আন্তর্জাতিক সংবাদশিরোনাম

যেভাবে ভয়াবহ দাবানল মোকাবিলা করল অস্ট্রেলিয়া

গত বছর থেকে টানা দাবানলে বিপর্যস্ত অস্ট্রেলিয়া। কয়েক দশকের সবচেয়ে ভয়াবহ দাবানলের শিকার দেশটি। পুড়ে গেছে হেক্টরের পর হেক্টর বনাঞ্চল, মারা গেছে কোটি কোটি বন্যপ্রাণী।
বিবিসি জানায়, দাবানল রুখতে জরুরি অবস্থা জারি করে দুর্যোগ মোকাবিলা করে অস্ট্রেলিয়া। গত বছরের জুলাই থেকে এই দাবানল সৃষ্টি হয়।
ইতিমধ্যে এক কোটি হেক্টর ভূমি দাবানলের আগুনে আক্রান্ত হয়েছে। আগুন থেকে বাঁচতে মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যায়। মারা গেছে ২৮ জন মানুষ। যাদের মধ্যে অধিকাংশই অগ্নিনির্বাপক কর্মী।
কীভাবে এত ভয়াবহ দুর্যোগ সামাল দিতে সক্ষম হলো অস্ট্রেলিয়া। শুষ্ক আবহাওয়ায় সৃষ্ট দাবানল রুখতে বড় উপায় ছিল বৃষ্টি। কিন্তু গত কয়েক মাস ধরে বৃষ্টিরও কোনো দেখা নাই। সামান্য বৃষ্টির দেখা পেলেও এতে তেমন প্রভাব ফেলতে পারেনি।
প্রবল বাতাসে আগুনের মাত্রা ছাড়িয়েছে একের পর এক অঞ্চল। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নিউ সাউথ ওয়েলস অঙ্গরাজ্য। কিন্তু এরপরেও আগুন নিয়ন্ত্রণে সর্বশক্তি প্রয়োগ করে দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ।
আকাশ ও স্থলপথে আগুন নেভানোর জন্য জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করে গেছেন অগ্নিনির্বাপক কর্মীরা। ভূমিতে একসঙ্গে কাজ করেছেন ৩৭০০ জন অগ্নিনির্বাপক কর্মী। জরুরিভিত্তিতে কাজ করেন আরও ৪৪০ জন। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও নিউজিল্যান্ড থেকে যোগ দেয় আরও ২৪০ জন অগ্নিনির্বাপক কর্মী।
এ ছাড়া এগিয়ে আসে সামরিক বাহিনীও। সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর অন্তত ৩ হাজার রিজার্ভ সেনা দাবানল নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। সামরিক বাহিনী ওপর থেকে পানি ছিটানোর জন্য ব্যবহার করে পানির বড় ট্যাংকার বিশিষ্ট ডিসি-১০ বিমান। যেটির পানি ধারণক্ষমতা ৪৪ হাজার লিটার।
আরও ব্যবহার করা হয় কুলসন বি৭৩৭, কুলসন সি১৩০কিউ,এরিকসন এস৬৪সি, বেল২১২ বিমান। এগুলোর মাধ্যমে হাজার হাজার লিটার পানিসহ অগ্নিনিরোধক পাউডার ও রাসায়নিক দ্রব্য ফেলা হয় আকাশ থেকে।
ইতিমধ্যে অনেকাংশে দাবানল নিয়ন্ত্রণে এসেছে। পুড়ে যাওয়া বনজঙ্গলের ছাই থেকে জন্ম নিচ্ছে সবুজ ঘাস, গাছের চারা। আগুনে পুড়ে যাওয়া গাছ থেকে বের হয়ে আসছে সবুজ পাতা। ফলে নতুন করে প্রাণ সঞ্চারের দৃশ্য দেখা যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়ায়।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button