
সন্তান স্কুলে না গেলে তার সাজা ভোগ করতে হবে মা-বাবাকে। আর এই সাজা হতে পারে দুই বছর পর্যন্ত কারাবাস। আফ্রিকার দেশ জিম্বাবুয়ে স্কুলে ঝরে পড়া ঠেকাতে অভিনব শাস্তির বিধান করেছে। দুর্বল অর্থনৈতিক ব্যবস্থার কারণে স্কুল থেকে শিশুদের ঝরে পড়া বাড়তে থাকায় দেশটির সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাশাপাশি ১৬ বছর বয়স পর্যন্ত শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
বিবিসি অনলাইনের খবরে বলা হয়েছে, নতুন আইনে সন্তান স্কুলে না গেলে মা-বাবার দুই বছর পর্যন্ত কারা ভোগ অথবা ২৬০ ডলার (২২ হাজার টাকার বেশি) জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। পাশাপাশি স্কুলের বেতন দিতে না পারলে অথবা অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে স্কুল থেকে বহিষ্কার করাকেও অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে আইনটিতে।
সংশোধিত নতুন আইনে ১২ বছর স্কুলে পড়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। আগের প্রস্তাবের চেয়ে পাঁচ বছর বেশি সময় যুক্ত করা হয়েছে এতে।
বিবিসি বলছে, অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে মা-বাবাকে বাধ্য করার এই প্রচেষ্টাকে বেশ সাহসী পদক্ষেপ বলে মনে হচ্ছে। তবে কারও কারও মতে, স্কুলের তীব্র সংকটের মধ্যে বিনামূল্যে শিক্ষাব্যবস্থার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে সরকার নতুন আইনের মাধ্যমে দায়িত্ব এড়িয়ে যাচ্ছে। স্কুল থেকে বিপুলসংখ্যক শিশুর ঝরে পড়ার কারণের মধ্যে গর্ভধারণ করা, বাল্যবিবাহ, বাড়ি থেকে স্কুলের দীর্ঘ দূরত্ব এবং আগ্রহের অভাবও রয়েছে। মা-বাবাকে খাবার কিনতে সংগ্রাম করতে হয় বলে তারা শিক্ষায় কম খরচ করেন।
জিম্বাবুয়ে দুর্বলতা মূল্যায়ন কমিটির (জিমভ্যাক) তথ্য অনুসারে গত বছর দেশটিতে বেতন দিতে না পারায় ৬০ শতাংশ শিশুকে স্কুল থেকে বের করে দেওয়া হয়। এ ছাড়া দেশটির কোনো কোনো স্থানে ২০ শতাংশ শিশু স্কুলে যায় না।
জিম্বাবুয়ের প্রয়াত প্রেসিডেন্ট স্বাধীনতাকামী নেতা রবার্ট মুগাবের ১৯৮০ সালে ক্ষমতা গ্রহণের পর নেওয়া শিক্ষানীতি প্রশংসা কুড়িয়েছিল। মুগাবে নিজেও শিক্ষক ছিলেন। তিনি যে নীতি গ্রহণ করেন, এতে জিম্বাবুয়ের কৃষ্ণাঙ্গ অধিবাসীদের জন্য স্কুলে যাওয়ার বড় সুযোগ সৃষ্টি হয়েছিল, শত শত স্কুল নির্মাণ হয়েছিল। আর এই উদ্যোগের ফলে শিক্ষার হারে জিম্বাবুয়ে হয়ে ওঠে আফ্রিকার শীর্ষ দেশ। নব্বই দশকে বিনামূল্যে শিক্ষাব্যবস্থার সমাপ্তি টানা হয় এবং এর পর থেকে দেশটিতে শিক্ষাব্যবস্থা ভেঙে পড়ে।
গত বছর রবার্ট মুগাবে মারা যান। এর আগে ২০১৮ সালে তিনি ক্ষমতাচ্যুত হন। আশা করা হয়েছিল, সেনাসমর্থিত উত্তরসূরি ইমারসন নানগাগোয়া দেশটির অর্থনীতি পুনরুদ্ধার করবেন। তবে পরিস্থিতি খারাপ থেকে আরও খারাপ হয়েছে। বিদেশি মুদ্রা, খাদ্য, জ্বালানি, বিদ্যুৎ এবং ওষুধের তীব্র সংকটে রয়েছে জিম্বাবুয়ে। একসময়ের প্রধান খাদ্য উৎপাদনকারী দেশটি এখন খরার কবলে।



