির সম্পর্ক আছে। সেখানে দেখা যায়, দক্ষিণ মহাসাগরের এই এলাকা মানবসৃষ্ট জঞ্জাল থেকে মুক্ত। বিস্তৃত অঞ্চলে ছড়িয়ে থাকা মাইক্রোব এর সাক্ষি।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই ফলাফল উত্তর গোলার্ধের চেয়ে একদম ভিন্ন।
ন্যাশনাল একাডেমি অব সায়েন্সেস জার্নালে সোমবার এই গবেষণা ফলাফল প্রকাশ হয়। সেখানে অ্যান্টার্কটিকার ওই অঞ্চলকে ‘সত্যিই আদিম’ বলে উল্লেখ করা হয়।
বায়ু দূষণ ইতিমধ্যেই বৈশ্বিক স্বাস্থ্য সংকট হিসেবে বিবেচিত। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মতে, বছরে এ কারণে ৭০ লাখ মানুষ মারা যায়। একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, বায়ু দূষণ ভৌগলিক সীমানা পার হতে পারে সহজে। দূষণের উৎসের শত শত মাইল দূরের মানুষকেও আক্রান্ত করে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button