শিরোনামশীর্ষ সংবাদ

করোনা : চীন-স্পেনের চেয়েও মৃত্যুহার বেশি বাংলাদেশে!

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছে প্রায় ১২ লাখ ২ হাজার মানুষ। মৃত্যু হয়েছে সাড়ে ৬৪ হাজার মানুষ। চীনের উহান থেকে উৎপত্তি করোনাভাইরাস ইতোমধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বের ২০৫টি দেশ ও অঞ্চলে।
করোনার বিষাক্ত ছোবল বসিয়েছে বাংলাদেশেও। এখন পর্যন্ত ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। সংখ্যায় কম হলেও আশঙ্কার কথা হচ্ছে মৃত্যুর হারে ইতালির পরেই বাংলাদেশের অবস্থান।
বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাসের খুটিনাটি নিয়ে নিয়মিত হালনাগাদ করে যাচ্ছে ‘ওয়ার্ল্ড ওর্মিটার’ নামের একটি ওয়েবসাইট। এটি সর্বশেষ যে পরিসংখ্যান দিয়েছে তাতে অন্যান্য অনেক দেশের তুলনায় বাংলাদেশে করোনায় আক্রান্তের স্বল্প সংখ্যা নিয়ে এখনও অনেক দায়িত্বশীল লোক (৭০ জন) স্বস্তি প্রকাশ করলেও মৃত্যুর হার কিন্তু অনেক দেশের চেয়ে বেশি (১১.৪৩%)।
হিসাব করলে দেখা যায় বাংলাদেশে করোনায় মৃত্যুর হার এখনও বিশ্বের মধ্যে একেবারে প্রথম সারিতে! মাঝখানে খানিক বিরতি দিয়ে বাংলাদেশ এবার দ্বিতীয় স্থান লাভ করেছে, সেই সাথে মৃত্যুর শতকরা হার আরও বেড়েছে!
শনিবার করোনাভাইরাস নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের নিয়মিত অনলাইন প্রেস ব্রিফিংয় থেকে জানা গেছে, বাংলাদেশে করোনায় এ পর্যন্ত মৃত্যুবরণ করেছেন ৮ জন। আক্রান্ত হয়েছেন ৭০ জন। অর্থাৎ দেশে প্রতি ১০০ জন করোনা আক্রান্ত রোগীর মধ্যে প্রায় সাড়ে ১১ জন মারা যাচ্ছে বাংলাদেশে! যা ভাইরাসটির উৎপত্তি স্থল চীনের চেয়েও অনেক বেশি।
ওয়ার্ল্ড ওমিটার বলছে, চীনে করোনায় মৃত্যুর হার ৪.০৪%। বাংলাদেশের সামনে আছে কেবল মৃত্যুপুরী বনে যাওয়া ইতালি (১২.২৫%), যদিও পার্থক্য খুবই সামান্য। আরেক মৃত্যুপুরী স্পেনের হারও বাংলাদেশের চেয়ে কম (৯.৩৯%)। করোনার নতুন আবাস আমেরিকায় অনেকে আক্রান্ত হলেও মৃত্যুহার খুবই কম (২.৬৭%)।
এশিয়ার দুই দেশ দক্ষিণ কোরিয়া এবং মালয়েশিয়াতেও মৃত্যুহার যৎসামান্য, যথাক্রমে ১.৭৪ % ও ১.৫৯%। প্রতিবেশী ভারতে (২.৭৯%) তাদের থেকে পাকিস্তানে (১.৪৮%) তুলনামূলকভাবে মৃত্যুহার অনেক কম। অন্যদিকে দক্ষিণ এশিয়ার আরেক দেশ শ্রীলঙ্কায় মৃত্যুহার ৩.১৪%।
সুতরাং বলা যায় বাংলাদেশে করোনায় আক্রান্তদের মিছিল দিন দিন যেমন বাড়ছে, তেমনি মৃত্যুহারও পাল্লা দিয়ে বেড়ে চলেছে।
নিজের এবং নিজ পরিবারের কথা চিন্তা করে সবাইকে সচেতন হতে হবে। জনসমাগম এবং শারীরিক দূরত্ব যথাসম্ভব বজায় রাখতে হবে, সবসময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন এবং জীবাণুমুক্ত থাকার চেষ্টা করতে হবে।
সুত্র : পূর্বপশ্চিম

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button