প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, রোহিঙ্গা শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্যও হুমকি। এ হুমকির গুরুত্ব অনুধাবন করে আমি বিশ্ব সম্প্রদায়কে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছি।
সোমবার (১১ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ‘ঢাকা গ্লোবাল ডায়ালগ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী পর্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কূটনীতি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়; এটা আমাদের পররাষ্ট্রনীতি। আমরা এই নীতি নিয়ে কাজ করছি। এটা বঙ্গবন্ধুর পররাষ্ট্রনীতি। মিয়ানমারের ১১ লাখ রোহিঙ্গা আমাদের এখানে আশ্রয় নিয়েছে। এটা নিয়ে আমরা তাদের সঙ্গে ঝগড়া করছি না। বরং আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আমরা মিয়ানমারকে সহযোগিতা করার চেষ্টা করে যাচ্ছি। এই সমস্যার আশুসমাধান হওয়া প্রয়োজন। এটা আমাদের দেশের জন্য হুমকিস্বরূপ। বিশ্ব সম্প্রদায়কে এই সমস্যার গুরুত্ব বুঝে ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।
আঞ্চলিক নিরাপত্তার স্বার্থে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে বিশ্ব নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, পালিয়ে আসা ১১ লাখ রোহিঙ্গা শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্যও হুমকি। এ অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে এ সমস্যার আশু সমাধান প্রয়োজন।
জলবায়ু পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশের কোনো ভূমিকা নেই। কিন্তু এর প্রভাবে আমরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। একদিন আগেই আমরা প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা করেছি। প্রাকৃতিক দুর্যোগ আসবেই এবং এটাকে মোকাবিলাও করতে হবে। আমরা সেটা করবও। দুর্যোগকালীন কী কী পদক্ষেপ নিতে হয়, তা আমরা জানি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য আমরা নিজস্ব অর্থায়নে ট্রাস্ট ফান্ড গঠন করেছি। সেই অর্থ দিয়েই দুর্যোগ মোকাবিলায় যা যা করণীয় তা করা হচ্ছে।
শেখ হাসিনা বলেন, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করছে। তেমনিভাবে ঢাকা গ্লোবাল ডায়ালগ-২০১৯ পরিবেশবান্ধব শান্তি ও সমৃদ্ধি অর্জনের পথে এই অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে একটি প্লাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে। এই ডায়ালগে যেমন সুপারিশ প্রদান করা হবে, এবং তা এই অঞ্চলের সম্পর্ক উন্নয়ন সহযোগিতা জোরদার সর্বোপরি এই অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক হবে বলে আমি বিশ্বাস করি। এতে অর্জিত সাফল্য থেকে এই অঞ্চলের দেশগুলো শিক্ষাগ্রহণ করবে এবং উপকৃত হবে। সবচেয়ে উপকৃত হবে আমাদের এই অঞ্চলের দরিদ্র মানুষগুলো।
‘প্রবৃদ্ধি, উন্নয়ন ও ইন্দো-প্যাসিফিক’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে শুরু হওয়া এ ডায়লগে বিভিন্ন দেশের ১৫০ জনেরও বেশি আলোচক অংশ নেন।
প্রথমবারের মতো তিনদিনব্যাপী এই ডায়লগের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস-বিস) ও অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশন (ওআরএফ)।




