জাতীয়শিরোনাম

কারা ভিআইপি, কেন তাদের জন্য আলাদা চিকিৎসা: ব্যাখ্যা দিল কর্তৃপক্ষ

করোনাভাইরাস চিকিৎসায় দেশে ভিআইপিদের আলাদা হাসপাতাল প্রস্তুত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এ জন্য ঢাকার একটি হাসপাতাল নির্দিষ্ট করা হয়েছে এবং বেসরকারি কয়েকটি বড় হাসপাতালের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এ নিয়ে কথাবার্তা চলছে বলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে।
করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ‘ভিআইপি’দের আলাদা হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা দেওয়ার ব্যাপারে নিজেদের সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি দিয়েছেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হাবিবুর রহমান।
তিনি বিবিসি বাংলাকে বলেন, ‘ভালো স্বচ্ছল পেশেন্ট আছে না? কথা উঠেছিল তারা কোথায় ভর্তি হতে পারে? সরকারিভাবে আমরা যা করছি, সেগুলো তো আপামর জনগণের জন্য। যে শত শত মানুষ অসুস্থ হচ্ছে, তাদের জন্যে তো একটা ব্যবস্থা আছেই। ধরুন একজন প্রখ্যাত শিল্পপতি, উনি হয়ত করোনার চিকিৎসায় সরকারি যে ব্যবস্থাপনাগুলো আছে, এগুলো তো সাধারণ মানের, সেখানে যেতে উনি ইতস্তত করলেন। তো উনি অ্যাপোলো (বর্তমানে এভারকেয়ার হাসপাতাল), ইউনাইটেড বা স্কয়ারে গেলে যেন চিকিৎসা পায়। তারা টাকা দিয়েই চিকিৎসা করাবেন’।
তিনি বলেন, এসব হাসপাতালের কর্তৃপক্ষকে আগে রাজি হতে হবে।
তিনি জানান, ‘এখন এভারকেয়ার (সাবেক অ্যাপোলো হাসপাতাল), ইউনাইটেড বা স্কয়ারের সঙ্গে যাতে একটা বোঝাপড়ায় আসা যায়, তা নিয়ে সরকারের কথাবার্তা চলছে। সরকার আলাপ করছে যাতে পুরো হাসপাতাল অথবা হাসপাতালের একটা ইউনিট করোনাভাইরাস চিকিৎসায় ভিআইপিদের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়’।
ভিআইপি কারা এ প্রশ্নের জবাবে হাবিবুর রহমান বলেন, প্রথমে শুধু বিদেশি কূটনীতিকদের জন্য এ ধরণের একটি ব্যবস্থার কথা ভাবা হয়েছিল। আমাদের কাছে বারবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে অনুরোধ এসেছিল যদি কোনো কূটনীতিক বাংলাদেশে অবস্থানরত অবস্থায় অসুস্থ হয়ে পড়েন, তাদের কোথায় নেয়া যায়? এ জন্য গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতালটা (শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার ইন্সটিটিউট ও হাসপাতাল) নির্ধারণ করা আছে। পরে আমরা চিন্তা করেছি এটাও হতে পারে যে সরকারি কর্মকর্তা, চিকিৎসক আক্রান্ত হল, তাদেরও ওখানে নেয়া যেতে পারে।
সরকারের মন্ত্রী বা রাজনীতিবিদরাও এখানে যাবেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি কিছু বলেননি।
বিবিসি বাংলা জানায়, জানা গেছে কিছু হাসপাতালে প্রভাবশালীদের ইতিমধ্যেই বিশেষ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে, যার মধ্যে সাংবাদিকরাও রয়েছেন।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলছেন, ‘এটা ভিআইপি নামটাকে অপব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের সুযোগ সুবিধা নেয়ার সংস্কৃতি। এটা মোটামুটি প্রতিষ্ঠিত। যা নিয়ে মানুষের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ রয়েছে’।
গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা জাফরুল্লাহ চৌধুরী একে ‘সাধারণ মানুষের সঙ্গে বৈষম্য’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
তিনি বলেন, করোনা প্রতিহত করার একটা পদ্ধতি হলো সামাজিক দূরত্ব। কিন্তু করোনা সামাজিক বৈষম্যও বাড়াচ্ছে। তাদের জন্য তো প্রাইভেট হাসপাতালগুলো এমনিতেই আছে। আবার তাদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থার মানেটা কি? স্বাস্থ্যসেবায় সবার জন্য সমান সুযোগ থাকবে। যারা অবস্থাপন্ন, যারা বাইরে চিকিৎসায় যায়, তারা তো বাইরে যেতেই পারে। তারা প্লেন ভাড়া করতে পারে, সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা করাতে পারে। তাদের জন্য আলাদা কিছু করার প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি না। এতে লোকের বিদ্বেষ বেড়ে যাবে।
তিনি বলেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা উদাহরণ তৈরি করবেন। অথচ তারাই সর্দি-কাশি হলে বাইরে চিকিৎসা করেন। সেজন্য সাধারণ মানুষও বিলাতে যেতে না পারলেও তখন তার স্বপ্ন হয় কোলকাতা গিয়ে চিকিৎসা করাই’।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button