
বিগ ব্যাং বা মহাবিস্ফোরণ। ১৪০০ কোটি বছর আগের সেই বিস্ফোরণেই বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডের সৃষ্টি। ওই বিস্ফোরণের পর বিশাল এক মহাবিস্ফোরণ শনাক্ত করেছেন বিজ্ঞানীরা। তারা বলছেন, এখন পর্যন্ত মহাবিশ্বে ঘটা যেকোনো বিস্ফোরণের চেয়ে এটি ৫ গুণ বড়।
পৃথিবী থেকে ৩৯০ মিলিয়ন আলোকবর্ষ দূরে থাকা বিশাল এক ‘ব্ল্যাক হোল’ থেকে অনবরত বের হতে থাকা শক্তির ‘উদগিরণ’ থেকে বিষয়টি শনাক্ত করা হয়। এই বিস্ফোরণ ‘অফিচুয়াস ছায়াপথে’র ‘ক্লেস্টার’-এ বিশাল গর্ত তৈরি করেছে। গবেষকরা ‘দ্য অ্যাস্টোফিজিক্যাল জার্নালে’ এ বিষয়ে তাদের বিস্তারিত গবেষণা তুলে ধরেছেন।
তবে বিজ্ঞানীরা প্রথমে এই বিস্ফোরণ বিষয়ে সন্দিহান হয়ে পড়েছিলেন। কারণ এর ফলে সৃষ্ট ‘গর্ত’ এতই বড় যে এর একটি সারিতেই আমাদের মিল্কিওয়ের মতো ১৫টি ছায়াপথে রাখা সম্ভব। এ ছাড়া এ রকম কোনো বিস্ফোরণ হওয়া যে সম্ভব তা কারও কল্পনায়ও ছিল না।
কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার মার্সিয়ন ওয়েডফিল্ড অ্যারি (এমডব্লিউএ) টেলিস্কোপ ও ভারতের জিএমআরটির বিশাল রেডিও টেলিস্কোপও বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সেই ভয়াবহ বিস্ফোরণ ধরা পড়েছে নাসার ‘চন্দ্র এক্স-রে অবজারভেটরি ও ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সির ‘এক্সএমএম-নিউটন’ টেলিস্কোপেও।
গবেষণা দলের প্রধান ওয়াশিংটনের নেভাল রিসার্চ ল্যাবরেটরি গবেষক সিমোনা গিয়ানিকতুচি বলেন, ‘ঠিক একইরকমভাবে না হলেও এই বিস্ফোরণের সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারে ১৯৮০ সালের ভলকানোর উদগিরণকে। কলকাতার ‘ইন্ডিয়ান সেন্টার ফর স্পেস ফিজিকসের (আইসিএসপি)’ অধিকর্তা ও ব্ল্যাক হোল বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক সন্দীপ চক্রবর্তী বলছেন, ‘এমন প্রকাণ্ড বিস্ফোরণ আমাদের গ্যালাক্সির কাছে-পিঠে হলে শুধু আমাদের মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সিই নয়, কর্পূরের মতো উবে যেত অ্যান্ড্রোমিডাসহ আশপাশে থাকা আরও ৫-৬টি গ্যালাক্সি।’
সন্দীপ চক্রবর্তী জানান, ১৪০০ কোটি বছর আগে বিগ ব্যাং বা মহাবিস্ফোরণের পর মোট যে পরিমাণ পদার্থের সৃষ্টি হয়েছিল, তার পরিমাণ ১-এর পেছনে ৬০টি শূন্য বসালে যে সংখ্যাটা (১০৬০) হয়, তত গ্রাম। যে শক্তির জন্ম হয়েছিল, তার পরিমাণ, ১-এর পেছনে ৮১টি শূন্য বসালে যে সংখ্যাটা (১০৮১) হয়, তত আর্গ (শক্তির একক)।
আর অফিচুয়াস গ্যালাক্সির ঝাঁকে যে ভয়ংকর বিস্ফোরণটা ঘটতে দেখা গেছে, তার ফলে তৈরি হয়েছে ১০৬২ আর্গ শক্তি। অর্থাৎ, ১০ কোটি সূর্যকে একেবারে ধ্বংস করে দিলে যে পরিমাণে শক্তির উদ্ভব হবে, ততটা শক্তি। কয়েক শ কোটি বছর আগে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছিল আমাদের মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সিতেও। কিন্তু তার চেয়ে ১০ লাখ গুণ বেশি শক্তি বেরিয়ে এসেছে এই বিস্ফোরণ থেকে।




